কেউ যদি নিজ পীরের ইন্তেকালের পর ওই পীরের কোন খলীফা বা সাজ্জাদানশীন বা অন্য কোন পীরের হাতে তাজদীদ-ই বায়আত-এর নিয়তে পুনরায় বায়আত গ্রহণ করেন, তবে ওই ব্যক্তি তার প্রথম বায়আতের উপরই থাকবে

 

কেউ যদি নিজ পীরের ইন্তেকালের পর ওই পীরের কোন খলীফা বা সাজ্জাদানশীন বা অন্য কোন পীরের হাতে তাজদীদ-ই বায়আত-এর নিয়তে পুনরায় বায়আত গ্রহণ করেন, তবে ওই ব্যক্তি তার প্রথম বায়আতের উপরই থাকবে। প্রথম ব্যক্তিই তার পীর হিসেবে গণ্য হবেন। তবে বায়আতের তাজদীদের কারণে ওই ব্যক্তি ওই খলীফা বা সাজ্জাদানশীন এর মুরীদ হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ, সমস্ত কর্ম নিয়তের উপরই নির্ভরশীল। যেমন ইরশাদ হচ্ছে,


إِنَّمَا الأَعمَالُ بِالنِّیَّاتِ، وَإِنَّمَا لِکُلِّ امرِٸٍ مَا نَوَی. 


সমস্ত কর্ম নিয়তের উপরই নির্ভরশীল, প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করে তা-ই পায়।


এ প্রসঙ্গে হযরত তালহা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর কাজ (فعل) এবং হযরত আমীরুল মু'মিনীন ইমামুল আরিফীন মাওলাল মুসলিমীন আলী মুরতাদা কাররামাল্লাহু তাআলা ওয়াজহাহুল করীমের উক্তি সুস্পষ্ট দলীল। আমাদের জন্য দ্বীনের এ দু'মহান পেশওয়ার উক্তি ও কর্ম দলীলের জন্য যথেষ্ট। ঘটনাটি হচ্ছে যে, হযরত তালহা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু স্বীয় ইজতিহাদী ভুল স্বীকার করে আমীরুল মু'মিনীন হযরত আলীর হাতে যখন পুনরায় বায়আত গ্রহণ করতে চাইলেন কিন্তু জালিমের হাতে ভীষন আঘাত প্রাপ্ত হওয়ার কারণে আমীরুল মু'মিনীন পর্যন্ত গিয়ে পৌছা তাঁর পক্ষে সম্ভবপর ছিলোনা; তখন তার পাশ দিয়ে আমীরুল মু'মিনীনের একজন সেনাসদস্য অতিক্রমকালে তাকে ডেকে হযরত তালহা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু তার হাতে বায়আত তাজবীদ করলেন। এর পরক্ষণই তিনি ইন্তিকাল করলেন। হযরত আমীরুল মু'মিনীন এ ঘটনা শুনে বললেন


أَبَي اللّٰهُ أَن یَّدخُلَ طَلحَةَ الجَنَّةَ إِلاَّ وَبَیعَتِي فِي عُنُقِهِ.আল্লাহ তা'আলা তালহার জান্নাতে যাওয়া চাননি যতক্ষণ আমার বায়আত তার স্কন্ধে ছিলো না।


১. বুখারী, আস-সহীহ, অধ্যায় : 


 کَیفَ کَانَ بَدءُ الوَحيِ إِلَی رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ  ٫


১/২, হাদীস: কদীমী কুতুবখানা, করাচি।


২. হাকিম, আল-মুস্তাদরক, ذکر مناقب طلحة بن عبد اللّٰه التیمي رضي اللّٰه عنه کتاب معرفة الصحابة رضي اللّٰه عنهم , ৩/৪২১, হাদীস: ৫৬০১।


দেখুন হযরত আমীরুল মু'মিনীন ওই বায়আতকে নিজেরই বায়আত বলেছেন, সেনা সদস্যের বায়আত নয়। আর হযরত তালহা আমীরুল মুমিনীন হযরত আলীকেই আমীরুল মু'মিনীন ও বায়আতের উপযুক্ত মনে করেছেন; আল্লাহর পানাহ! সেনাসদস্যকে নয়।

উপরিউক্ত দুটি মজবুত দলীল তােমার রবের পক্ষ থেকে উৎসারিত। আমার এ অভিমত শরীয়ত ও তরীকতের মুহাক্কিক মাওলানা মুহিব্বে রসূল আবদুল কাদির কাদেরী বাদায়ূনীর কাছে পেশ করেছি, (আল্লাহ তা'আলা তাঁকে প্রত্যেক বেহায়া ও ষড়যন্ত্রকারীর অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন) তিনি উক্ত অভিমতকে সঠিক ও উত্তম বলেছেন। আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক দোষ-ক্রটি থেকে পবিত্র ও উর্ধে। তার মর্যাদা মহান। তিনি সর্বজ্ঞাতা, তাঁর জ্ঞান পরিপূর্ণ ও মজবুত।


 _____________

বায়াত ও খিলাফতের বিধান

মূল :- ইমাম আহমদ রেযা খান বেরেলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি।

অনুবাদ: মুহাম্মদ নেজাম উদ্দীন

 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]


 


Post a Comment

أحدث أقدم