কোটি কোটি হাম্বলীদের পেশওয়া পথপ্রদর্শক হযরত সায়্যিদুনা ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (رحمة الله)এর শাহযাদা হযরত সালিহ (رحمة الله)ইস্পাহানের কাজী বা বিচারক ছিলেন। একবার হযরত সায়্যিদুনা ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (رحمة الله)এর খাদিম হযরত সালিহের বাবুর্চীখানা থেকে খামির নিয়ে রুটি তৈরী করে ইমাম সাহেবের (رحمة الله)খিদমতে পেশ করল। তিনি (رحمة الله)জিজ্ঞাসা করলেন: এগুলো এত নরম কেন?” খাদিম খামির নেয়ার বর্ণনা দিল। তিনি (رحمة الله) বললেন: “আমার ছেলে যিনি ইস্পাহানের কাজী, তার ঘর থেকে কেন নিয়েছ! এ রুটি আমি খাব না, এটা কোন ফকিরকে দিয়ে দাও তবে তাকে এটা বলে দেবে যে, এ রুটিতে কাজীর খামির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।”ঘটনাক্রমে চল্লিশদিন পর্যন্ত কোন ফকির এলোনা, শেষ পর্যন্ত রুটিতে গন্ধ সৃষ্টি হল। খাদিম ঐ রুটি দজলা নদীতে ফেলে দিল। হযরত সায়্যিদুনা ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (رحمة الله)এর তাকওয়া বা খোদাভীতির প্রতি মারহাবা! তিনি ঐ দিনের পর থেকে দজলা নদীর মাছ কখনো খানননি। (তাযকরিাতুল আউলিয়া, ১৯৭ পৃষ্ঠা)আল্লাহ্ তাআলার রহমত তাঁদের উপর বর্ষিত হোক এবং তাঁদেরসদকায় আমাদের ক্ষমা হোক।
প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! শুনলেনতো! হযরত সায়্যিদুনা ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (رحمة الله) কিরূপ মুত্তাকী ও পরহেযগার ছিলেন যে, নিজের বিচারক ছেলের সম্পদ থেকেও বেঁচে থাকতেন। কাজী (অর্থাৎ-জর্জ) এর আয় যদিও বা হারাম নয় তবে পরিপূর্ণভাবে ন্যায় বিচার করা তাঁদের পক্ষে কঠিন হয়ে থাকে। যদি তাঁরা ন্যায় বিচার করেন তবুও যেহেতু তাঁরা সরকারী কর্মচারী হন ও তাঁদের বেতন-ভাতা সরকার আদায় করে আর রাষ্ট্র প্রধানরা সাধারণত অত্যাচার ও শত্রুতা থেকে বাঁচতে পারেন না। এছাড়া তাঁদের কোষাগারে টাকা পয়সা পরিচ্ছন্ন হওয়াও কঠিন হয়ে থাকে যে, তাঁরা অধিকাংশ সময় অত্যাচার করে সম্পদ অর্জন করেন। সুতরাং শুধুমাত্র তাকওয়া ও সতর্কতার কারণে হযরত সায়্যিদুনা ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (رحمة الله)কাজীর খামির ওয়ালা রুটি খাননি আর যখন ঐ রুটি দজলা নদীতে ফেলা হল তখন এই ভয়ে সেখানকার মাছ খাওয়া পর্যন্ত বর্জন করলেন, যেন আবার এমন মাছ পেটে চলে না যায়, যেটা ঐ রুটি খেয়েছে!
_______________
কিতাব : ফয়যানে সুন্নাত
লেখক : আমীরে আহলে সুন্নাত মাওলানা মুহাম্মদ বিলাল মুহাম্মদ ইলইয়াস আত্তার কাদেরী রযবীয়া (দা.)
সূত্রঃ 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan
إرسال تعليق