বায়আত-ই এরাদতের বর্ণনা দুই

 বায়আত-ই এরাদতের বর্ণনা দুই. বায়আত-ই এরাদত' হচ্ছে, নিজ ইচ্ছা ও স্বাধীনতা হতে একেবারেই বের হয়ে সত্যিকার আল্লাহর সান্নিধ্যপ্রাপ্ত পীর ও মুরশিদের হাতে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সঁপে দেয়া। একমাত্র তাঁকে নিজের হাকেম (বিচারক), মালিক (সত্ত্বাধিকারী) ও পরিচালক হিসেবে জানা। তাঁর প্রদর্শিত পথ দিয়েই তরীকতের পথে চলা, তার অনুমতি ছাড়া এ পথে কোন কদম না রাখা। তাঁর কোন নির্দেশ বা কাজ নিজের কাছে সঠিক মনে না হলে তা খিযির আলায়হিস সালামের কর্মের মতো মনে করা এবং (সঠিক মনে না হওয়াকে) নিজের বিবেকের ক্রটি বলে জানা। তার কোন কথাতে অন্তরেও প্রশ্ন উত্থাপন না করা। নিজের সকল বিপদ-আপদ তার কাছে পেশ করা। বস্তুত তার কাছে জীবিত হয়েও মৃতের মতাে থাকা। এটাই হলো সালিক বা প্রকৃত তরীকতপন্থীদের বায়আত। আর এটাই মুরশিদের প্রকৃত উদ্দেশ্য। এটাই আল্লাহ তা'আলা পর্যন্ত পৌঁছায়। আর এটাই হুযুর আকদাস (ﷺ) সাহাবা কিরামদের থেকে গ্রহণ করেছেন। যেমন, হযরত উবাদাহ ইবনে সামিত আনসারী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু এরশাদ করেছেন যে,


১. শানুফী, বাহজাতুল আসরার, ذکر فضل اصحابه وبشراهم, পৃ. ১০১, মোস্তফা আল-বাবী, মিসর।


بَایَعنَا رَسُولَ اللّٰهِ ﷺ عَلَی السَّمعِ وَالطَّاعَةِ فِی العُسرِ وَالیُسرِ وَالمَنشَطِ وَالمَکرَهِ وَعَلَی أَثَرَةٍ عَلَینَا وَعَلَی أَن لاَ نُنَزِعَ الأَمرَ أَهلَهُ. 


‘আমরা রাসুলুল্লাহ (ﷺ) হতে এ মর্মে বায়আত করেছি যে, সকল সহজ ও কঠিন, সকল খুশি ও দুঃখে তার নির্দেশ মান্য করব এবং আনুগত্য করবো আর নির্দেশদাতার কোন আদেশের বিরোধিতা করবো না।'


শায়খ বা পীরের নির্দেশ মূলতঃ রসূলের নির্দেশ আর রসূলের নির্দেশ আল্লাহর নির্দেশ আর আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করার কারো সুযোগ নেই। আল্লাহ তাআলা বলেন,


وَمَا کَانَ لِمُٶمِنِ وَلاَ مُٶمِنَةٍ إِذَا قَضَی اللّٰهُ وَرَسُولُهُ٫ أَمرًا أَن یَکُونَ لَهُم الخِیرَةُ مِن أَمرِهِم ؑ وَمَن یَعصِی اللّٰهَ وَرَسُولَهُ٫ فَقَد ضَلَّ ضَلَٰلاً مُّبِینًا. 


‘এবং না কোন মুসলমান পুরুষ, না কোন মুসলমান নারীর জন্য শোভা পায় যে, যখন আল্লাহ ও রাসূল কোন কাজের নির্দেশ দেন, তখন তাদের স্বীয় ব্যাপারে কোন ইখতিয়ার থাকবে এবং যে কেউ নির্দেশ অমান্য করে আল্লাহ ও রসূলের, সে নিশ্চয় স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে পথভ্রষ্ট হয়েছে।


আওয়ারিফুল মা’আরিফ গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে-


دُخُولُهُ فِي حُکمِ الشَّیخِ دُخُولُهُ فِي حُکمِ اللّٰهِ وَرَسُولِهِ وَأَحیَاءُ سُنَّةِ المُبَایَعَةِ. 


‘মুরশিদের নির্দেশাধীন হওয়া মানে আল্লাহ ও রসূলের নির্দেশাধীন হওয়া আর তা বায়'আতের সুন্নাতকে জীবিত করা।


১.১. বুখারী, আস-সহীহ, کتاب الفتن, ২/১০৪৫, কদীমী কুতুবখানা করাচি

২. মুসলিম, আস-সহীহ, کتاب الإمارة, ২/১২৪, কদীমী কুতুবখানা করাচি

২. আল-কুরআন, সুরা আল-আহযাব, ৩৩:৩৬

৩. সোহরাওয়ারদী, আওয়ারিফুল মা'আরিফ, الباب الثاني عشرة, পৃ. ৭৮


উক্ত গ্রন্থে আরো উল্লেখ আছে যে,


وَلاَ یَکُونُ هَذَا إِلاَّ لِمُرِیدٍ حَصُرَ نَفسَهُ مَعَ الشَّیخِ وَانسَلَخَ مِن إِرَادَةِ نَفسِهِ وَفنَي فِي الشَّیخِ بِتَركِ اختِیَارِ نَفسِهِ. 


‘বায়’আত-ই এরাদত অর্জন করা একমাত্র ওই লোকের জন্য সম্ভব, যে স্বীয় আত্মাকে মুরশিদের নিকট বন্দী করেছে এবং স্বীয় ইচ্ছা হতে সম্পূর্ণ বেরিয়ে এসেছে আর নিজ স্বাধীনতা ছেড়ে শায়খের মধ্যে ফানা (বিলীন) হয়ে গেছে।


তিনি আরো বলেন যে,


وَیَحذَرُ الإِعتِرَاضُ عَلَی الشُّیُوخِ فَإِنَّهُ السَّمُّ القَاتِلُ لِلمُرِیدِینَ، وَقَلَّ أَن یَّکُونَ مُرِیدُ یَعتَرِضُ عَلَي الشَّیخِ بِبَاطِنِهِ فَیَفلِحُ، وَیَذکُرُ المُرِیدُ فِي کُلِّ مَا اشکَلَ عَلَیهِ مِن تَصَارِیفِ الشَّیخِ قِصَّةَ الخِضَرِ عَلَیهِ السَّلاَمَ کَیفَ کَانَ یَصدُرُ مِنَ الخِضَرِ تَصَارِیفُُ یُنکِرُهَا مَوسَي، ثُمَّ لَمَّا کَشَفَ لَهُ عَن مَعنَاهَا بِأَنَّ لِمُوسَي وَجَّهَ الصَّوَابَ فِي ذَلِكَ، فَهَکَذَا یَنبَغِي لِلمُرِیدِ أَن یَّعلَمَ أَنَّ کُلَّ تَصَرُّفٍ أَشکَلَ عَلَیهِ صِحَّتُهُ مِنَ الشَّیخِ، عِندَ الشَّیخِ فِیهِ بَیَانُُ وَبُرهَانُُ لِلصِّحَّةِ. 


‘পীরের কোন বিষয়ে আপত্তি তোলা হতে বিরত থাকবে। কারণ, এটা মুরিদদের জন্য মৃত্যু দানকারী বিষতুল্য। এমন কম মুরিদই আছে, যে অন্তরে শায়খের উপর কোন আপত্তি তুলেছে অতঃপর কল্যাণ অর্জন করেছে! শায়খের ক্রিয়া-কাণ্ডে যা কিছু মুরিদের সঠিক বলে মনে হবে না, তাতে হযরত খিযির আলায়হিস সালাম-এর ঘটনাবলী স্মরণ করবে। কেননা, হযরত খিযির হতে ঐসব ক্রিয়া-কাণ্ড প্রকাশ হতাে যা বাহ্যিকভাবে অত্যন্ত আপত্তিকর ছিলো। (যেমন গরীব লোকের নৌকা ছিদ্র করে দেওয়া, নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করা ইত্যাদি।) অতঃপর যখন তিনি তার কারণ বলতেন, তখন এটাই সুস্পষ্ট হতো যে, তাই সঠিক ছিলো, যা তিনি করেছেন। মুরিদের বিশ্বাস করা উচিত যে, শায়খের যে কাজ আমার কাছে

১. সোহরাওয়ারদী, আওয়ারিফুল মা’আরিফ, الباب الثاني عشرة, পৃ. ৭৮

শুদ্ধ বলে মনে হচ্ছে না, শায়খের কাছে তার শুদ্ধতার উপর সুদৃঢ় প্রমাণ বিদ্যমান।


ইমাম আবুল কাসিম কোশায়রী তাঁর রচিত “রিসালা’য় বলেন যে, আমি হযরত আবু আবদুর রহমান সালমাকে বলতে শুনেছি যে, তাকে শায়খ হযরত আবু সাহল সা’আলূকী বলেছেন যে,


مَن قَالَ الأُستَاذَهُ لِمَ، لاَ یَفلِحُ أَبَدًا


“যে ব্যক্তি স্বীয় পীরের কোন কথায় ‘কেন’ বলবে, সে কখনো কল্যাণ লাভ করবে না (কামিয়াব হতে পারবে না)।

আমরা যখন দ্বীনি কল্যাণ (ফালাহ), পীর-মুরশিদ ও বায়আত ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত হলাম, এখন আসল মাস'আলার সমাধানের দিকে ফিরে যাই। সুতরাং জেনে রাখুন যে, সাধারণ দ্বীনি কল্যাণ (ফালাহ) অর্থাৎ পরকালীন মুক্তিলাভের জন্য মুরশিদে আ’ম (مرشد عام)-এর অবশ্যই প্রয়োজন । ফালাহ-ই তাকওয়া (فلاح تقوي) হােক, বা ফালাহ-ই ইহসান (فلاح احسان) -এ উভয় কল্যাণ মুরশিদে আ'ম হতে পৃথক হয়ে কখনো অর্জন করা যায় না। যদিও মুরশিদে খাস আছে, বা স্বয়ং নিজেই মুরশিদে খাস হোক না কেন।


যে কারণে মুরশিদে আম’ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়

অতঃপর এ ‘মুরশিদে আ’ম' হতে বিচ্ছিন্ন দু'ভাবে হয়ে থাকে। যথা-

১. শুধু আমলগত ত্রুটির কারণে ও

২. আকীদাগত ত্রুটির কারণে।


এক. শুধু আমলগত কারণে মুরশিদে আম থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া। যেমন কোন কবীরা গুনাহে লিপ্ত হওয়া বা সগীরা গুনাহ বারংবার করা। আর এর থেকেও নিকৃষ্ট ঐ মূর্খ যে উলামা-ই দ্বীনের প্রতি রুজু হয় না। আর এর চেয়েও নিকৃষ্ট ঐ লোক যে মূর্খতার সাথে রায়দাতা বনে আছে এবং আলিমগণের বিধানে নিজের অভিমত খাটায়, বা বিধিবদ্ধ বিধানের বিপরীতে ভ্রান্ত প্রথার উপর গেড়ে বসেছে। আর যদি হাদীস ও ফিকাহর আলোকে বলা হয় যে, এ ভ্রান্ত প্রথার কোন ভিত্তি নেই তারপরও ওটাকেই হক বলে জানে। অতএব এ সব লােক (দ্বীনি) কল্যাণের উপর নেই, আর তারা একজন অন্যজনের চেয়ে বেশি ক্ষতিতে নিমজ্জিত। তবে শুধু আমল ছেড়ে দেয়ার কারণে তারা পীর ছাড়াও নয় আবার তাদের পীর শয়তানও নয়। যেহেতু তারা


১. সোহরাওয়ারদী, আওয়ারিফুল মা'আরিফ, الباب الثاني عشرة, পৃ. ৭৯


২. কুশায়রী, আর-রিসালা, অধ্যায় : حفظ قلوب المشاٸخ وترك الخلاف علیهم, পৃ. ১৫০


ওলীগণ ও উলামা-ই দ্বীনের প্রতি নিষ্ঠার সাথে বিশ্বাসী। যদিও কুপ্রবৃত্তির তাড়নায় নাফরমানী করে তবুও ‘মুরশিদে খাসের ভিত্তিতে বায়'আত যেমন দু'প্রকার ছিলো, তেমনি মুরশিদে আমের ভিত্তিতেও তারা যদি তার নির্দেশমতে চলে তবে তা বায়'আতে ইরাদত ধরতে হবে, নতুবা ওলামায়ে দ্বীনের প্রতি বিশ্বাস রাখার দরুণ তা বায়আতে বরকত থেকে খালি নয়। কারণ, তাদের ঈমান ও আকীদা তো ঠিক আছে। অতএব গুনাহগার সুন্নী যদি চতুষ্টয় শর্তের ধারক কোন পীরের মুরিদ হয়। তবে তো ভালো কথা, অন্যথায় হুসনে ইতিকাদ (ভালো ধারণা)-এর কারণে মুরশিদে আ’মের অনুসারীদের মধ্যে গণ্য হবে যদিও নাফরমানির কারণে দ্বীনি কল্যাণ (ফালাহ)-এর উপর নেই।


যাদের পীর শয়তান তাদের বর্ণনা


দুই. অস্বীকার বা আকীদাগত কারণে মুরশিদ-ই আ’ম হতে বিচ্ছিন্ন হওয়া। আর তা হচ্ছে : 

 ১. উপহাসকারী ওই শয়তান, যে উলামা-ই দ্বীনকে নিয়ে হাসি-তামাসা করে এবং আলেমদের বর্ণিত শরয়ী বিধানগুলোকে অনর্থক মনে করে। তাদের মধ্যে আরো আছে-ওই সব মিথ্যুক ফকীর দাবিদার-যারা বলে যে, আলিমগণ ফকীরদের ডাক চিৎকারে সৃষ্টি হয়। এমনকি কতেক শয়তান সাজ্জাদাশীন বরং নিজেকে যুগের কুতুব হিসেবে দাবিকারী ব্যক্তিকে এ কথা বলতে শুনা যায় যে, আলেম আবার কে? সব তো পণ্ডিত। আলেম তো তারা, যারা বনী ইসরাঈলের নবীদের মতো মু'জিয়া দেখাতে পারে। ২. ঐ নাস্তিক, মুলহিদ (ধর্মত্যাগী) ফকীর ও স্বঘোষিত ওলী, যে বলে শরীয়ত হলো রাস্তা আর আমরা তো রাস্তা অতিক্রম করে উদ্দেশ্য পৌঁছে গেছি। এখন আমরা রাস্তা (শরীয়ত) দিয়ে কী করবো? আমার প্রণীত মক্কালু উরাফা বি-ইযাযিশ শরয়ী ওয়াল ওলামা (১৩২৭ হি.) পুস্তকে এসব দুষ্টদের মতবাদ খণ্ডন করেছি। উলামাদের মধ্যে ইমাম আবুল কাসিম কোশায়রী কুদ্দিসা সিররুহু তাঁর কৃত রিসালায় লিখেছেন যে, আবু আলী রুযুবারী রাদিয়াল্লাহু আনহু, যিনি বাগদাদে জন্মগ্রহণ করে, মিসরে বসবাস করতেন আর তথায় হিজরী ৩২২ সালে ইন্তিকাল করেন। তিনি সায়্যিদুত তায়িফা হযরত জোনাঈদ বাগদাদী ও হযরত আবুল হাসান আহমদ নূরী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর মুরিদ ছিলেন। তরীকতের পীরদের মধ্যে তার চেয়ে বেশি তাসাউফের জ্ঞান রাখতেন এমন কেউ ছিল না । তার নিকট একদা প্রশ্ন করা হলো যে, এক ব্যক্তি মাযামীর (বাদ্যযন্ত্র) শুনে আর বলে যে,


هِیَ لِي حِلاَلُُ لأَنِّي وَصَلتُ إِلَي دَرجَةٍ لاَ تُٶثِرُ فِي اختِلاَفِ الأَحوَالِ فَقَالَ : نَعَم! قَد وَصَلَ وَلَکِن إِلَي سَقَرٍ. 


এটা আমার জন্য হালাল, কারণ আমি এমন স্তরে পৌঁছেছি যে, বাদ্যযন্ত্রের রাগ আমার অবস্থার উপর কোন প্রভাব ফেলতে পারে না । তখন তিনি প্রতিউত্তরে বললেন, হাঁ অবশ্যই সে পৌঁছেছে, কী পর্যন্ত জানো! জাহান্নাম পর্যন্ত।


আরিফ বিল্লাহ আব্দুল ওহাব শা'রানী কুদ্দিসা সিররুহু কিতাবুল ইওয়াকীত ওয়াজ জাওয়াহির ফী আকাঈদীল আকাবির গ্রন্থে লিখেছেন যে, হুযুর সায়িদুত তায়ীফা জুনাইদ বাগদাদী রাদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে আরয করা হয়েছে যে, কতেক লোক বলে যে,


إِنَّ التَّکَالِیفَ کَانَت وَسِیلَةُ إِلَي الوُصُولِ وَقَد وَصَلنَا. 


শরীয়তের বিধিবিধান তো খোদা পর্যন্ত পৌঁছার একটা মাধ্যম মাত্র আর আমরা তো পৌঁছে গেছি। (অতএব তখন শরীয়তের বিধান মেনে চলার কী প্রয়োজন?)।


তখন তিনি বললেন,


صَدَقُوا فِي الوُصُولِ وَلَکِن إِلَي سَقَرِ وَالَّذِي یَسرُقُ وَیَزنِي خَیرُُ مِمَّن یَعتَقِدُ ذَلِكَ. 


তারা সত্য বলেছে, অবশ্যই তারা পৌঁছে গেছে তবে জাহান্নাম পর্যন্ত।

চোর এবং ব্যভিচারী এমন আকীদা পোষণকারী হতে উত্তম।

৩. এই মুখ ও পথভ্রষ্ট যে লেখাপড়া না করে বা কিছু বই-পুস্তক পড়ে নিজে নিজে আলিম হয়ে শরীয়তের মহান ইমামদের হতে বিমুখ হয়ে আছে এবং কুরআন হাদিসের ব্যাখ্যাদানে নিজেকে যুগের আবু হানিফা ও শাফেয়ী ধারণা করছে বরং তাদের চেয়েও উত্তম মনে করছে। আর বলে যে, তারা কুরআন ও হাদিসের বিপরীত নির্দেশ দিয়েছেন বা তাদের ভুলভ্রান্তি তালাশে ব্যস্ত-ফলে এ সব লোক গোমরাহ্, বেদ্বীন ও গায়র-ই মুকাল্লিদ বা তাকলীদ অস্বীকারকারীদের দলভুক্ত।


১. কুশায়রী, আর-রিসালা, অধ্যায় : منهم أبو علي أحمد بن محمد الروذباري, পৃ. ২৬, মোস্তাফা আলবাবী

২. শা’রানী, الیواقیت والجواهر في عقاٸد الاکابر, অধ্যায় : المبحث السادس والعشرون, ১/২৭২-৭৩, দারু ইয়াহইয়ায়ি তুরাসিল আরবী, বৈরুত


৪. তাদের চেয়েও নিকৃষ্ট হলো ওই সব লোক যারা ওহাবী মতবাদের মৌলিক গ্রন্থ তাকবীয়াতুল ঈমানের দর্শনে বিশ্বাস করে বসে আছে। আর তার বিপরীত কুরআন ও হাদিসকে পেছনে নিক্ষেপ করেছে। আর এরা আল্লাহ ও রসূলকে পিঠ দিয়ে ওই কিতাবের মাসাঈলের উপর ঈমান এনেছে।


৫. তাদের চেয়েও নিকৃষ্ট ঐসব দেওবন্দী যারা গাঙ্গুহী, নানুতবী ও থানবী প্রমুখ যাজক ও সন্ন্যাসীদের কুফরকে ইসলামের নামে চালিয়ে দিয়ে আল্লাহ ও রসূলের প্রতি তাদের বড় বড় গাল-মন্দকে কবুল করে নিয়েছে।


৬. কাদিয়ানী

৭. নাস্তিক

৮. চকডালভী

৯. রাফেযী

১০. খারেজী

১১. নাওয়াসিব

১২. মুতাযিলা ইত্যাদি সকল মুরতাদ, পথভ্রষ্ট ও ধর্মের শত্রু সবাই মুরশিদে আ'মের বিরোধী ও অস্বীকারকারী। এরা অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং নিঃসন্দেহে তাদের সবার পীর শয়তান। যদিও বাহ্যিক কোন পীরের নাম নিয়ে থাকে অথবা নিজেকে পীর, ওলী ও কুতুব হিসেবে দাবি করে বসে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,


اُستَحوَذَ عَلَیهِمُ الشَّیطَنُ فَأَنسَهُم ذِکرَ اللَّهِ أُولَٓٸِكَ حِزبُ الشَّیطَنِ ؑ أَلَآ إِنَّ حِزبَ الشَّیطَنِ هُمُالخَٰسِرُونَ. 


 


‘শয়তান তাদের উপর আধিপত্য বিস্তার করেছে, ফলে তাদেরকে সে ভুলিয়ে দিয়েছে আল্লাহর স্মরণ। তারা শয়তানের দল। সাবধান! শয়তানের দলই ক্ষতিগ্রস্থ।”


ওইসব থেকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আশ্রয় কামনা করছি।


 _____________

বায়াত ও খিলাফতের বিধান

মূল :- ইমাম আহমদ রেযা খান বেরেলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি।

অনুবাদ: মুহাম্মদ নেজাম উদ্দীন

 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]


Post a Comment

أحدث أقدم