খোদায়ী মহা অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রদর্শনের নিদর্শন-ই মওলিদুন্নবী (ﷺ)-এর উদযাপন
বিশ্বজগতের স্রষ্টা মহান আল্লাহতা’লা মানবজাতির প্রতি অসীম ও অবারিত ঐশী দান ও আশীর্বাদ মঞ্জুর করেছেন। তিনি আমাদেরকে খাদ্য, পানীয়, সৌন্দর্য ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দ্বারা আশীর্বাদধন্য করেছেন। রাত ও দিনের নিয়ম-ও তিনি আমাদের জন্যে জারি করেছেন। আমাদের আশপাশের দুনিয়াকে আমাদেরই কল্যাণে শাসন করার অনুমতি তিনি আমাদেরকে দিয়েছেন। তাঁর করুণা ও ক্ষমাশীলতা, এ গুণগুলোর কারণে তিনি মানুষকে আশরাফুল মাখলূক্বাত তথা সৃষ্টির সেরা জীবের মর্যাদা দান করেছেন; আর তিনি মানুষকে সর্বসেরা উপাদান ও আকৃতিতে গড়েছেন। তিনি আমাদেরকে পরিবার ও আত্মীয়তার সম্পর্ক-ও মঞ্জুর করেছেন। আমরা অবগত নই এমন নেয়ামত/আশীর্বাদ-ও বিদ্যমান; অথচ এতোসব সত্ত্বেও তিনি আমাদের প্রতি রহমত-বরকত বর্ষণের বিষয়ে কোনো রকম বড়াই করেননি। এটা এ কারণে যে, তিনি হলেন সবচেয়ে উদার; আর কেউ তাঁর প্রতি ঈমান আনুক বা না-ই আনুক, তথাপিও তিনি আমাদের প্রতি তাঁর রহমত-বরকত-নেয়ামত-আশীর্বাদ বর্ষণ করে চলেছেন। তিনি তা মঞ্জুর করছেন, কিন্তু সে ব্যাপারে দম্ভ করছেন না। তবে মানবজাতির জন্যে আল্লাহতা’লার এমন একটি আশীর্বাদ রয়েছে, তাঁর নেয়ামতগুলোর মধ্যে যেটা সম্পর্কে তিনি শুধু উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হননি, বরঞ্চ তা স্মরণ-ও করেছেন এবং (আরবী) ‘লা’ম’ ও ‘ক্বাদ’ তাকিদসূচক শব্দ দুটো ব্যবহারের দ্বারা তাতে জোরও দিয়েছেন। আল্লাহতা’লা এরশাদ ফরমান:
“নিশ্চয় আল্লাহর মহান অনুগ্রহ হয়েছে ঈমানদার মুসলমানদের প্রতি এ মর্মে যে, তাদের মধ্যে তাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন।” [আল-ক্বুরআন, ৩:১৬৪]
এই আয়াতে এ বিষয়টি স্পষ্ট যে আল্লাহতা’লা (যেন) বলছেন, “ওহে মানবকুল! এটা তোমাদের প্রতি আমার সেরা আশীর্বাদ যে আমি আমার সবচেয়ে প্রিয় সৃষ্টিকে তোমাদেরই মধ্য হতে আবির্ভূত (বেলাদত) করেছি। তাঁরই মাধ্যমে তোমাদের ভাগ্য ফিরেছে – পথভ্রষ্টতার অন্ধকার হতে তোমরা হেদায়াতের আলোতে এসে সম্মানিত হয়েছো। অতএব, তোমাদের জানা উচিত যে এর থেকে বড় নেয়ামত আর কখনোই হয়নি। আমার মাহবূব (ﷺ), যাঁর ওয়াস্তে (অথবা খাতিরে) সমগ্র সৃষ্টিজগত অস্তিত্বশীল হয়েছে, আমি যখন তাঁকে তোমাদের মাঝে প্রেরণ করেছি, তখন বিশ্বজগতের প্রভু হিসেবে তোমাদের প্রতি আমার এ আশীর্বাদকে স্মরণ করিয়ে দেয়াটা গুরুত্বপূর্ণ; যাতে তোমরা অকৃতজ্ঞ হয়ে আবার না ভাবো, এটা বুঝি অন্য যে কোনো ঐশী দানের মতোই আরেকটি নেয়ামত।”
এই আশীর্বাদকে স্মরণ করে উম্মতের স্বার্থের প্রতি খেয়াল রাখা হয়েছে। আল্-ক্বুরআন প্রত্যেক একত্ববাদীর কাছে এ কথা স্পষ্ট করেছে যে আল্লাহতা’লার সর্বসেরা রহমতের ব্যাপারে তাদের নীরব থাকা উচিত নয়; বরঞ্চ উদযাপনের মাধ্যমে খুশি ও সুখ প্রকাশ করে এই আশীর্বাদের প্রতি তাদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা উচিত।
__________________
মওলিদুন্নবী (ﷺ)-এর উদযাপন ও অনুমতি (১ম খণ্ড)
মূল: শায়খুল ইসলাম ড: মুহাম্মদ তাহিরুল কাদেরী
অনুবাদ: কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন
🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]
إرسال تعليق