প্রতিবন্ধী ছেলে চলতে লাগল!


ডাকাতের একটি দল লুটপাট করার জন্য বের হল। পথিমধ্যে রাতে এক মুসাফির খানাতে অবস্থান করল আর সেখানে একথা প্রকাশ করল যে, আমরা আল্লাহর রাস্তার মুসাফির ও জিহাদ করার জন্য বের হয়েছি। মুসাফিরখানার মালিক নেককার লোক ছিলেন, তিনি আল্লাহরসন্তুষ্টি লাভের নিয়্যতে তাদের খুবই খিদমত করলেন। সকালে ঐসবডাকাত কোন একদিকে রওয়ানা হয়ে গেল, আর লুটতরাজ করে সন্ধ্যায় আবার সেখানেই ফিরে আসল।



গতরাতে মুসাফিরখানার মালিকের যে ছেলেকে তারা চলাফেরা করতে অক্ষম দেখেছিল সে আজকে স্বাভাবিক চলাফেরা করছিল। তারা আশ্চর্য হয়ে মুসাফির খানার মালিককে জিজ্ঞাসা করল: “এটা কি কালকের দেখা প্রতিবন্ধী ছেলেটি?” তিনি খুবই সম্মানের সাথে জবাব দিলেন, “জ্বী হ্যাঁ”। এটা ঐ ছেলে। জিজ্ঞাসা করল, “এটা কিভাবে সুস্থ হয়ে গেল?” জবাব দিলেন, এসব কিছু আপনাদের ন্যায় আল্লাহর পথের মুসাফিরদের বরকত।” কথা হচ্ছে, আপনারা যা খেয়েছিলেন তা থেকে কিছু অবশিষ্ট ছিল। আমি আপনাদের খাবারের অবশিষ্ট অংশ শিফার নিয়্যতে আমার প্রতিবন্ধী বাচ্চাকে খাওয়ালাম ও উচ্ছিষ্ট পানি তার শরীরে মালিশ করলাম। আল্লাহ্ আপনাদের মত নেক বান্দাদের খাবারের অবশিষ্টাংশ ও পানির বরকতে আমার প্রতিবন্ধী ছেলেকে আরোগ্য দান করেছেন। যখন ডাকাতেরা একথা শুনল তখন তাদের চোখ থেকে অশ্রু বের হতে লাগল। ক্রন্দনরত অবস্থায় বলল: “এসব কিছু আপনার সুধারণার ফসল, নয়তো আমরাতো বড়ই গুনাহগার। শুনুন আমরা আল্লাহর পথের মুসাফির নয় বরং ডাকাত। আল্লাহ্ তাআলার এ দয়া প্রদর্শন আমাদের মনের দুনিয়াকে উলট-পালট করে দিয়েছে। আমরা আপনাকে সাক্ষী রেখে তাওবা করছি। সুতরাং তারা তাওবাকারী হয়ে নেকীর পথ ধরল এবং মৃত্যু পর্যন্ত তাওবার উপর অটল রইলেন। (কিতাবুল ক্বালইঊবী, ২০ পৃষ্ঠা)



আল্লাহ্ তাআলার রহমত তাঁদের উপর বর্ষিত হোক এবং তাঁদের সদকায় আমাদের ক্ষমা হোক। মুসলমানদের খাবারের অবশিষ্টাংশে শিফা রয়েছে প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আপনারা দেখলেন তো! আল্লাহররহমতের কিরূপ বাহার! এটাও জানা গেল, মুসলমানের প্রতি সু-ধারণারও বরকত রয়েছে। এটা জানা গেল, মুসলমানদের খাবারের অবশিষ্টাংশে শিফা রয়েছে। এটাও জানা গেল, দয়া পাওয়ার জন্য বিশ্বাসও পাকাপোক্ত হওয়া উচিত। দূর্বল বিশ্বাসী না হওয়া উচিত।



যেমন- ভাবতে থাকে যে, অমুক বুযুর্গ বা অমুক ওলী আল্লাহর মাযারে যাওয়াতে জানিনা ফায়দা হবে কি হবে না ইত্যাদি। এ ধরনের মানুষ দয়া পাবে না। এছাড়া ফয়েয পাওয়ার জন্য সময়ের কোন বাধ্যবাধকতা নেই, নিজ নিজ ভাগ্য অনুযায়ী কেউ তাড়াতাড়ি ফয়েয পেয়ে যান আর কারো অনেক বছর পর্যন্ত কাজ হয় না। কাজ হোক কিংবা না হোক “অর্থাৎ-এক দরজা ধরো আর শক্তভাবে ধরো।” এর সত্যায়নে পড়ে থাকা উচিত। কো-য়ি আয়া পা-কে চলা গিয়া কো-য়ি ওমর ভর ভী না পা-ছাকা, মেরে মাওলা তুঝছে গিলা নেহী ইয়ে তু আপনা আপনা নসীব হে।

_______________

কিতাব : ফয়যানে সুন্নাত

লেখক : আমীরে আহলে সুন্নাত মাওলানা মুহাম্মদ বিলাল মুহাম্মদ ইলইয়াস আত্তার কাদেরী রযবীয়া (দা.)

সূত্রঃ 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan


Post a Comment

أحدث أقدم