বিবি আয়েশা এর ইছালে সাওয়াবের ঘটনা


ইমামে রব্বানী হযরত মুজাদ্দিদে আলফে সানী (رحمة الله) বলেন: “পূর্বে আমি যদি কোন খাবার তৈরী করতাম তবে সেটার সাওয়াব তাজেদারে রিসালাত, শাহানশাহে নবূয়ত, মাহবুবে রব্বুল ইয্যত (ﷺ) ও হযরত আমীরুল মুমিনীন শেরে খোদা আলী (رضي الله عنه) ও হযরত খাতুন জান্নাত ফাতিমাতুয্ যাহরা ও হযরত হাসানাইনে কারীমাইন عَلَیۡہِمُ الرِّضۡوَان এর পবিত্র রূহ সমূহের জন্যই বিশেষতঃ ঈসালে সাওয়াব করতাম এবং উম্মাহাতুল মুমিনীন (رضي الله عنه) ُنَّ এর নাম অন্তর্ভূক্ত করতাম না। এক রাতে স্বপ্নে দেখলাম যে রাহমাতুল্লিল আলামীন, শফিউল মুযনিবীন, রাসুলে আমীন, হুযুর পুরনূর (ﷺ) তাশরীফ আনলেন।আমি হুযুর (ﷺ) এর বরকতময় খিদমতে সালাম আরয করলে হুযুর (ﷺ) আমার প্রতি মনোযোগ দিলেন না এবং মোবারক চেহারা অন্যদিকে ফিরিয়ে নিলেন ও আমাকে ইরশাদ করলেন: “আমি ‘আয়েশা (সিদ্দীকার) ঘরে খাবার খাই, যে কেউ আমাকে খাবার পাঠাতে চায় সে যেন (হযরত) আয়েশার ঘরে পাঠায়।” তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, আল্লাহর প্রিয় হাবীব, হাবিবে লবীব, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) মনোযোগ না দেয়ার কারণ এটা ছিল যে, আমি উম্মুল মুমিনীন হযরত সায়্যিদাতুনা আয়েশা (رضي الله عنه) َا কে খাবারে অন্তর্ভুক্ত (অর্থাৎ- ঈসালে সাওয়াব) করতাম না। এরপর থেকে আমি হযরত সায়্যিদাতুনা আয়েশা সিদ্দীকা (رضي الله عنه) َا বরং সকল উম্মাহাতুল মুমিনীন এমনকি সকল আহলে বাইতকে অন্তর্ভুক্ত করে নিই এবং সকল আহলে বাইতকে নিজের জন্য ওসীলা সাব্যস্ত করি। (মাকতুবাতে ইমামে রব্বানী, ২য় খন্ড, ৮৫ পৃষ্ঠা)



আল্লাহ্ তাআলার রহমত তাঁদের উপর বর্ষিত হোক এবং তাঁদের সদকায় আমাদের ক্ষমা হোক।




সকলের জন্য ঈসালে সাওয়াব করা উচিত



প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! এ ঘটনা থেকে জানা গেল, যাদেরকে ঈসালে সাওয়াব করা হয় তাদের নিকট তা পৌঁছে যায়। এটাও জানা গেল, ঈসালে সাওয়াব নির্ধারিত বুযুর্গদের করার পরিবর্তে সকলের প্রতি করা উচিত।আমরা যতজনকেই ঈসালে সাওয়াব করব, সবার নিকট সমান সমানই পৌঁছবে আর আমাদের সাওয়াবেও কোন প্রকার কমতি হবে না। (আরো বিস্তারিত জানার জন্য মাকতাবাতুল মদীনা থেকে সুলভ মূল্যে ফাতিহার পদ্ধতি নামক রিসালা সংগ্রহ করে পাঠ করুন) এটাও জানা গেল, মদীনার তাজেদার, নবীকুল সরদার, হুযুরে আনওয়ার (ﷺ) উম্মুল মুমিনীন হযরত সায়্যিদাতুনা আয়েশা (رضي الله عنه) َا কে সীমাহীন ভালবাসতেন।



হযরত সায়্যিদুনা আমর বিন আস (رضي الله عنه) যখন “সালাসিলের যুদ্ধ” থেকে ফিরলেন তখন তিনি আরয করলেন:“ইয়া রাসুলাল্লাহ (ﷺ) আপনার নিকট সকল মানুষের মধ্যে সবচেয়ে অধিক প্রিয় কে?” ইরশাদ করলেন: “আয়েশা” (رضي الله عنه) َا তিনি পুনরায় আরয করলেন: “পুরুষদের মধ্যে?” বললেন: “তাঁর পিতা হযরত সায়্যিদুনা আবু বকর সিদ্দীকা (رضي الله عنه) ।


(সহীহ বুখারী, ২য় খন্ড, ৫১৯ পৃষ্ঠা, হাদীস নং-৩৬৬২)



    বিনতে সিদ্দিক আ-রামে জানে নবী,


    উছ হারীমে বারাআত পে লাখো সালাম।


    য়া’নি হে সূরায়ে নূর জ্বিন কি গাওয়া,


    উনকি পুর নূর সূরত পে লাখো সালাম।

_______________

কিতাব : ফয়যানে সুন্নাত

লেখক : আমীরে আহলে সুন্নাত মাওলানা মুহাম্মদ বিলাল মুহাম্মদ ইলইয়াস আত্তার কাদেরী রযবীয়া (দা.)

সূত্রঃ 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan


Post a Comment

أحدث أقدم