□ কবরগুলোকে মসজিদ বানানোর অর্থ কি�
❏ দরসে হাদীসঃ [হাদীস নং- (৬৬০)]
○ অধ্যায়ঃ [মসজিদগুলো ও নামাযের স্থানসমূহ]
[ﻭﻋﻦ ﻋﺂﺋﺸﺔ ﺍﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﷺ ﻗﺎﻝ ﻓﻰ ﻣﺮﺿﻪ ﺍﻟﺬﻯ ﻟﻢ ﻳﻘﻢ ﻣﻨﻪ ﻟﻌﻦ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﻴﻬﻮﺩ ﻭﺍﻟﻨﺼﺎﺭﻯ ﺍﺗﺨﺬﻭﺍ ﻗﺒﻮﺭ ﺍﻧﺒﻴﺂﺋﻬﻢ ﻣﺴﺎﺟﺪ . ] : ( ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ )
অর্থাৎঃ হযরত আয়েশা [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﯽٰ ﻋﻨﻬﺎ] থেকে বর্ণিত, রাসূলাল্লাহ্ [ﷺ] হুযূরের ওই রোগের সময় এরশাদ করেছেন, যা থেকে তিনি ওঠেন নি, (টীকাঃ ৪৯) ইহুদী ও খৃষ্টানদের উপর আল্লাহ্ অভিসম্পাত করুন! তারা তাদের পয়গাম্বরদের কবরগুলোকে সাজদার স্থান করে নিয়েছে।" (টীকাঃ ৫০)
[মুসলিম, বোখারী]
□ উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখায় বলা হয়েছেঃ
◇ টীকাঃ ৪৯.
অর্থাৎ ওফাত শরীফের অসুস্থতায়। সুতরাং এ হাদীস মুহকাম বা বলবৎ হলো; মানসুখ বা রহিত হলো না।
◇ টীকাঃ ৫০.
এভাবে যে, তাঁদের কবরগুলোর দিকে সাজদা করতে লাগলো; বরং কেউ কেউ ওই কবরগুলোর পূজা করতে আরম্ভ করেছিলো। এ উভয় কাজ শির্ক। অথবা তাঁদের কবরগুলোকে ধূলিসাৎ করে মসজিদের ফরশের অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছে এবং সেটার উপর দাঁড়িয়ে নামায পড়তে শুরু করেছে। এটাও হারাম। কারণ এটা কবরের অবমাননার সামিল।
স্মর্তব্য যে, বুযুর্গের আস্তানাগুলোর পাশাপাশি মসজিদ বানানো এবং বরকতের জন্য তাতে নামায পড়া ক্বোরআন শরীফ ও বহু হাদীস শরীফ থেকে প্রমাণিত সূরা 'কাহফ' -এ এরশাদ হয়েছে-
[ﻟَﻨَﺘَّﺨِﺬَﻥَّ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢ ﻣَّﺴْﺠِﺪًﺍ]
অর্থাৎ মুসলমানগণ বলেছে আমরা 'আসহাব-ই কাহফ' -এর গুহার পাশে মসজিদ নির্মাণ করবো। (১৮:২১) হুযূর [ﷺ] -এর রওযা-ই আন্ওয়ার এবং বেশীরভাগ সাহাবীর মাযারগুলোর পাশে মসজিদ রয়েছে। এগুলো খোদ্ সাহাবীগণ কিংবা নেককার লোকেরা নির্মাণ করেছেন। এখন আল্লাহ্'র ওলীগণের মাযারের পাশে মুসলিম সাধারণ মসজিদ নির্মাণ করে থাকে। মাক্ববূল বান্দাদের নিকটে নামায বেশী ক্ববূল হয়। মসজিদ-ই নববী শরীফে এক নামাযের সাওয়াব পঞ্চাশ হাজার। তাও হুযূর-ই আন্ওয়ার [ﷺ] -এর নৈকট্যের কারণে। মহান রব ইস্রাঈলী পাপীদেরকে বলেছিলেন-
[ﺍﺩْﺧُﻠُﻮﺍ ﺍﻟْﺒَﺎﺏَ ﺳُﺠَّﺪًﺍ ﻭَﻗُﻮﻟُﻮﺍ ﺣِﻄَّﺔٌ]
অর্থাৎ তোমরা বায়তুল মুক্বাদ্দাসের দরজায় সাজদারত অবস্থায় প্রবেশ করো এবং সেখানে গিয়ে তওবা করো (২:৫৮)। নবীগণ [ﻋﻠﻴﻬﻢ ﺍﻟﺴﻼﻡ] -এর কবর শরীফগুলোর বরকতে তাওবা ক্ববূল হবে। হযরত যাকারিয়া [ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ] -এর ঘটনা বর্ণনা করেছেন-
[ﻫُﻨَﺎﻟِﻚَ ﺩَﻋَﺎ ﺯَﻛَﺮِﻳَّﺎ ﺭَﺑَّﻪُ]
অর্থাৎ সেখানে বিবি মরিয়মের পাশে দাঁড়িয়ে যাকারিয়া [ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ] পুত্র-সন্তানের জন্য দো'আ করলেন (৩:৩৮)।
এ আয়াতগুলো থেকে বুঝা গেলো যে, বুযুর্গের নৈকট্যে তাওবা ও দো'আ বেশী ক্ববূল হয়। এটাও স্মরণযোগ্য যে, কবরের উপর দাঁড়িয়ে নামায পড়া নিষিদ্ধ; কিন্তু যদি কবরের কিছুটা উপরে পিলার তৈরী করে ফরশ বানানো হয় তবে সেখানে নামায পড়া জায়েয- মাকরুহও নয়। সুতরাং কা'বাতুল্লাহ্'র মাতাফ (তাওয়াফের জন্য নির্ধারিত জায়গা) -এর মধ্যে ৭০ জন নবী মাযার রয়েছে, যেগুলোর উপর তাওয়াফ ও নামায চলছেই। তাছাড়া, কা'বার ছাদের নালার (মীযাব) নিচে হযরত ইসমাঈল [ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ] -এর মাযার শরীফ রয়েছে, যেখানে দিন-রাত নামায পড়া হচ্ছে। সেখানেও কারণ এটাই। [মিরক্বাত ও আশি'আহ্]
□ হাদীস শরীফের ব্যাখ্যা সম্বলিত টীকা পেতে সার্চ করুনঃ
f/Ishq-E-Mustafa ﷺ
[সূত্রঃ মিরআতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, কৃত- মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী আশরাফী বদায়ূনী, বঙ্গানুবাদঃ মাওলানা আব্দুল মান্নান, ১ম খন্ড, পৃ. ৫০৪-৫০৫, হাদীস নং-৬৬০ এর টীকাঃ ৪৯,৫০ দ্রব্যষ্ট, প্রকাশনায়ঃ ইমাম আহমদ রেযা রিসার্চ একাডেমী, চট্টগ্রাম।
🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]
إرسال تعليق