❏ দরসে হাদীসঃ [হাদীস নং- (১৭৮)]
○ অধ্যায়ঃ [ক্বোরআন ও সুন্নাহ্'কে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরা]
[ﻭﻋﻦ ﻏﻀﻴﻒ ﺍﺑﻦ ﺍﻟﺤﺎﺭﺙ ﺍﻟﺜﻤﺎﻟﻰ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﷺ ﻣﺎ ﺍﺣﺪﺙ ﻗﻮﻡ ﺑﺪﻋﺔ ﺍﻻ ﺭﻓﻊ ﻣﺜﻠﻬﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻓﺘﻤﺴﻚ ﺑﺴﻨﺔ ﺧﻴﺮ ﻣﻦ ﺍﺣﺪﺍﺙ ﺑﺪﻋﺔ . ] : ( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﺣﻤﺪ )
অর্থাৎঃ হযরত গুদ্বায়ফ ইবনে হারিস সুমালী (টীকাঃ ১) [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলাল্লাহ্ [ﷺ] এরশাদ করেনঃ
"কোন সম্প্রদায় বিদ্'আত উদ্ভাবন করে না, কিন্তু অনুরুপ সুন্নাত উঠিয়ে নেওয়া হয়। (টীকাঃ ২) সুতরাং সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা বিদ্'আত উদ্ভাবন করা থেকে উত্তম।" (টীকাঃ ৩)
[আহমদ]
□ উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখায় বলা হয়েছেঃ
১. (হযরত গুদ্বায়ফ ইবনে হারিস সুমালী [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ]।)
◇ টীকাঃ ১.
তাঁর সাহাবী হওযার বিষয়ে মতানৈক্য রয়েছে। ইবনে হাব্বান 'কিতাবুস্ সিক্বাত' গ্রন্থে বলেছেন, হযরত গুদ্বায়ফ বলেছেন, "আমি হুযূরের যুগে জন্মগ্রহণ করেছি এবং বাল্যকালেই তাঁর সাথে করমর্দন ও বায়্'আত্ গ্রহণ করেছি।" যদি এ বর্ণনা সহীহ্ হয়, তাহলে তিনি সাহাবী। 'সুমালা' 'বনী আযদ' গোত্রের একটি শাখা, যার সাথে তাঁর সম্পর্ক ছিলো, এ জন্যই তাঁকে সুমালী বলা হতো।
২. (কোন সম্প্রদায় বিদ্'আত উদ্ভাবন করে না, কিন্তু অনুরুপ সুন্নাত উঠিয়ে নেওয়া হয়।)
◇ টীকাঃ ২.
এ হাদীস ওই সব হাদীসের ব্যাখ্যা, যেগুলোতে বিদ্'আতের কুফলের বর্ণনা এসেছে। অর্থাৎ মন্দ বিদ্'আত হচ্ছে ওই আমল, যা সুন্নাতের বিপরীত উদ্ভাবন করা হয়, যে অনুসারে আমল করলে, সুন্নাত উঠে যায়। যেমনঃ আরবীতে নামাযের খোতবা ও আযান দেওয়া। এখন এগুলো (বাংলায় কিংবা) উর্দূতে সম্পন্ন করলে তা এ সুন্নাতকে বিদায় করে দেবে। কারণ, উর্দূতে আযান সম্পন্নকারী আরবীতে দিতে পারছেনা। অনুরুপ, মাথা ঢেকে পায়খানায় যাওয়া সুন্নাত। খালি মাথায় পায়খানায় গমনকারী এই সুন্নাতের উপর আমল করতে পারে। প্রতিটি মন্দ বিদ্'আতের এ-ই অবস্থা। ছোট বিদ্'আত ছোট সুন্নাত'কে বিলুপ্ত করে ফেলে এবং বড় বিদ্'আত বড় সুন্নাত'কে। ﻣﺜﻠﻬﺎ দ্বারা এটাই বুঝানো উদ্দেশ্যে। 'বিদ্'আত-ই হাসানাহ্' (উত্তম বিদ্'আত) কোন সুন্নাত'কে বিলুপ্ত করে না; বরং কোন কোন ক্ষেত্রে তা সুন্নাতের প্রসার করে। দেখুন- ইলমে দ্বীন শিক্ষা দেওয়া সুন্নাত। সুতরাং এর জন্য কিতাবাদি ছাপানো, মাদরাসা তৈরী করা, সেখানে পাঠদানের পাঠ্যতালিকা ও কোর্স চালু করা, যদিও বিদ্'আত বা নব উদ্ভাবিত, কিন্তু এগুলো সুন্নাতের সহায়ক; পরিপন্থী নয়। বুযুর্গ লোকদের স্মৃতিস্মারক প্রতিষ্ঠা করা সুন্নাত। সুতরাং সে জন্য মীলাদ শরীফের মাহফিল, ওরসের অনুষ্ঠান ইত্যাদি ক্বায়েম করা এর সহায়ক; পরিপন্থী নয়। এ স্থানে 'মিরক্বাত' প্রণেতা বলেছেন, "বিদ্আত-ই হাসানাহ্' সুন্নাতের সাথে সংশ্লিষ্ট।
৩. (সুতরাং সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা বিদ্'আত উদ্ভাবন করা থেকে উত্তম।)
◇ টীকাঃ ৩.
এখানে ﺧﻴﺮ (কল্যাণ), ﺷﺮ (মন্দ) -এর মোকাবেলায় এসেছে। অর্থাৎ মন্দ বিদ্'আতগুলো উদ্ভাবন করা মন্দ এবং এর বিপরীতে সুন্নাত অনুসারে আমল করা উত্তম। কেননা, সুন্নাতের মধ্যে 'নূর' রয়েছে এবং মন্দ বিদ্'আতে অন্ধকার রয়েছে। এ অর্থ নয় যে, মন্দ বিদ্'আতগুলোও ঠিক; কিন্তু সুন্নাতসমূহ উত্তম।
[সূত্রঃ মিরআতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, কৃত- মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী আশরাফী বদায়ূনী, বঙ্গানুবাদঃ মাওলানা আব্দুল মান্নান, ১ম খন্ড, পৃ. ১৮৪, হাদীস নং-১৭৮ এর টীকাঃ (১৪৫-১৪৭) দ্রব্যষ্ট, প্রকাশনায়ঃ ইমাম আহমদ রেযা রিসার্চ একাডেমী, চট্টগ্রাম।]
❏ দরসে হাদীসঃ [হাদীস নং- (১৭৯)]
○ অধ্যায়ঃ [ক্বোরআন ও সুন্নাহ্'কে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরা]
[ﻭﻋﻦ ﺣﺴﺎﻥ ﻗﺎﻝ ﻣﺎ ﺍﺑﺘﺪﻉ ﻗﻮﻡ ﺑﺪﻋﺔ ﻓﻰ ﺩﻳﻨﻬﻢ ﺍﻻ ﻧﺰﻉ ﺍﻟﻠﻪ ﻣﻦ ﺳﻨﺘﻬﻢ ﻣﺜﻠﻬﺎ ﺛﻢ ﻻﻳﻌﻴﺪﻫﺎ ﺍﻟﻴﻬﻢ ﺍﻟﻰ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﻤﺔ . ]
: ( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺪﺍﺭﻣﻰ )
অর্থাৎঃ হযরত হাসান (টীকাঃ ১) [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ] হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ
"কোন সম্প্রদায় স্বীয় দ্বীনে বিদ্'আত উদ্ভাবন করে না, কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা তাদের কাছ থেকে অনুরুপ সুন্নাত উঠিয়ে নেন। (টীকাঃ ২) তারপর ক্বিয়ামত পর্যন্ত সেটা তাদের মধ্যে ফিরিয়ে দেন না।" (টীকাঃ ৩)
[দারেমী]
□ উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখায় বলা হয়েছেঃ
১. (হযরত হাসান [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ])
◇ টীকাঃ ১.
তাঁর নাম মুবারক হাস্সান ইবনে সাবিত, উপনাম 'আবুল ওয়ালীদ'। তিনি আনসারী, খাযরাজ গোত্রীয়। তিনি আরব কবিদের শিরমণি। হুযূরের প্রিয় কবি এবং হুযূর মোস্তফা [ﷺ]'র প্রশংসাযুক্ত কবিতা আবৃত্তিকারী। তাঁর জন্য হুযূর স্বীয় মসজিদে মিম্বর শরীফ স্থাপন করতেন, যার উপর দাঁড়িয়ে হুযূরের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি হুযূরের প্রশংসামূলক ক্বসীদা আবৃত্তি করতেন। তিনি একশ' বিশ বছর বয়স পান। ৪০ হিজরীর কিছু পূর্বে হযরত আলী [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ]'র খেলাফতকালে ওফাত পান। (ইমাম ইবনে আব্দুল বার মালিকী তাঁর ওফাতের সন তিনটি উল্লেখ করেছেন: উল্লিখিত সন, ৫০ হিজরী ও ৫৪ হিজরী। |আল্ ইস্তী'আব|)
ইন্শা-আল্লাহ্! ক্বিয়ামত পর্যন্ত সমস্ত নাত পরিবেশনকারী হযরত হাস্সান [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ]'র পতাকাতলে থাকবেন। যেমনঃ এরশাদ হচ্ছে-
[ﻳَﻮْﻡَ ﻧَﺪْﻋُﻮ ﻛُﻞَّ ﺃُﻧَﺎﺱٍ ﺑِﺈِﻣَﺎﻣِﻬِﻢْ]
(যে দিন আমি প্রত্যেক দলকে আহ্বান করবো তাদের ইমাম সহকারে। |১৭:৭১|)
২. (কোন সম্প্রদায় স্বীয় দ্বীনে বিদ্'আত উদ্ভাবন করে না, কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা তাদের কাছ থেকে অনুরুপ সুন্নাত উঠিয়ে নেন।)
◇ টীকাঃ ২.
এর ব্যাখ্যা ইতোপূর্বে করা হয়েছে। 'দ্বীন'র শর্তারোপ করা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, 'বিদ্আত-ই সায়্যিআহ্' (মন্দ বিদ্'আত) সর্বদা দ্বীনের মধ্যে উদ্ভাবিত হবে। দুনিয়াবী আবিষ্কারগুলোকে 'বিদ্আত-ই সায়্যিআহ্' বলা যাবে না। বিদ্'আতের যত কুফল বর্ণিত হয়েছে, সবই ওই বিদ্'আত সম্পর্কে বুঝানো হয়েছে, যা দ্বীনের মধ্যে উদ্ভাবিত হয়েছে এবং যা সুন্নাত'কে বিলুপ্ত করে দেয়। আর যদি 'দ্বীন' দ্বারা আক্বাইদ বুঝানো উদ্দেশ্য হয়, যেমন- বাহ্যিকভাবে বুঝা যায়, তাহলে হাদীসের অর্থও সুস্পষ্ট।
৩. (তারপর ক্বিয়ামত পর্যন্ত সেটা তাদের মধ্যে ফিরিয়ে দেন না।)
◇ টীকাঃ ৩.
অর্থাৎ মন্দ বিদ্'আত যে সম্প্রদায়ের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, সুন্নাতের দিকে প্রত্যাবর্তনের তাওফীক্ব বা সামর্থ্য তাদের অর্জিত হয় না। সুন্নাত হচ্ছে বৃক্ষস্বরুপ এবং ওই সব বিদ্'আত হচ্ছে সেটার জন্য কোদালস্বরুপ। যখন বৃক্ষকে শিকড় থেকে উপড়ে ফেলা হয়, তখন সেগুলো আর তাতে সংযুক্ত হয় না।
[সূত্রঃ মিরআতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, কৃত- মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী আশরাফী বদায়ূনী, বঙ্গানুবাদঃ মাওলানা আব্দুল মান্নান, ১ম খন্ড, পৃ. ১৮৪,১৮৫, হাদীস নং-১৭৯ এর টীকাঃ (১৪৮-১৫০) দ্রব্যষ্ট, প্রকাশনায়ঃ ইমাম আহমদ রেযা রিসার্চ একাডেমী, চট্টগ্রাম।
🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]
إرسال تعليق