আল্লাহর দিকে `ওসীলা' হচ্ছেন রসূলুল্লাহ (ﷺ) আর রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ তা'আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামের দিকে ওসীলা। হচ্ছেন মাশাইখে কিরাম। এ পরম্পরায় আল্লাহ তা'আলা পর্যন্ত ওসীলা ব্যতীত পৌঁছা যেমন অসম্ভব, তেমনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) পর্যন্তও ওসীলা
১. আবদুল ওহাব শা'রানী, আল-মিযান আল-কুবরা, অনুচ্ছেদ :ان القاٸل کیف الوصول, ১/২২, মোস্তফা আল-বাবী, মিসর
২. আল-কুরআন, সুরা আল-যুমার, ৩৯:৩৬
৩. আল-কুরআন, সুরা আল-মায়িদা, ৫:৩৫
ছাড়া পৌঁছা অসম্ভব। অসংখ্য হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) শাফা'আতের অধিকারী। আল্লাহ তা'আলার সমীপে তিনি সুপারিশকারী হবেন আর হুযুরের সমীপে আলিম ও ওলীগণ স্ব-স্ব মুরিদ-ভক্তদের জন্য শাফাআত (সুপারিশ) করবেন। শায়খগণ ইহ-পরকালে, মৃত্যুশয্যা, কবর-হাশর ইত্যাদি অবস্থায় স্বীয় মুরিদগণের সাহায্য করে থাকেন।
মিযানুশ শরীয়ত গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে,
قَد ذَکَرنَا فِي کِتَابِ الأَجوَبَةِ عَن أَٸِمَّةِ الفُقهَاءِ وَالصُّوفِیَّةِ أَنَّ أَٸِمَّةَ الفُقهَاءِ وَالصُّوفِیَّةِ کُلُّهُم یَشفَعُونَ فِي مُقَلِّدِهِم وَیُلاَ حِظُونَ أَحَدَهُم عِندِ ظُلُوعِ رُوحِهِ وَعِندَ سُوَالِ مُنکَرٍ وَنَکِیرٍ لَّهُ وَعِندَ النَّشرِ وَالحَشرِ وَالحِسَابِ وَالمِیزَانِ وَالصِّرَاطِ وَلاَ یَغفِلُونَ عَنهُم فِي مَوقِفٍ مِنَ المَوَاقِفِ.
‘অবশ্যই আমি الاوبة عن اٸمة والفقهاء والصوفیة কিতাবে উল্লেখ করেছি যে, ফকীহ ও সূফীগণ সকলেই স্বীয় অনুসারীদের জন্য শাফাআত করবেন। তাঁরা স্বীয় অনুসারী ও মুরিদগণের মৃত্যুযন্ত্রণাকালে, রূহ বের হওয়া, মুনকার-নকীরের প্রশ্নকাল, হাশর, নশর এবং হিসাব-নিকাশ, মিযানে আমল ওজন করা ও পুলসিরাত অতিক্রম ইত্যাদি অবস্থা অবলোকন করে থাকেন এবং মুরীদের অবস্থানসমূহ থেকে কোন অবস্থান সম্পর্কে গাফিল হন না।”
সুতরাং ওই মুখাপেক্ষীতা ও অসহায়ত্বের চেয়েও বড় নির্বোধ এবং পরকালীন স্বীয় নিরাপত্তা ও শুভ পরিণামের শত্রু কে হতে পারে, যে ওইসব কঠিন সময়ের জন্য সাহায্যকারী প্রস্তুত রাখবে না?
হযরত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
إِستَکثَرُوا مِنَ الإِخوَانِ فَإِنَّ لِکُلِّ مُٶمِنٍ شَفَاعَةُ یَومَ القِیَامَةِ.
‘আল্লাহর অগণিত নেক-বান্দাদের সাথে আত্মীয়তা ও ভালোবাসার যোগসূত্র স্থাপন করো, কারণ কিয়ামত দিবসে প্রত্যেক কামিল মুসলমানকে শাফা'আতের মর্যাদা দান করা হবে।' যেন তার সাথে সম্পর্ক স্থাপনকারীদেরকে সুপারিশ করা হয়।
১. আবদুল ওহাব শা'রানী, আল-মিযান আল-কুবরা, অনুচ্ছেদ: فی بیان جملة من الامثلة المحسوسة, ১/৫৩, মোস্তফা আল-বাবী, মিসর।
২. কানযুল উম্মাল ফী সুনানিল আকওয়াল ওয়া আফ’আল,کتاب الصحبة من قسم الأقوال حرف الصاد, অধ্যায় : ১ম:في الترغیب فیها , হাদীস : ২৪৬২৪২
ধরুন, (আল্লাহর পানাহ্!) যদি তরীকতের দীক্ষা গ্রহণ দ্বারা যদি কোন উপকারই না হয় তবুও কোন তরীকায় দাখিল হওয়ার মাধ্যমে নবী করিম সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত যোগসূত্র স্থাপনের বরকত কি সামান্য ব্যাপার? যে বরকত অর্জন করার জন্য এখনো সম্মানিত আলিমগণ হাদীসের সনদ নিয়ে থাকেন। এমন কি ‘রুতনে হিন্দী' ইত্যাদির মতো (অপ্রসিদ্ধ) সনদসমূহ দ্বারা বরকত অর্জন করে থাকেন।
ইমাম ইবনে হাজর আসকালানী আল-ইসাবাহ ফী তাবীযিস সাহাবায় বলেন,
أُنبِٸتُ عَنِ المُحَدِّثِ الرَّحال جَمَالُ الدِّینِ مُحَمَّدُ بنِ أَحمَدَ بنِ أَمِینِ الأَقشَهرِيِّ نَزِیلُ المَدِینَةِ النَّبَوِّیَّةِ فِي فَوَاٸِدِ رِحلَتِهِ أَخبَرَنَا أَبُو الفَضَلِ وَأَبُو القَاسِمِ بنُ أَبِي عَبدِ اللّٰهِ عَلِيِّبنِ إِبرَاهِیمَ بنِ عَتِیقِ اللِّوَاتِي المَعرُوفِ بِإِبنِ الخَبَّازِ المَهدَوَّيَّ (فَذَکَرَ بِسَنَدِهِ حَدِیثًا مِن خَوَاجَةَ رُتَن) قَالَ: وَذَکَرَ خَوَاجَةَ رَتَنُ بنِ عَبدِ اللّٰهِ أَنَّهُ شَهِدَ مَعَ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ الخَندَقَ وَسَمِعَ مِنهُ هَذَا الحَدِیثَ وَرَجَعَ إِلَي بِلاَدِ الهِندِ وَمَاتَ بهَا وَعَاشَ سَبعَماٸَةِ سَنَةٍ وَمَاتَ سَنَةَ سِتَّ وَتِسعِینَ وَخَمسَمِاٸَةٍ وَقَالَ الأَقشَهرِيُّ وَهَذَا السَّنَدُ یَتَبَرَّكُ بِهِ وَإِن لَّم یُوثِق بِصِحَّتِّهِ.
পরিভ্রমণকারী মুহাদ্দিস জামাল উদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আমীন আশাহরী, তিনি যখন মদীনা শরীফে অবস্থান করছিলেন তখন তাঁকে খবর দেওয়া হলো (যা আমি ফাওয়াইদ-ই রিহলাতে বর্ণনা করেছি। আমাদেরকে আবুল ফযল এবং আবুল কাসিম ইবনে আবু আবদুল্লাহ ইবনে ইবরাহীম ইবনে আতীক আল-লিওয়াতি যিনি ইবনে খাব্বাস মাহদাভী নামে প্রসিদ্ধ। (তিনি হযরত খাজা রতন থেকে স্বীয় সনদে হাদীস বর্ণনা করেছেন,) তিনি বলেন, খাজা রতন ইবনে আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, নিশ্চয় তিনি রসূলুল্লাহ্ (ﷺ)র সাথে খন্দক যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি তার থেকে এ হাদীস শ্রবণ করেছেন এবং হিন্দুস্তানে ফিরে যান আর সেখানে ওফাত বরণ করেন। তিনি ৭০০ বছর জীবিত ছিলেন। ৫৯৬ হিজরীত ওফাতবরণ করেন। আকশাহরী বলেন, ওই সনদ দ্বারা বরকত অর্জন করা যায়,ইবনুন নিজার স্বীয় তারিখে হযরত আনাস ইবনে মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
যদিও তা সহীহ হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায় না।
অতএব, তরীকতের সিলসিলাহ ও আওলিয়া কিরামগণের সনদসমূহের (বরকত ও মর্যাদা)-এর ব্যাপারে কি বলবো? বিশেষত হুযুর পুর নূর সায়্যিদুনা গাউসূল আযম কুতুব আলম ইরশাদ করেছেন,
وَإِنَّ یَدِي عَلَي مُرِیدِي کَالسَّمَاءِ عَلَي الأَرض
‘আমার মুরিদের উপর আমার হাত তেমনি, যেমন যমীনের উপর আসমান রয়েছে।
তিনি আরও ইরশাদ করেছেন,
أَنَا لِکُلِّ مَن عَشَرَ بِهِ مَرکَبُهُ مِن أَصحَابَي وَمُرِیدِي وَمُحِبِّي إِلَي یَومِ القِیَامَةِ آخِذُ بِیَدِهِ
‘যদি আমার মুরিদের পা পিছলে যায়, আমি তার হাত ধরে রক্ষা করবো।”
এজন্য হুযূর গাউসূল আ'যমকে ‘পীর-ই দস্তগীর' (হাত পাকড়াওকারী) বলা হয়।
তিনি আরও বলেন,
لَو انکَشَفَت عَورَةُ لِمُرِیدِي بِالمَغرِبِ وَأَنَا بِالمَشرِقِ لَسَتَرتُهَا.
‘যদি আমার মুরিদ পৃথিবীর পূর্বপ্রান্তে থাকে আর আমি পশ্চিম প্রান্তে থাকি, ঘুমের ঘােরে তার সতর অনাবৃত হলে আমি তা ডেকে দেবো।”
তিনি আরও বলেন,
‘আমাকে একটি দফতর দেওয়া হয়েছে, যাতে কিয়ামত পর্যন্ত আমার মুরিদের নাম লিপিবদ্ধ ছিলো। আমাকে বলা হয়েছে, এ সব আমি তোমাকে প্রদান করলাম।
উপরিউক্ত ইরশাদসমূহ নির্ভরযোগ্য ইমামগণ তাঁর (হযরত গাউসুল আযম) থেকে বর্ণনা করেছেন। আমীন! আল্লাহ্ তা'আলা সর্বজ্ঞ ।
১. আসকলানী, আল-ইসাবাহ ফী তাবীযিস সাহাবা, খণ্ড : ২য়; الراء بعدها الناء, পৃ. ৫৩৬
২. শানুফী, বাহজাতুল আসরার,ذکر فضل آصحابه وبشراهم, পৃ. ১০০
৩. শানুফী, বাহজাতুল আসরার,ذکر فضل آصحابه وبشراهم, পৃ. ১০২
৪. শানুফী, বাহজাতুল আসরার,ذکر فضل آصحابه وبشراهم, পৃ. ৯৯
৫. শাতনুফী, বাহজাতুল আসরার,ذکر فضل آصحابه وبشراهم, পৃ. ৯৯)।
_____________
বায়াত ও খিলাফতের বিধান
মূল :- ইমাম আহমদ রেযা খান বেরেলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি।
অনুবাদ: মুহাম্মদ নেজাম উদ্দীন
🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন