খিলাফতের প্রকারভেদ ও তার বর্ণনা

 

اَلحَمدُ لِلّٰهِ وَالصَّلاَةُ وَالسَّلاَمُ عَلٰی حَبِیبِهِ المُصطَفٰی وَاَلِهِ الکِرَامِ السَّادَاتِ الشُّرفَاءِ وَصَحَبَةِ العِظَامِ وَالأَولِیَاءِ العُرَفَاءِ وَعَلَینَا مَعَهُم دَاٸِمًا أَبَدًا


আল্লাহ তাআলা আউলিয়া কিরামের বরকতে দুনিয়া ও আখিরাতে আমাদেরকে উপকার দান করুন।


খিলাফতের প্রকারভেদ ও তার বর্ণনা।


(নিশ্চয় জেনে রাখুন যে,) হযরাতে আওলিয়া কিরামের প্রচলিত খিলাফত দু’প্রকার : 

১. খিলাফতে আম্মাহ্ (خلافت عامة) 

২. খিলাফতে খাসসাহ্ (خلافت خاصة) 

এক. 'খিলাফতে আম্মাহু’ হচ্ছে, পীর-মুরশিদ স্বীয় নিকটবর্তী ও দূরবর্তী মুরিদগণ থেকে যাকে যাকে এরশাদ ও প্রশিক্ষণদানের উপযুক্ত মনে করবেন স্বীয় খলিফা ও নায়েব (প্রতিনিধি) মনোনীত করবেন এবং তাদেরকে বায়আত গ্রহণের, যিকর, দৈনন্দিন ওযিফা ও আমলসমূহের তালকীন, তরীকতের দীক্ষাগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ ও তরীকত অম্বেষণকারীদের পথপ্রদর্শনের জন্য খিলাফত বা প্রতিনিধিত্বের মর্যাদায় ভূষিত করবেন। এ অর্থে এটা দ্বীনি পদবি। এতে খলিফার সংখ্যা অগণিত ও অসংখ্য হওয়া বৈধ। বস্তুত হুযুর সাইয়্যিদুল আলামীন মুরশিদুল কুল মুহাম্মদ মুস্তফা (ﷺ)র সকল সম্মানিত সাহাবা এ অর্থে হুযুরের খলিফা ছিলেন। আর ওই খিলাফতকেই নবীগণের উত্তরাধিকার (ورثة الأنبیاء) বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে। এবং এ অর্থে ওলামায়ে দ্বীন, শরীয়ত ও তরীকতের কামিল পীর-মুরশিদগণ কিয়ামত পর্যন্ত সকলেই হুযুর আলায়হিস সালাতু ওয়াস্সালাম-এর খলিফাগণের নায়িব (প্রতিনিধি) ও খলীফা। আর এ প্রকার খিলাফত খিলাফতদাতার জাহেরী জীবনের সাথে একত্রিত হয়ে থাকে। যা কারো অজনা নয়।


দুই. 'খিলাফতে খাসসাহ্’ হচ্ছে, স্বীয় মুরশিদে মুরব্বীর ওফাতের পর তাঁর নির্দিষ্ট মসনদের ওপর উপবেশন করা, যে মসনদের ওপর তাঁর জীবদ্দশায় তিনি ব্যতীত কেউ বসতে পারে নি এবং খানকাহ ও দরবারের সকল নিয়ম-শৃঙ্খলা, আয়-ব্যয়, খাদিম নিয়োগ ও বরখাস্ত, দরগাহের ওয়াক্ সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ ও খানকাহর ব্যয়ভার নির্বাহ ইত্যাদি ওই খিলাফতের সাথে সংশ্লিষ্ট। সুতরাং এ অর্থেও এটা দ্বীনি কাজ, যদিও বাহ্যিকভাবে এসব কাজ পার্থিব কাজের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। যেমন, হযরত সায়্যিদুনা আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু, হযরত সায়্যিদুনা আবু বকর সিদ্দিক রাদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর খিলাফত প্রসঙ্গে বলেছেন,


 رَضِیَةُ رَسُولُ اللّٰهِ ﷺ لِدِینِنَا أَفَلاَ نَرضَاهُ لِدُنیَانَا


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে (হযরত আবু বক্কর সিদ্দিককে) আমাদের দ্বীনের জন্য পছন্দ করেছেন, সুতরাং আমরা তাঁকে আমাদের দুনিয়ার জন্য কেন পছন্দ করবো না!


এ প্রকার খিলাফত, ‘ইমামতে কুরবা’র সাথে বেশ সাদৃশ্যপূর্ণ । খিলাফতদাতার জাহেরী জীবনের সাথে এ প্রকার খিলাফত একত্রিত হয় না। এ প্রকার খিলাফতকে ‘সাজ্জাদানশীনী'ও বলা হয়।


 _____________

বায়াত ও খিলাফতের বিধান

মূল :- ইমাম আহমদ রেযা খান বেরেলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি।

অনুবাদ: মুহাম্মদ নেজাম উদ্দীন

 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন