হযরত সায়্যিদুনা শায়খ শাহ্ কিরমানী (رحمة الله) এর শাহ্জাদী যখন বিয়ের উপযুক্ত হলেন ও প্রতিবেশী দেশের বাদশাহর পক্ষ থেকে প্রস্তাব এল তবুও তিনি প্রত্যাখান করলেন আর মসজিদে মসজিদে গিয়ে কোন পুন্যবান যুবকের সন্ধান করতে লাগলেন। এক যুবকের প্রতি তাঁর দৃষ্টি পড়ল, যিনি ভালভাবে নামায আদায় করেন আর খুব কেঁদে কেঁদে দোয়া করেন। শায়খ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: “তুমি কি বিয়ে করেছ?” তিনি না বলে জবাব দিলেন। এরপর জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কি বিয়ে করতে চাও? মেয়ে কুরআনে মজীদ পড়ে, নামায-রোযায় অভ্যস্ত ও উত্তম চরিত্রের অধিকারী।” তিনি বললেন: আমার সাথে কে আত্মীয়তা করবে! শায়খ বললেন: “আমি করব। এ নাও কিছু দিরহাম। এক দিরহামের রুটি, এক দিরহামের তরকারী ও এক দিরহামের সুগন্ধি কিনে নিয়ে এসো।” এভাবে শাহ কিরমানী (رحمة الله) নিজের নেক ভাগ্যবতী মেয়ের বিয়ে তার সাথে দিয়ে দিলেন। কনে যখন বরের ঘরে আসলেন তখন তিনি দেখলেন পানির পাত্রের উপর একটি রুটি রাখা আছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: এ রুটি কেন? বর বললেন: “এটা গতকালের বাসি রুটি, আমি ইফতার করার জন্য রেখেছি।” একথা শুনে তিনি ফিরে যেতে প্রস্তুত হলেন। এটা শুনে বর বললেন: “আমার জানা ছিল যে, শায়খ শাহ কিরমানী (رحمة الله)এর শাহজাদী আমার মত গরীবের ঘরে থাকতে পারবেন না।কনে বললেন: “আমি আপনার দারিদ্র্যতার কারণে নয় বরং এজন্য ফিরে যাচ্ছি যে, আল্লাহ্ তাআলার উপর আপনার বিশ্বাস খুবই দূর্বল, তাইতো রুটিকে সঞ্চয় করে রেখেছেন।” আমিতো আমার পিতার জন্য অবাক হচ্ছি যে, তিনি আপনাকে সৎচরিত্রের অধিকারী ও পূণ্যবান কিভাবে বললেন! বর একথা শুনে খুবই লজ্জিত হয়ে বললেন: এ দূর্বলতার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। কনে বললেন: আপনার অপারগতা আপনি জানেন, তবে আমি এমন ঘরে থাকতে পারি না, যেখানে এক বেলার খাবার জমা রাখা হয়। এখন হয়তো আমি থাকব নয়তো রুটি।বর সাথে সাথে গিয়ে রুটি দান করে দিলেন আর এরূপ দরবেশচরিত্রের অসাধারণ শাহজাদীর স্বামী হতে পেরে আল্লাহ্ তাআলার শোকর আদায় করলেন। (রাওযুর রিয়াহীন, ১০৩ পৃষ্ঠা)
আল্লাহ্ তাআলার রহমত তাঁদের উপর বর্ষিত হোক এবং তাঁদেরসদকায় আমাদের ক্ষমা হোক।
প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আপনারা দেখলেন তো!তাওয়াক্কুলকারী (আল্লাহ্ তাআলার উপর ভরসা করা) বান্দাদের কি চমৎকার কার্যকলাপ। শাহজাদী হওয়া সত্ত্বেও এমন জবরদস্ত তাওয়াক্কুল যে, কালকের জন্য খাবার জমা রাখা তার পছন্দ নয়! এসব কিছু পরিপূর্ণ আস্থার বাহার, যে আল্লাহ্ আজকে খাওয়ালেন তিনি কালকেও নিশ্চয় খাওয়াতে সক্ষম। পশু-পাখী ইত্যাদি কিছু কি জমা করে রাখে! এক বেলা খাওয়ার পর অন্য বেলার জন্য জমা রাখা তাদের বৈশিষ্ট্য নয়। মুরগীর তাওয়াক্কুল খেয়াল করুন। সেটাকে পানি দিন। দেখবেন যতটুকু প্রয়োজন তা পান করে নেয়ার পর পেয়ালায় পা রেখে অবশিষ্ট পানি ফেলে দেবে। মূলতঃ এটা হল নীরব মুবাল্লিগা! এটা আমাদের উপদেশ দিচ্ছে যে, “হে লোকেরা! সারা বছরের জন্য জমা করে রাখা সত্ত্বেও তোমাদের তৃপ্তি আসেনা! অপরদিকে আমি একবার পান করার পর দ্বিতীয়বারের জন্য চিন্তামুক্ত হয়ে যাই যে, যিনি এখন পানি পান করিয়েছেন, তিনি পরেও পান করাবেন।”
_______________
কিতাব : ফয়যানে সুন্নাত
লেখক : আমীরে আহলে সুন্নাত মাওলানা মুহাম্মদ বিলাল মুহাম্মদ ইলইয়াস আত্তার কাদেরী রযবীয়া (দা.)
সূত্রঃ 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan
إرسال تعليق