তরমুজ বিক্রেতা


প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! ওলামা ও আল্লাহর ওলি মুসলমানের যে কোন গোত্র ও সকল পেশায় নিয়োজিতদের মধ্য থেকে হতে পারে এবং কিয়ামত পর্যন্ত হতে থাকবে। আল্লাহর অনুগ্রহ কোন বংশ ও কোন গোত্রের সাথেই নির্দিষ্ট নয়। আল্লাহ্ যাকে চান, আপন রহমত দান করেন।


সমগ্র পৃথিবীতে অসংখ্য ওলী সর্বদা বিদ্যমান থাকেন আর তাঁদেরই বরকতে দুনিয়ার ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খলভাবে চলে।যেমন হযরত সায়্যিদুনা শাহ আবদুল আযীয মুহাদ্দিসে দেহলভী (رحمة الله) কে কোন ব্যক্তি অভিযোগ করলেন, “হুযুর! আজকাল দিল্লীর ব্যবস্থাপনা “খুবই দূর্বল” হওয়ার কারণ কি? বললেন: “আজকাল এখানের সাহিবে খিদমত (অর্থাৎ-দিল্লীর আবদাল) দূর্বল।জিজ্ঞাসা করলেন: “কোন সাহেব?” বললেন: “অমুক ফল বিক্রেতা, যিনি অমুক বাজারে তরমুজ বিক্রি করেন।” প্রশ্নকারী ব্যক্তি তাঁর নিকট গেলেন এবং তরমুজ কেটে কেটে ও পরীক্ষা করে করে সবগুলো পছন্দ হয় না বলে নষ্ট করে ঝুড়িতে রেখে দিলেন। এরূপ লোকসান কারীকেও তিনি (আবদাল) কিছু বললেন না। কিছুদিন পরে দেখা গেল, ব্যবস্থাপনা একেবারে ঠিক চলছে আর অবস্থাও পরিবর্তন হয়ে গেল। তখন ঐ ব্যক্তি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন: “দায়িত্বে কে আছেন?” শাহ সাহেব বললেন: “এক শরবত বিক্রেতা, যিনি চান্দানী চৌরাস্তায় পানি পান করায় তবে এক গাসের মূল্য এক চাদাম (তখনকার সময় চাদাম সবচেয়ে ছোট পয়সা ছিল অর্থাৎ-এক পয়সার এক চতুর্থাংশ) নেন। ইনি এক চাদাম নিয়ে গেলেন আর তাঁকে দিয়ে তাঁর কাছে পানি চাইলেন। তিনি পানি দিলে তিনি (যে কোন বাহানা করে) পানি ফেলে দিলেন এবং আরেক গ্লাস চাইলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: “চাদাম আর আছে?” বললেন: “নেই।” তিনি একটি থাপ্পড় মারলেন আর বললেন: “আমাকে কি তরমুজ বিক্রেতা মনে করেছ?” (সাচ্চী হিকায়াত, ৩য় খন্ড, ৯৭ পৃষ্ঠা, মাকতাবায়ে জামে নূর, দিল্লী)


আল্লাহ্ তাআলার রহমত তাঁদের উপর বর্ষিত হোক এবং তাঁদেরসদকায় আমাদের ক্ষমা হোক।

_______________

কিতাব : ফয়যানে সুন্নাত

লেখক : আমীরে আহলে সুন্নাত মাওলানা মুহাম্মদ বিলাল মুহাম্মদ ইলইয়াস আত্তার কাদেরী রযবীয়া (দা.)

সূত্রঃ 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan


Post a Comment

أحدث أقدم