যখন শরীয়তের আহকাম (বিধি-বিধান)-এর বেলায় এ অবস্থা, তখন একথা সুস্পষ্ট হলো যে, তরীকতের নিগূঢ় রহস্য ও মারিফাতের প্রকৃত অবস্থা (হাকীকত)-এর ক্ষেত্রে কামিল পীর-মুরশিদের সাহায্য ছাড়া নিজে নিজে কুরআন ও হাদীস থেকে হুকুম বের করা কিরূপ অসাধ্য ব্যাপার। তরীকত ও মারিফতের এ পথ অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং পীর মুরশিদের আলো ব্যতীত এ পথ অত্যন্ত ঘোর অন্ধকার। এ পথের অনেক বড় বড় অভিযাত্রীকে অভিশপ্ত শয়তান এমনভাবে পথভ্রষ্ট করেছে যে, জমিনের নিম্নস্তরে পৌছিয়ে দিয়েছে। সুতরাং কামিল রাহবার (পথপ্রদর্শন) ছাড়া এ পথে চলা এবং নিরাপদে পথ গমণ করার দাবি কী দুঃসাহস!
সম্মানিত ইমামগণ বলেছেন, কোন ব্যক্তি যতো বড় আলিম, যাহিদ ও কামিল হোক না কেন, তার উপর ওয়াজিব হলো কোন ওলী-ই আরিফকে নিজ মুরশিদ হিসেবে গ্রহণ করা। এ ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই।
মিযানুশ শরীয়ত গ্রন্থে ইরশাদ হয়েছে,
فَعُلِمَ مِن جَمِیعِ مَا قَرَّرنَاهُ وُجُوبَ إِتِّخَاذِ الشَّیخِ لِکُلِّ عَلِمَ طَلَبَ الوُصُولَ إِلَي شُهُودِ عَینِ الشَّرِیعَةِ الکُبرَاي وَلَوِ اجمَعَ جَمِیعُ أَقرَانِهِ عَلَي عِلمِهِ وَعَمَلِهِ وَزُهدِهِ وَوَرعِهِ وَلَقَّبُوهُ بِالقُطُبِیَّةِ الکُبرَي فَإِنَّ لِطَرِیقِ القَومِ شُرُوطً لاَ یَعرِفُوهَا إِلاَّ المُحُقِّقُونَ مِنهُم دُونَ الدَّخِیلِ فِیهِم بِالدَّعَوَی وَالأَوهَامِ وَرُبَمَا کَانَ مَن لَقَّبُوهُ بِالقُطُبِیَّةِ لاَ یَصلِحُ أَن یَکُونَ مُرِیدًا لِقُطُبٍ.
১. আবদুল ওহাব শা'রানী, আল-মিযান আল-কুবরা, অনুচ্ছেদ :
في بیان استحاله خروج شیٸ,
১/৪৬,
মোস্তাফা আল-বাবী, মিসর।
‘অতএব জানা গেলো যে, প্রত্যেক আলিম, যে মহান শরীয়তের নিগূঢ় তথ্য অবলোকনের মর্যাদায় পৌঁছতে চান, তার জন্য কোন কামিল শায়খ (পীর-মুরশিদ)-এর শিষ্যত্ব গ্রহণ করা ওয়াজিব। যদিও তার যুগের সকল লোক তার ইলম, আমল, যুহদ-পরহেযগারীর উপর ঐক্যমত পোষণ করে এবং এমনকি যদি তাকে কুতুবিয়্যাত-ই কুবরার উপাধিও দেওয়া হয়। কারণ, এ সম্প্রদায় (তাসাউফপন্থি)-এর পথের কিছু শর্তাবলী রয়েছে, যেগুলো ওই পথের তাত্ত্বিক অনুসন্ধানীগণ ছাড়া জানে না। না ওই সব লোক জানে, যারা শুধু স্বপ্রবৃত্তিতে ওই পথে অনুপ্রবেশ করেছে। অনেক সময় যাকে লোকেরা কুতুব' হওয়ার উপাধি দান করেছে, সে কোন প্রকৃত কুতুব’-এর মুরিদ হওয়ার উপযুক্ত নয়।
সুতরাং তরীকতের অনুশীলনের মাধ্যমে মহান রবের প্রকৃত মারিফাত অর্জন করতে ইচ্ছুক লোকের জন্য পীর-মুরশিদের দীক্ষা গ্রহণ করা ওয়াজিব। অকর্মণ্য লোক যদি তরীকতের পথে চলতে নাও চাই তবুও ওসীলা গ্রহণের জন্য হলেও তার পীর মুরশিদের প্রয়োজন রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা তো স্বীয় বান্দাদের জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
أَلَیسَ اُللّٰهُ بِکَافٍ عَبدَه
‘আল্লাহ কি তার বান্দাদের জন্য যথেষ্ট নয়?
তারপরও মহান আল্লাহ বলেন,
وَاَبتَغُوا إِلَیهِ الوَسِیلَةَ
‘আল্লাহর পথে ওসীলা তালাশ কর।
_____________
বায়াত ও খিলাফতের বিধান
মূল :- ইমাম আহমদ রেযা খান বেরেলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি।
অনুবাদ: মুহাম্মদ নেজাম উদ্দীন
🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন