যে সব নারী-পুরুষের মধ্যে বিবাহ-শাদী জায়েয, তাদের পরস্পরের মধ্যে পর্দা করা ফরয। একজন অপর জনের প্রতি দৃষ্টিপাত করা হারাম।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন-
لَا يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا كَانَ ثالثهما الشَّيْطَان
কোন (প্রাপ্ত বয়স্ক) নারী-পুরুষ নির্জনে একত্রিত হবে না, কারণ তখন তাদের মধ্যে তৃতীয় জন হবে শয়তান।২১৬
২১৬.ইমাম তিরমিযী র. (২৭৯ হি.) জামে তিরমিযী, সূত্র. মিশকাত; পৃ.২৬৯
বর্তমান মুসলিম সমাজের অভিভাবকরা নিজেদের যুবতী কন্যাদেরকে যুবকদের সাথে সিনেমা হলে, সমুদ্র সৈকতে, চাইনিজ রেঁস্তোরায় কিংবা কোনো আত্মীয়ের বাড়ীতে নি:সংকোচ চিত্তে যাওয়া-আসার অনুমতি দেন। অভিভাবকদের দৃষ্টিতে এরা কচি মনে হলেও বয়স ও মনের কুমন্ত্রণার দিক দিয়ে কিন্তু তারা কচি নয়। বর্তমানে আরো প্রত্যেক যুবক-যুবতীর হাতে রয়েছে মোবাইল যা সকল অনিষ্ট ও চরিত্র হননের বৃহৎ হাতিয়ার। তার সঙ্গে রয়েছে হাদিসের ভাষ্য মতে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ অদৃশ্য শক্তিশালী মানবের চিরশত্রু অভিশপ্ত শয়তান। সুতরাং তালতো ভাই, খালাতো ভাই, চাচাতো ভাই, ক্লাসভাই কিংবা বয়ফ্রেন্ড- এদের কারো সাথে অবাধ মেলা-মেশা করা সম্পূর্ণ হারাম।
হযরত ইবনে আব্বাস (رضي الله عنه) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ননা করেন
-لاَ يَخْلُوَنَّ رَجُلٌ بِامْرَأَةٍ إِلَّا ذُو مَحْرَمٍ
মাহরাম ব্যতিত কোনো পুরুষ কোন নারীর সাথে নির্জনে একত্রিত হবেনা। ২১৭
২১৭.ইমাম বুখারী র. (২৫৬ হি.) সহীহ বুখারী, খণ্ড-২,পৃ-২৮৭
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন,
-اذا استطعرت المراة فمرت على القوم – ليجدوا ريحها فهى زانية
–নারী সুগন্ধি ব্যবহার করে মানুষের পাশ দিয়ে চলা-ফেরা করে এই উদ্দেশ্যে যে, লোকেরা তার সুগন্ধি লাভ করবে তাহলে সেই নারী ব্যভিচারিণী বলে গণ্য হবে।২১৮
২১৮.কানযুল উম্মাল, খণ্ড. ১৬, পৃ. ১৫৯
দেবর, ভাসুরকেও নারীরা দেখা দিতে পারবেনা বরং তাদের থেকেও পর্দা করতে হবে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন-
إِيَّاكُمْ وَالدُّخُولَ عَلَى النِّسَاءِ فَقَالَ: رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ: يَا رَسُولَ اللهِ أَفَرَأَيْتَ الْحَمْوَ؟ قَالَ: الْحَمْوُ الْمَوْتُ
হে পুরুষগণ ! তোমরা বেগানা নারীদের ঘরে প্রবেশ থেকে বিরত থাক। একজন সাহাবী বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! স্ত্রীলোকের শ্বশুরালয়ের পুরষদের-দেবর-ভাসুর সম্পর্কে আপনার কি মতামত ? অর্থাৎ তাদেরকে কি দেখা দিতে পারবে ? উত্তরে তিনি বললেন দেবর তো মৃত্য স্বরূপ। অর্থাৎ দেবর তো ভাবীর জন্য আরো মারাত্মক। ২১৯
২১৯.বুখারী ও মুসলিম, সৃত্র. মিশকাত; পৃ.২৬৮
হাদিসের বাস্তবতা
আমরা তখন ছাত্র, জামেয়ার হোস্টেলে অবস্থান করতাম। একদিন দেখলাম- একজন মহিলা ও একজন যুবক আমাদের কক্ষের সামনে কাকে যেন খুঁজছে। জিজ্ঞাস করে জানতে পারলাম তাওবা করার জন্য এসেছে। কি ব্যাপার জিজ্ঞেস করলে উত্তরে মহিলটি বলল, আমার স্বামী বিদেশে থাকেন। আমার পাশে ইনি আমার দেবর। আমার দেবরের সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ আমার অবৈধ সম্পর্ক চলে আসছে। এখন আগামী কাল আমার স্বামী আসবেন। তাই একটু তাওবা করার জন্য এসেছি। আমরা তখন তাদেরকে আমাদের একজন মুফতি সাহেবের কাছে প্রেরণ করেছি। এই হলো সমাজে প্রচলিত হাজারো ঘটনার একটি। এ কারণেই ভবিষ্যত দ্রষ্টা নবী করিম (ﷺ) দেবরকে মৃত্যুর ন্যায় ভয়ানক বলে আখ্যা দিয়েছেন।
___________
কিতাব: নন্দিত নারী
লেখক: হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ওসমান গণি
আরবি প্রভাষক, জামেয়া আহমাদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা, ষোলশহর, চট্টগ্রাম।
সূত্রঃ 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন