এ সবকিছু হারাম, কিন্তু বক্ষমান আয়াতে দেখা ও ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার কথা উল্লেখিত হয়েছে। কারণ চোখে দেখা হলো পাপের সূচনা আর ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া হলো এর পরিণতি। এখানে প্রথম ও শেষটা উল্লেখ করে এ উভয়ের মাঝখানের সবকিছু হারামের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নারী-পুরুষ ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার প্রথম ধাপ হলো দৃষ্টি। তাই এই অপকর্মের সূচনাকেই বন্ধ করার উদ্দেশ্যে এখানে দৃষ্টি সংযত রাখার কথা বলা হয়েছে।
উপরিউক্ত আয়াতে নারীদের দৃষ্টি ও লজ্জাস্থান সংযত ও হেফাযত করতে বলা হয়েছে কিন্তু এর পূর্বের আয়াতে পুরুষদের দৃষ্টি ও যৌনাঙ্গের হেফাযত করার কথা বলা হয়েছে। কারণ ব্যভিচারের সূচনা নারী-পুরুষ উভয়ের পক্ষে হতে পারে। হযরত হাসান বসরীর মুরসালরূপে বর্ণনা করেন-
قَالَ: بَلَغَنِي أَنَّ رَسُولَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:لَعَنَ اللَّهُ النَّاظِرَ وَالْمَنْظُورَ إِلَيْهِ –
আমার কাছে বিশ্বস্ত সূত্রে পৌছেছে যে, নিশ্চয় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)ইরশাদ করেন, যে অন্যের প্রতি দৃষ্টি দিবে এবং যার দিকে দৃষ্টি পতিত হবে উভযের প্রতি আল্লাহ লা’নাত করেন। ২০২
২০২.ইমাম বায়হাকীর (৪৫৮ হি.) শোয়াবুল ঈমান, সূত্র. মিশকাত; পৃ. ২৭০
হযরত বুরাইদা (رضي الله عنه) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একদা হযরত আলী (رضي الله عنه) কে বললেন
يَا عَلِيُّ لَا تُتْبِعِ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ فَإِنَّ لَكَ الْأُولَى وَلَيْسَتْ لَكَ الْآخِرَةُ
হে আলী ! হঠাৎ একবার দৃষ্টির পর দ্বিতীয়বার দৃষ্টি দিও না, কেননা তোমার প্রথম বার ক্ষমাযোগ্য কিন্তু দ্বিতীয়বার ক্ষমাযোগ্য নয়। ২০৩
২০৩.আহমদ, তিরমিযী, দারেমী, সূত্র. মিশকাত; পৃ. ২৬৯
হযরত জারির ইবনে আব্দুল্লাহ (رضي الله عنه) বলেন,
-سَأَلَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ نَظَرِ الْفُجَاءَةِ فَأمرنِي أَن أصرف بَصرِي –
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করলাম যদি কারো প্রতি হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে যায় তখন কি করব? উত্তরে তিনি আমাকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়ার আদেশ করলেন।২০৪
২০৪.ইমাম মুসলিম রা. (২৬১ হি.), সহীহ মুসলিম, সূত্র. মিশকাত; পৃ. ২৬৮
হযরত আবু উমাম (رضي الله عنه) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন-
قَالَ: مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَنْظُرُ إِلَى مَحَاسِنِ امْرَأَةٍ أَوَّلَ مَرَّةٍ ثُمَّ يَغُضُّ بَصَرَهُ إِلَّا أَحْدَثَ اللَّهُ لَهُ عِبَادَةً يَجِدُ حلاوتها –
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন, কোন স্ত্রী লোকের সৌন্দর্য্যরে প্রতি যদি কোন মুসলমান পুরুষের প্রথম দৃষ্টি পড়ে যায় অতঃপর সাথে সাথে সে তার দৃষ্টি অবনত করে ফেলে তাহলে আল্লাহ তার জন্য এমন এক ইবাদতের সুযোগ সৃষ্টি করে দেবেন যেই ইবাদতের স্বাদ সে পায়। ২০৫
২০৫.ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল র, (২৪১ হি.), মুসনাদে আহমদ, সৃত্র. মিশকাত; পৃ. ২৭০
হযরত উম্মে সালমা (رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, একদা তিনিও হযরত মাইমূনা (رضي الله عنه) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)'র কাছে ছিলেন। হঠাৎ অন্ধ সাহাবী হযরত উম্মে মাকতূম (رضي الله عنه) তাঁর কাছে আগমন করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করলেন,
- احْتَجِبَا مِنْهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَيْسَ هُوَ أَعْمَى لَا يُبْصِرُنَا؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَفَعَمْيَاوَانِ أَنْتُمَا؟ أَلَسْتُمَا تُبْصِرَانِهِ؟
তোমরা তার থেকে পর্দা কর। আমি বললাম হে ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সে কি অন্ধ নয় ? সে তো আমাদেরকে দেখতে পাচ্ছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা কি অন্ধ ? তোমরা কি তাকে দেখছ না ? ২০৬
২০৬.আহমদ, তিরমিযী ও আবু দাউদ, সূত্র. মিশকাত; পৃ.২৬৯
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেন-
فالعينان زِنَاهُمَا النَّظَرُ وَالْأُذُنَانِ زِنَاهُمَا الِاسْتِمَاعُ وَاللِّسَانُ زِنَاهُ الْكَلَامُ وَالْيَدُ زِنَاهَا الْبَطْشُ وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الْخُطَا وَالْقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ وَيُكَذِّبُهُ
চোখের যিনা হলো (অবৈধ) দৃষ্টিদান, কানের যিনা হলো (হারাম) কথা বার্তা শ্রবণ করা, মুখের যিনা হলো (হারাম) কথা-বার্তা বলা, হাতের যিনা হলো ( হারাম বস্তৃ) ধরা এবং পায়ের যিনা হলো (হারাম কাজের প্রতি) চলা। তারপর মনে (অপকর্মের প্রতি) আকাক্সক্ষা জম্মায়(এটা মনের যিনা), এরপর লজ্জাস্থান সেটাকে কার্যে পরিণত করে (এটাই হচ্ছে যিনার সর্বশেষ পর্যায়) অথবা তা প্রত্যাখ্যান করে। ২০৭
২০৭.বুখারী ও মুসলিম, সূত্র. রিয়াদুস সালেহীন, পৃ. ৬১১, হাদিস নং ১৬২২২
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত আসমা (رضي الله عنه) কে সন্বোধন করে বলেন-
يَا أَسْمَاءُ، إِنَّ الْمَرْأَةَ إِذَا بَلَغَتِ الْمَحِيضَ لَمْ تَصْلُحْ أَنْ يُرَى مِنْهَا إِلَّا هَذَا وَهَذَاগ্ধ وَأَشَارَ إِلَى وَجْهِهِ وَكَفَّيْهِ –
হে আসমা ! নিশ্চয় মহিলা বালেগ হলে তার এই এই অঙ্গ ব্যতিত অন্য কোন অঙ্গ প্রদর্শন জায়েয নেই। তিনি এ সময় তার চেহারা মোবারক ও হাতের কব্জি মোবারকের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। ২০৮
২০৮.ইমাম আবু দাউদ র. (২৭৫ হি.) সুনানে আবু দাউদ।
___________
কিতাব: নন্দিত নারী
লেখক: হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ওসমান গণি
আরবি প্রভাষক, জামেয়া আহমাদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা, ষোলশহর, চট্টগ্রাম।
সূত্রঃ 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন