সারদারাবাদ (ফয়সালাবাদ)-এর আনারকলীর অধিবাসী হাকীম মুহাম্মদ আশরাফ কাদিরী চিশতী লিখেন যে, “আমার বিয়ে হওয়ার পর অনেকদিন পর্যন্ত কোন সন্তান হয়নি। সন্তান লাভের জন্য ঔষধপত্র ব্যবহার করেছি, দোয়া প্রার্থনা করি ও ওযীফা সমূহ পাঠ করি কিন্তু আমার উদ্দেশ্য সফল হল না। অবশেষে হযরত মুহাদ্দিসে আযম পাকিস্তান হযরত মাওলানা সর্দার আহমদ (رحمة الله) এর বরকতময় খিদমতে সন্তান থেকে বঞ্চিত থাকার আলোচনা করে দোয়া প্রত্যাশী হলাম। এদিন গুলোতে আমার প্রতিবেশী আবদুল গফুর চৌধুরী আমাকে বললেন: তিনদিন থেকে একজন বুযুর্গকে আমি স্বপ্নে দেখছি। দেখি তাঁর নিকটে আপনি দাঁড়ানো অবস্থায় রয়েছেন আর আপনার কোলে চাঁদের ন্যায় সুন্দর একটি ছেলে রয়েছে। ঐ বুযুর্গ বললেন: “হাকীম সাহেব! একটি ছাগল সদকা করুন, যা থেকে পঙ্গুরাও যেন ভাগ পায়।” সুতরাং আমি হযরত মুহাদ্দিসে আযম পাকিস্তান (رحمة الله) এর নিকট স্বপ্নের কথা বললাম আর আরয করলাম: আমার মনে হচ্ছে, একটি ছাগল জবাই করে জামিয়া রযবীয়্যার লঙ্গর খানায় দিয়ে দেব। তিনি (رحمة الله) বলেন: “হাকীম সাহেব! এখানেতো আল্লাহ্ তাআলার দয়া রয়েছে, ছাগল আসতেই থাকে।এটা উত্তম হবে যে, জুমার দিন যেন ঘরে মাংস ও রুটি তৈরী করা হয় আর জুমার নামাযের পর খতম শরীফ পড়ানো হয়, রান্নাকৃত মাংস রুটিসহ সেখানে গরীবদেরকে যেন বন্টন করা হয়। তোমরা স্বামী-স্ত্রীও খাও আর তা থেকে সেখানকার পঙ্গুরাও যেন ভাগ পায়।”এটা উল্লেখ্য যে, স্বপ্নের আলোচনা করার সময় আমি পঙ্গুদের ব্যাপারে বুযুর্গের বাণীটি মুহাদ্দিসে আযম (رحمة الله)কে আরয করিনি। তিনি (رحمة الله) নিজেই তা বর্ণনা করেছেন আর তা তাঁর জীবন্ত কারামত ছিল যে, গায়েবের কথা বলে দিলেন। তাঁর (رحمة الله) কথা মত কাজ করা হল। এরপর আল্লাহ্ তাআলা নিজ দয়া ও অনুগ্রহে এবং হযরত মুহাদ্দিসে আযম (رحمة الله) এর দোয়ার ওসিলায় আমাকে ছেলে দান করলেন। (হায়াতে মুহাদ্দিসে আযম, পৃষ্ঠা ২৬০ থেকে সংকলিত)।
_______________
কিতাব : ফয়যানে সুন্নাত
লেখক : আমীরে আহলে সুন্নাত মাওলানা মুহাম্মদ বিলাল মুহাম্মদ ইলইয়াস আত্তার কাদেরী রযবীয়া (দা.)
সূত্রঃ 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন