❏ দরসে হাদীসঃ [হাদীস নং- (৮৬৯)]
○ অধ্যায়ঃ [নবী করিম [ﷺ]-এর উপর দুরুদ শরীফ পাঠ ও দুরুদ শরীফের ফযীলত]
[ﻭﻋﻦ ﺍﺑﻰ ﺑﻦ ﻛﻌﺐ ﻗﺎﻝ ﻗﻠﺖ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻧﻰ ﺍﻛﺜﺮ ﺍﻟﺼﻠﻮﺓ ﻋﻠﻴﻚ ﻓﻜﻢ ﺍﺟﻌﻞ ﻟﻚ ﻣﻦ ﺻﻠﻮﺗﻰ ﻓﻘﺎﻝ ﻣﺎﺷﺌﺖ ﻗﻠﺖ ﺍﻟﺮﺑﻊ ﻗﺎﻝ ﻣﺎﺷﺌﺖ ﻓﺎﻥ ﺯﺩﺕ ﻓﻬﻮ ﺧﻴﺮ ﻟﻚ ﻗﻠﺖ ﺍﻟﻨﺼﻒ ﻗﺎﻝ ﻣﺎﺷﺌﺖ ﻓﺎﻥ ﺯﺩﺕ ﻓﻬﻮ ﺧﻴﺮ ﻟﻚ ﻗﻠﺖ ﻓﺎﻟﺜﻠﺜﻴﻦ ﻗﺎﻝ ﻣﺎﺷﺌﺖ ﻓﺎﻥ ﺯﺩﺕ ﻓﻬﻮ ﺧﻴﺮ ﻟﻚ ﻗﻠﺖ ﺍﺟﻌﻞ ﻟﻚ ﺻﻼﺗﻰ ﻛﻠﻬﺎ ﻗﺎﻝ ﺍﺫﺍ ﻳﻜﻔﻰ ﻫﻤﻚ ﻭﻳﻜﻔﺮﻟﻚ ﺫﻧﺒﻚ . ] - ( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻯ )
হযরত উবাই ইবনে কা'ব [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ]) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আরয করলাম, "হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার প্রতি বেশী পরিমাণে দুরুদ শরীফ পাঠ করি। সুতরাং দুরুদ (এর জন্য সময়) ততটুকু নির্দিষ্ট করবো?" (টীকাঃ ১) এরশাদ করলেন- "যতোটুকু চাও; অবশ্য, যদি দুরুদ (পাঠের সময়) বৃদ্ধি করো, তবে তা তোমার জন্য উত্তম।" আমি বললাম- "অর্ধেক সময় (নির্ধারণ করবো)।" এরশাদ করলেন- "যতোটুকু চাও; অবশ্য, যদি বৃদ্ধি করো, তবে তা তোমার জন্য উত্তম।" আমি বললাম- "দু'-তৃতীয়াংশ।" হুযূর এরশাদ করলেন- "যতোটুকু চাও; অবশ্য, যদি বৃদ্ধি করো, তবে তা তোমার জন্য উত্তম।" (টীকাঃ ২) আমি বললাম- "আমি পুরো (সময়)টাই দুরুদ পাঠ করবো।" (টীকাঃ ৩) তখন হুযূর এরশাদ করলেন, "তবে তা তোমার সকল দুঃখ (লাঘবে) যথেষ্ট হবে এবং তোমার গুনাহ মুছে দেবে।" (টীকাঃ ৪) [তিরমিযী]
□ উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখায় বলা হয়েছেঃ
___
◇ টীকাঃ ১.
কতেক ব্যাখ্যাকার বলেছেন যে, এখানে 'সালাত' দ্বারা 'দো'আ' (প্রার্থনা) বুঝানো উদ্দেশ্য। প্রশ্নের উদ্দেশ্য এ যে, হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্য সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হোক- আমার সমস্ত দুরুদ ও ওযীফার মধ্যে দুরুদ কী পরিমাণ পড়বো, আর অবশিষ্ট যিকর-আযকার ও দো'আ কতটুকু পড়বো।
◇ টীকাঃ ২.
অর্থাৎ অতিরিক্ত দুরুদ পড়া নফল আর নফলকে নির্ধারিত করার অধিকার থাকে বান্দার।
বর্ণনাকারী এক-চতুর্থাংশ অথবা অর্ধেক বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে 'দৈনন্দিন ওযীফাগুলোর দু'-তৃতীয়াংশ কিংবা অর্ধেক সময় দুরুদ শরীফ পড়বো আর অবশিষ্ট সময়ে অন্যান্য ওযীফা পড়বো।' উত্তরে এরশদা করা হলো যে, দুরুদ যতো বৃদ্ধি করা হয়, ততোই উত্তম।
◇ টীকাঃ ৩.
অর্থাৎ সমস্ত দৈনন্দিন ওযীফা ও 'দো'আ ছেড়ে দেবো, এ সবের স্থলে দুরুদই পড়বো। কেননা, নিজের জন্য প্রার্থনা করার চেয়ে উত্তম হচ্ছে সব সময় আপনাকে দো'আর উপঢৌকন দেওয়া।
◇ টীকাঃ ৪.
অর্থাৎ যদি তুমি এরুপ করে নাও, তবে তোমার দ্বীন ও দুনিয়া উভয়ের জন্য যথেষ্ট হবে। দুনিয়ার দুঃখ-কষ্ট দূরীভূত হয়ে যাবে আর পরকালে গুনাহ্'র ক্ষমা হয়ে যাবে। এ কারণে বিজ্ঞ আলিমগণ যে কেউ সমস্ত দো'আ ও ওযীফা ছেড়ে দিয়ে সবসময় অধিক পরিমাণে দুরুদ শরীফ পড়তে থাকে, তবে সে চাওয়া ছাড়াই সব কিছু লাভ করবে। আর দ্বীন ও দুনিয়ার যাবতীয় অসুুবিধার আপসে সমাধান হয়ে যাবে।
এ হাদীসগুলো দ্বারা বুঝা গেলো যে, হুযূরের উপর দুরুদ পড়া মূলতঃ মহান রবের দরবারে নিজের জন্য ভিক্ষা চাওয়া। আমাদের ভিক্ষুকরা আমাদের সন্তানদেরকে দো'আ করে আমাদের নিকট ভিক্ষা চায়। আর আমরা হলাম রবের ভিক্ষুক; তাঁর হাবীবকে দো'আ দিয়ে তাঁর নিকট ভিক্ষা কামনা করো। আমাদের দুরুদ দ্বারা হুযূর [ﷺ]'র উপকার হয় না; বরং আমাদের নিজেদেরই উপকার হয়। এ আলোচনা দ্বারা চকড়ালভীদের ওই আপত্তির অবসান ঘটলো, যা তারা উপস্থাপন করে। তা হচ্ছে- 'যখন হুযূর [ﷺ]'র উপর প্রতি মুহূর্তে রহমত বর্ষিত হচ্ছে, তখন তাঁর জন্য রহমতের প্রার্থনা করার উপকার কি?'
শায়খ আব্দুল হক্ব (মুহাদ্দিস দেহলভী) [ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ] বলেন, "আমাকে আব্দুল ওহাব মুত্তাক্বী যখনই মদীনা মুনাওয়ারাহ্ হতে বিদায় সম্ভাষণ জানাতে আসতেন, তখন বলকেন যে, হজ্জের সফরে ফরয কার্যাদির পর দুরুদ শরীফের চেয়ে বড় কোন দো'আ নেই। নিজের পুরো সময়টা দুরুদ শরীফ দ্বারা পরিবেষ্টন করে রাখো, আর নিজেকে দুরুদের রং-এ রাঙিয়ে নাও। ;
● পবিত্র হাদীস শরীফ এর ব্যাখ্যা সম্বলিত টীকা পেতে সার্চ করুনঃ
f/Ishq-E-Mustafa ﷺ
[সূত্রঃ মিরআতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, কৃত- মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী]
❏ দরসে হাদীসঃ [হাদীস নং- (৮৭৩)]
○ অধ্যায়ঃ [নবী করিম [ﷺ]-এর উপর দুরুদ শরীফ পাঠ ও দুরুদ শরীফের ফযীলত]
[ﻭﻋﻦ ﻋﻠﻰ ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﷺ ﺍﻟﺒﺨﻴﻞ ﺍﻟﺬﻯ ﻣﻦ ﺫﻛﺮﺕ ﻋﻨﺪﻩ ﻓﻠﻢ ﻳﺼﻞ ﻋﻠﻰ . ] - ( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻯ ﻭﺭﺍﻭﻩ ﺍﺣﻤﺪ ﻋﻦ ﺍﻟﺤﺴﻴﻦ ﺑﻦ ﻋﻠﻰ ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻯ ﻫﺬﺍ ﺣﺪﻳﺚ ﺣﺴﻦ ﺻﺤﻴﺢ ﻏﺮﻳﺐ )
হযরত আলী [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলাল্লাহ [ﷺ] এরশাদ করেছেনঃ "কৃপণ ওই ব্যক্তি, যার সম্মুখে আমার আলোচনা হলো, অথচ সে আমার প্রতি দুরুদ পড়লো না।" (টীকাঃ ১) [তিরমিযী]
ইমাম আহমদ হুসাঈন ইবনে আলী [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ] হতে বর্ণনা করেছেন। আর ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এ হাদীস 'হাসান', 'সহীহ্', ও 'গরীব' পর্যায়ের। (টীকাঃ ২)
□ উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখায় বলা হয়েছেঃ
___
◇ টীকাঃ ১.
কেননা, দুরুদ শরীফ পড়তে তো কোন অর্থ ব্যয় হয় না, বরং সওয়াব বেশী পরিমাণে পাওয়া যায়। এ সওয়াব থেকে বঞ্চিত হওয়া বড়ই দুর্ভাগ্যেরই কারণ।
এ হাদীস শরীফ থেকে জানা যায় যে, যখনই হুযূরের নাম মুবারক শুনবে কিংবা পড়বে, তখন দুরুদ শরীফ অবশ্যই পড়বে। আর এ পড়া মুস্তাহাব।
◇ টীকাঃ ২.
অর্থাৎ এ হাদীস বিভিন্ন 'সনদ' সূত্রে বর্ণিত। কতেক সনদে 'হাসান', কোন সনদে 'সহীহ' আবার কোন সূত্রে 'গরীব' পর্যায়ের।
● পবিত্র হাদীস শরীফ এর ব্যাখ্যা সম্বলিত টীকা পেতে সার্চ করুনঃ
f/Ishq-E-Mustafa ﷺ
[সূত্রঃ মিরআতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, কৃত- মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী আশরাফী বদায়ূনী]
🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন