'আমার কবরকে ঈদ বানিয়ে নিও না'র অর্থঃ


❏ দরসে হাদীসঃ [হাদীস নং- (৮৬৬]


○ অধ্যায়ঃ [নবী করিম [ﷺ]-এর উপর দুরুদ শরীফ পাঠ ও দুরুদ শরীফের ফযীলত]


তাঁরই (হযরত আবূ হুরাইরা [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ]) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি


রাসূলুল্লাহ [ﷺ] কে এরশাদ করতে শুনেছিঃ


[ﻭﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ﺳﻤﻌﺖ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﷺ ﻳﻘﻮﻝ ﻻ ﺗﺠﻌﻠﻮﺍ ﺑﻴﻮﺗﻜﻢ ﻗﺒﻮﺭﺍ ﻭﻻ ﺗﺠﻌﻠﻮﺍ ﻗﺒﺮﻯ ﻋﻴﺪﺍ ﻭﺻﻠﻮﺍ ﻋﻠﻰ ﻓﺎﻥ ﺻﻠﻮﺗﻜﻢ ﺗﺒﻠﻐﻨﻰ ﺣﻴﺚ ﻛﻨﺘﻢ . ‏] -‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﻨﺴﺂﺋﻰ )


অর্থাৎ "তোমরা নিজেদের ঘরকে কবর বানিও না। (টীকাঃ ১) আর আমার কবরকে ঈদ বানিও না। (টীকাঃ ২) এবং আমার প্রতি দুরুদ প্রেরণ করতে থাকো। কারণ, তোমাদের দুরুদসমূহ আমার নিকট পৌঁছানো হয়, তোমরা যেখানেই থাকো না কেন।"(টীকাঃ ৩) [নাসাঈ]


□ উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখায় বলা হয়েছেঃ



___


১. (তোমরা নিজেদের ঘরকে কবর বানিও না।)


◇ টীকাঃ ১.


অর্থাৎ তোমাদের ঘরে মৃত দাফন করো না; বরং বাইরে কবরস্থানে (কিংবা অন্য কোথাও) দাফন করো। নিজের ঘরে দাফন হওয়া হুযূর [ﷺ] -এরই বৈশিষ্ট্য।


অথবা নিজেদের ঘরগুলোকে কবরস্থানের মতো আল্লাহর যিকর হতে খালি রেখো না; বরং ফরযসমূহ মসজিদে সম্পন্ন করো আর নফলসমূহ করো ঘরে।


২. (আর আমার কবরকে ঈদ বানিও না।)


◇ টীকাঃ ২.


অর্থাৎ যেভাবে ঈদগাহে বছরে মাত্র দু'বার যাওয়া হয়, সেভাবে আমার মাযারে এসো না; বরং বার বার উপস্থিত হও। অথবা যেভাবে ঈদের দিন খেলাধুলা করার জন্য মেলায় যেয়ে থাকো, সেভাবে তোমরা আমার রওযায় বে-আদবী প্রদর্শন করে এসো না; বরং আদব ও শালীনতা সহকারে এসো।


৩. (এবং আমার প্রতি দুরুদ প্রেরণ করতে থাকো। কারণ, তোমাদের দুরুদসমূহ আমার নিকট পৌঁছানো হয়, তোমরা যেখানেই থাকো না কেন।)


◇ টীকাঃ ৩.


মিরক্বাত প্রণেতা এ স্থানে বর্ণনা করেছেন যে, 'আরওয়াহ্-ই ক্বুদ্সিয়াহ' (পবিত্র আত্মাসমূহ) শরীর হতে বের হয়ে ফিরিশতার মতো হয়ে যায়। তখন সেগুলো সমগ্র বিশ্বকে হাতের তালুর মতো দেখেন আর তাঁদের জন্য কোন বস্তু পর্দাবৃত থাকে না। এ একই বিষয়বস্তু কিছু পার্থক্য সহকারে 'আশি'আতুল লুম'আত' -এও বর্ণনা করা হয়েছে।


সুতরাং এ হাদীসের মর্মার্থ এ হলো যে, 'তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তোমাদের দুরুদের শব্দ আমার নিকট পৌঁছে।' বর্তমান বিদ্যুৎ শক্তির বলে যখন ওয়ারলেস, মোবাইল ও রেডিও দ্বারা লাখো মাইল দূর হতে শব্দ শুনা যায়, তখন নুবূয়তের শক্তিবলে দুরুদ শরীফের শব্দ শুনা অসম্ভব হবে কেন?


হযরত এয়াকুব [ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ] শত মাইলের ব্যবধান হতে হযরত ইয়ূসুফ [ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ] -এর জামার সুঘ্রাণ পান। হযরত সুলায়মান [ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ] তিন(০৩) মাইল দূরত্ব হতে পিপীলিকার শব্দ শুনেন; অথচ আজ পর্যন্ত কোন ক্ষমতা পিঁপড়ার শব্দ শুনেনি। অতএব, আমাদের প্রিয় রসূলও দুরুদ পাঠকদের শব্দ অবশ্যই শুনেন।


● পবিত্র হাদীস শরীফ এর ব্যাখ্যা সম্বলিত টীকা পেতে সার্চ করুনঃ


f/Ishq-E-Mustafa ﷺ


[সূত্রঃ মিরআতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, কৃত- মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী আশরাফী বদায়ূনী]

❏ দরসে হাদীসঃ [হাদীস নং- (৮৬৭)]



○ অধ্যায়ঃ [নবী করিম [ﷺ]-এর উপর দুরুদ শরীফ পাঠ ও দুরুদ শরীফের ফযীলত]



তাঁরই (হযরত আবূ হুরাইরা [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ]) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,


রাসূলাল্লাহ [ﷺ] এরশাদ করেছেনঃ


[ﻭﻋﻦ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﷺ ﺭﻏﻢ ﺍﻧﻒ ﺭﺟﻞ ﺫﻛﺮﺕ ﻋﻨﺪﻩ ﻓﻠﻢ ﻳﺼﻞ ﻋﻠﻰ ﺭﻏﻢ ﺍﻧﻒ ﺭﺟﻞ ﺩﺧﻞ ﻋﻠﻴﻪ ﺭﻣﻀﺎﻥ ﺛﻢ ﺍﻧﺴﻠﺦ ﻗﺒﻞ ﺍﻥ ﻳﻐﻔﺮ ﻟﻪ ﺭﻏﻢ ﺍﻧﻒ ﺭﺟﻞ ﺍﺩﺭﻙ ﻋﻨﺪﻩ ﺍﺑﻮﺍﻩ ﺍﻟﻜﺒﺮ ﺍﻭ ﺍﺣﺪﻫﻤﺎ ﻓﻠﻢ ﻳﺪﺧﻼﻩ ﺍﻟﺠﻨﺔ . ‏] -. ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻯ )


অর্থাৎ "ওই ব্যক্তির নাসিকা ধূলি মিশ্রিত হোক, যার নিকট আমার আলোচনা হয়েছে, আর সে আমার প্রতি দুরুদ পাঠ করেনি।(টীকাঃ ১) ওই ব্যক্তির নাক ধূলিমিশ্রিত হোক, যার নিকট রমযান আসলো, আর সেটা তার ক্ষমা লাভের পূর্বেই চলে যায়, ওই লোকের নাসিকা ধূলিমিশ্রিত হোক, যার সামনে তার মাতা-পিতাকে অথবা তাদের উভয়ের মধ্যে একজনকে বার্ধক্যে পেয়েছে, অথচ (তাঁরা) তাকে জান্নাতে পৌঁছিয়ে দেয় নি।"(টীকাঃ ২) [তিরমিযী]


□ উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখায় বলা হয়েছেঃ



___


১. (ওই ব্যক্তির নাসিকা ধূলি মিশ্রিত হোক, যার নিকট আমার আলোচনা হয়েছে, আর সে আমার প্রতি দুরুদ পাঠ করেনি।)


◇ টীকাঃ ১.


অর্থাৎ এরুপ মুসলমান অপমানিত-লাঞ্ছিত হোক, যে আমার নাম শুনে দুরুদ শরীফ পাঠ করেনি।


আরবীতে এ ধরনের বদ-দো'আ মানে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করা; প্রকৃত বদ-দো'আ বুঝানো উদ্দোশ্য নয়।


এ হাদীসের উপর ভিত্তি করে কিছু সংখ্যক আলিম বলেছেন যে, একই মজলিশে যদি কয়েকবার হুযূর [ﷺ] -এর পবিত্র নাম নেওয়া হয়, তবে প্রত্যেক বার দুরুদ শরীফ পড়া ওয়াজিব। কিন্তু এ অভিমতের সপক্ষে প্রদত্ত প্রমাণ দুর্বল। কেননা, ( ﺭﻏﻢ ﺍﻧﻒ ) (তার নাক ধূলিময় হোক) একটি হালকা বাক্য। এটা দ্বারা বড়জোর দুরুদ পড়া মুস্তাহাব সাব্যস্ত হতে পারে; ওয়াজিব প্রমাণিত হতে পারে না। তবে এটার মর্মার্থ হলো- যে বিনা প্রয়োজনে দশটি রহমত, দশটি মর্যাদা, দশটি গুনাহ ক্ষমার মর্যাদা অর্জন করবে না, সে বড়ই বোকা!


২. (ওই ব্যক্তির নাক ধূলিমিশ্রিত হোক, যার নিকট রমযান আসলো, আর সেটা তার ক্ষমা লাভের পূর্বেই চলে যায়, ওই লোকের নাসিকা ধূলিমিশ্রিত হোক, যার সামনে তার মাতা-পিতাকে অথবা তাদের উভয়ের মধ্যে একজনকে বার্ধক্যে পেয়েছে, অথচ (তাঁরা) তাকে জান্নাতে পৌঁছিয়ে দেয় নি।)


◇ টীকাঃ ২.


অর্থাৎ ওই মুসলমানও লাঞ্ছিত-অপমানিত হয়ে যাক, যে রমযান মাস লাভ করেও সেটার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাতে ইবাদত বন্দেগী করে নিজের গুনাহ্ ক্ষমা করাতে পারে নি।


তেমনি ওই ব্যক্তিও অপমানিত হোক, যে নিজের যৌবনে মাতা-পিতাকে বার্ধক্যে পেয়েছে, আর তাঁদের সেবা-যত্ন করে জান্নাতের অধিকারী হতে পারে নি।


আর বার্ধক্যের কথা এজন্য বলা হয়েছে যে, বার্ধক্যে সন্তান-সন্ততির খিদমতের বেশী প্রয়োজন হয়। আর এ সময়ের দো'আ সন্তান-সন্ততির নৌবহরকে তীরে উপনীত করে দেয়।


স্মর্তব্য যে, এ তিনটি বস্তু মুসলমানের জন্য বড়ই উপকারী। কাফির কোন পূণ্যকর্ম দ্বারাই জান্নাতী হতে পারে না। অবশ্য, কোন কোন পূণ্যকর্মের ফলে সে ঈমান গ্রহণের সামর্থ পেয়ে যায়। আর কতেক পুণ্যের বরকতে তার আযাব হালকা হয়ে যায়।


● পবিত্র হাদীস শরীফ এর ব্যাখ্যা সম্বলিত টীকা পেতে সার্চ করুনঃ


f/Ishq-E-Mustafa ﷺ


[সূত্রঃ মিরআতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, কৃত- মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী আশরাফী বদায়ূনী রহ.] 

🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন