নখ পালিশের বিধান


নখে পালিশ লাগানো ইদানিং ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ কাল হলেও প্রকৃতিগতভাবে নখ সাদা ও মসৃণ। সাদা মানুষ কাল মানুষ সকলের জন্য নখ মানানসই। কৃত্রিম কোনো রং লাগিয়ে বিভিন্ন রঙে রঙ্গিন করার কোনো প্রয়োজন নেই। এর দ্বারাও আল্লাহর সৃষ্টির বিকৃত সাধন হয়ে থাকে। মেহেদীর রং হলে উযূতে কোনো অসুবিধা হয় না; কিন্তু যদি এমন রং লাগানো হয় যা নিবিড়ভাবে স্তর জমে আবরণ সৃষ্টি করে যার ভিতরে উযূ ও গোসলের পানি প্রবেশ করেনা তবে তা নিষিদ্ধ। উযূ ও গোসলের পরে লাগালে এবং এ অবস্থায় নামায পড়লে নামায় শুদ্ধ হবে। তবে উযূ ও গোসলের পূর্বে ঐ রং ও পালিশ সম্পূর্ণ তুলে ফেলতে হবে।



এই নেইল পালিশের মধ্যে সত্যিকার অর্থে কোনো সৌন্দর্য বর্ধক জিনিস নেই। বরং এতে নারীদের হাত ও পায়ের আঙ্গুল বিশ্রী হয়ে কোন হিংস্র জীব-জন্তুর পাঞ্জার ন্যায় ভয়ংকর হয়ে যায়। এগুলো কেবল পশ্চিমা অশ্লীল নারীদের অন্ধ অনুকরণ বৈ কিছুই নয়। মূলত যেসব নারী ইসলামী বিধি-বিধান পালনে যত্নবান, রুচিশীল, ভদ্র ও শান্ত স্বভাবসম্পন্ন তারা কখনো এসব বাজে ও অনর্থক কাজে সময় ও অর্থ নষ্ট করেনা।




নারী ও ফেরীওয়ালা



নারীদের জন্য মাহরাম (যাদের সাথে বিবাহ হারাম) ব্যতিত অন্য কাউকে দেখা দেওয়া নিষিদ্ধ ও কবীরা গুনাহ। যেখানে স্বামীর বড় ভাই, ছোট ভাইকে পর্যন্ত দেখা দেওয়া জায়েয নেই সেখানে নারীরা অহরহ ফেরীওয়ালা অচিন পুরুষকে শুধু দেখা দিচ্ছেনা বরং গায়ের কাছে গিয়ে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে বা বসে হাসিমুখে দরদাম করে জিনিসপত্র ক্রয় করে। এ সময় ফেরীওয়ালা ও নারীর আচরণ দেখে মনে হয় তারা একে অপরের অত্যন্ত আপনজন। ফেরীওয়ালা দেখলে নারীরা মনেই করেনা যে, ওরা পরপুরুষ। পাঁচ-দশ টাকা কম দামে কিনার উদ্দেশ্যে অনেকেই তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে। অথচ সাধারণ পুরুষের চেয়ে এরা আরো মারাত্মক, এদের থেকে বেশী পর্দা করা উচিত। কারণ এরা পাড়া-মহল্লায় বিভিন্ন জনের ঘরে যাওয়া-আসা করে এবং এক পরিবারের গোপনীয়তা অন্য পরিবারের কাছে ফাঁস করে। এক জনের দোষ-ত্রুটি অপর জনের নিকট বর্ণনা করে বেড়ায়।এরূপ দৃশ্য স্বামী বা স্বামী পরিবারের কোন পুরুষ দেখলেও কিন্তু নারীদেরকে কিছুই বলেনা বরং মৌন সম্মতি প্রকাশ করে এটাকে পারিবারিক ভাবে বৈধ ঘোষণা করে। কোন ব্যক্তিত্ববান পুরুষ নিজের স্ত্রীকে এভাবে পর পুরুষের সাথে খোলামেলাভাবে আলাপ চারিতায় দেখে নিরব থাকতে পারেনা। সুতরাং স্বামী ও গৃহকর্তার উচিত বাঁধা প্রদান করা এবং কঠোর হুঁশিয়ার করে দেওয়া।

___________

কিতাব: নন্দিত নারী

লেখক: হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ ওসমান গণি

আরবি প্রভাষক, জামেয়া আহমাদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা, ষোলশহর, চট্টগ্রাম।

সূত্রঃ 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan


Post a Comment

أحدث أقدم