তা তাদের সমস্ত (সঞ্চিত) ধন-দৌলত অপেক্ষা শ্রেয়” মর্মে আয়াতটির তাফসীর (ব্যাখ্যা)

“তা তাদের সমস্ত (সঞ্চিত) ধন-দৌলত অপেক্ষা শ্রেয়” মর্মে আয়াতটির তাফসীর (ব্যাখ্যা)

এই আয়াতটির সাধারণ অর্থ হলো, আল্লাহতা’লার ‘ফযল’ (অনুগ্রহ) ও ‘রাহমা’ (করুণা)-প্রাপ্তিতে খুশি হওয়াটা আমাদের যাবতীয় সঞ্চয় হতে শ্রেয়তর। এখানে প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে, কী কী জিনিস সঞ্চয় করা যায়? নিম্নোল্লিখিত দুটি বস্তু সঞ্চয় করা সম্ভব:

১. পার্থিব জীবনের সাথে সম্পর্কিত অর্থ-সম্পদ সঞ্চয় ও বিভিন্ন উপায়-উপকরণ সংগ্রহ করা সম্ভব; এবং

২. পারলৌকিক জীবনের সাথে সম্পৃক্ত নেক আমল তথা পুণ্যদায়ক কর্মের অনুশীলন, যেমন নামায-রোযা, দান-সদকাহ ও হজ্জ্ব।

তবে ক্বুরআন মজীদ এ দুটোর কোনোটাকেই নির্দিষ্ট করেনি, কেননা (আয়াতে ব্যবহৃত) আরবী ‘মা’ (যা) শব্দটি ‘আম’ তথা সার্বিক অর্থে প্রয়োগ করা হয়েছে, যা‘তে আমাদের সঞ্চিত/সংগৃহীত যাবতীয় বস্তু-ই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; অর্থাৎ, এটা পার্থিব ও পারলৌকিক উভয় জীবনের বেলাতেই প্রযোজ্য।

এই দুটো বিষয়কে মাথায় রেখে ওপরের আয়াতটিকে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে এভাবে: ওহে মানবকুল! তোমরা জমি-জিরাত ও বাড়িঘর কিনে এ দুনিয়ার ধনসম্পদ আহরণ করলে কিংবা সোনা-রূপা জমিয়ে থাকলে সেটা আমার প্রিয়নবী (ﷺ)-এর ধরণীতলে শুভাগমনের প্রতি তোমাদেরই ব্যক্ত খুশির চেয়ে শ্রেষ্ঠতর নয়। আর যদি তোমরা পারলৌকিক জীবনে সাফল্য লাভের জন্যে নফল এবাদত-বন্দেগী ও রোযা পালনের মাধ্যমে সাধনা করো এ উদ্দেশ্যে যে তোমাদের নেকীর পাল্লা ভারী হবে, তাহলে এমন কি সেটাও প্রিয়নবী (ﷺ)-এর মীলাদ তথা ধরাধামে শুভাগমন উদযাপনের মাধ্যমে তোমাদের প্রদর্শিত কৃতজ্ঞতার চেয়ে শ্রেয়তর নয়; কেননা তোমরা তাঁর বেলাদত উপলক্ষে খুশি প্রকাশ না করলে তোমরা তোমাদের (যাবতীয়) নেক আমলের প্রতি সেগুলোর প্রাপ্য হক্ব/অধিকার আদায় করতে সক্ষম হবে না; এটা এ কারণে যে তাঁর ধরাধামে শুভাগমনের্ দরুন-ই প্রথমতঃ তোমরা ওই নেক আমলগুলো পেয়েছো। ক্বুরআন মজীদ ও প্রতিটি পুণ্যকর্ম, হোক তা নামায-রোযা ও দান-সদকাহ, কিংবা হোক তোমাদের ইসলাম ধর্ম ও ঈমানদারি, সবই তাঁর পবিত্র সত্তার বদৌলতে এসেছে।

হ্যাঁ, এ কথা সত্য যে এই তাবৎ বিষয়াদি যিনি মঞ্জুর করেছেন, তিনি স্বয়ং খোদাতা’লা; কিন্তু এসব প্রাপ্তির অসীলা তাঁরই প্রিয়নবী (ﷺ)। অতএব, যাঁর মাধ্যমে এসব আশীর্বাদ আমাদের প্রতি মঞ্জুর হয়েছে, সেই মহান সত্তার প্রতি খুশি প্রকাশ করা আল্লাহতা’লারই প্রতি শুকরিয়া আদায় করা ছাড়া কিছু নয়; আর এই (পুণ্যদায়ক) কাজটি অন্য সব কিছুর চেয়ে বেশি বেশি পালন করা উচিত।

__________________

মওলিদুন্নবী (ﷺ)-এর উদযাপন ও অনুমতি (১ম খণ্ড)

মূল: শায়খুল ইসলাম ড: মুহাম্মদ তাহিরুল কাদেরী

অনুবাদ: কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন

 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন