নবী করীম (ﷺ) এর পােষাক মােবারক


নবী করীম (ﷺ) এর পােষাক মােবারক ছিল সাধারণতঃ পাগড়ী, চাদর, জামা ও লুঙি। একদা মিনা বাজার থেকে পায়জামা ক্রয় করেছেন, তবে পরিধান করেছেন কিনা তার প্রমাণ নেই। প্রায় সময় সাদা পাগড়ী পরিধান করতেন। কোন কোন সময় সবুজ ও কাল পাগড়ী ব্যবহার করেছেন। পাগড়ীর প্রান্ত মােবারক কখনাে খােলা রাখতেন আবার কখনাে রাখতেন না। পাগড়ীর পান্ত প্রায়ই উভয় স্কন্ধের মাঝখানে এবং কখনাে কখনাে

১০৭. ‘আল্লামা শফি উকাড়ভী : প্রাগুক্ত, পৃ. ৩১২-৩১৩।

১০৮. আবু নুআইম ইস্পাহানী : দালাইলুন নবুয়্যত, পৃ. ৩৮০।


১০৯. আবু নুআইম ইস্পাহানী : প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৩২।




◼ পৃষ্ঠ মােবারকের উপর রাখতেন। পাগড়ীর নিচে মাথা মােবারকের সাথে জড়ানাে টুপি থাকত।১১০


◼ তিনি (ﷺ) বলেছেন,১১১


فرق ما بيننا وبين المشركين العمائم على القلانس -


আমাদের এবং মুশরিকদের মধ্যে পার্থক্য হলাে এই যে, আমাদের পাগড়ী টুপীর উপর থাকে।


◼ তিনি (ﷺ) প্রায় সময় জামা পরিধান করতেন এবং সব সময় লুঙি ব্যবহার করতেন, শামী জুব্বাও পরিধান করেছেন যার হাতা এ পরিমাণ সংকীর্ণ ছিল যে, অযুর সময় উপরে তােলা যেত না। বরং হাত মােবারক তা থেকে বের করতে হতাে। ইরানী জোব্বাও তিনি পরিধান করেছেন যার পকেট ও হাতাদ্বয়ে রেশমের আঁচল ছিল। ইয়ামানের ডােরাকাটা চাদর তিনি খুবই পছন্দ করতেন। তিনি বিভিন্ন রঙের যেমন-সাদা, সবুজ ও জাফরানী ইত্যাদি রঙের কাপড় পরিধান করেছেন। কিন্তু সাদা রং তাঁর অত্যন্ত পছন্দনীয় ছিল। লাল চাদরও পরিধান করেছেন যা রেখাযুক্ত ছিল। সম্পূর্ণ লাল রঙের পােষাক তিনি পছন্দ করতেন না। তাঁর (ﷺ) পাদুকা মােবারক ছিল খড়মের আকৃতির, প্রত্যেকটার দুটো করে দু’ভাজ বিশিষ্ট ফিতা ছিল। একটা ফিতা বৃদ্ধাঙ্গুল ও তৎসংলগ্ন আঙ্গুলের মাঝখানে এবং দ্বিতীয়টা অনামিকার মাঝখানে থাকত।১১২


নবী করীম (ﷺ) এর পবিত্র পােষাক মােবারকের অনেক ফযীলত ও মর্যাদা রয়েছে। যার বর্ণনা স্বল্প পরিসরে দেয়া সম্ভব নয়।



উপসংহার 



১১০. ‘আল্লামা শফি উকাড়ভী : প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৩৬।


১১১. আবু দাউদ : আস-সুনান, কিতাবুল লিবাস।


১১২. ‘আল্লামা শফি উকাড়ভী : প্রাগুক্ত, পৃ. ৩৩৭-৩৩৮।


 



নবী করীম (ﷺ) না অত্যাধিক লম্বা ছিলেন না বেঁটে বরং মাঝারী কায়া বিশিষ্ট ছিলেন, কিন্তু যখন মানুষের সম্মুখে হতেন তখন সবার উপরে ও স্বতন্ত্র থাকতেন। মূলতঃ এটা ছিল তাঁর মু'জিযা। যখন আলাদা থাকতেন তখন মাঝারী কায়া বিশিষ্ট সামান্য লম্বা হতেন এবং যখন অন্যান্যদের সাথে চলতেন বা বসতেন তখন সবার উপরে দেখা যেতাে। হযরত ‘আলী (রা.) নবী করীম (ﷺ) এর গঠন মােবারকের অতি উচ্চ পর্যায়ের বর্ণনা দিয়েছেন।



◼ হযরত ‘আলীর (রা.) মুখেই আমরা শুনি।১১৩



لم يكن بالطويل الممغط ولا بالقصير المتردد وكان ربعة من القوم ولم يكن بالجعد القطط ولا بالسبط كان جعدا رجلا ولم يكن بالمطهم ولا بالمكلثم وكان في الوجه تدویرا ابيض مشرب أدعج العينين أهدب الأشفار جلیل المشاش والكتد اجرد ذو مسربة شتن الكفين والقدمين اذا مشى تقلع كانما يمشي في صبب واذا التفت التقت معا بين كتفيه خاتم النبوة و هو خاتم النبيين أجود الناس صدرا واصدق الناس لهجة والينهم عريكة واكرمهم عشيرة من راه بديهة هابه ومن خالطه معرفة احبه يقول ناعته لم ارقبله والابعده مثله صلى الله عليه و سلم -


তাঁর কায়া না লম্বা ছিল এবং না বেটে বরং তিনি ছিলেন মধ্যমদেহী। তাঁর চুল না অধিক কুঞ্চিত ছিল, না একেবারে সােজা, বরং সামান্য কোঁকড়ানাে। তাঁর গােলগাল চেহারা না পাতলা ছিল, না মােটা। রং সম্পূর্ণ শুভ্র ছিল না বরং তাঁর শুভ্রতায় ছিল রক্তিমাভ। তাঁর চক্ষুদ্বয় কালাে ও চোখের পাতা ছিল দীর্ঘ। তাঁর অঙ্গ প্রত্যঙ্গের জোড়া সবল এবং স্কন্ধ ছিল বলিষ্ঠ। তাঁর শরীর কেশ ছিল না, কেবল কেশ পুঞ্জের একটি রেখা ছিল নাভী থেকে বক্ষ পর্যন্ত। যেন তা একটি বৃক্ষের শাখা। হাত ও পা ছিল বলিষ্ঠ, সবল ও মাংসপূর্ণ। যখন চলতেন



১১৩, মিশকাতুল মাছবীহ : পৃ. ৫১৭; ইমাম বায়হাক্বী : প্রাগুক্ত, খ. ১পৃ. ২২৯; ইমাম তিরমিযী : আস-সুনান, কিতাবুল মানাক্বি, হাদীস নং ৩৬৩৮; শামায়েল, প্রাগুক্ত পৃ. ১০




শক্তি ও গাম্ভীর্য সহকারে চলতেন যেন তিনি ঢালু ভূমি অবরােহণ করছেন। এদিক ওদিকে তাকালে পূর্ণ শরীর সহকারে ফিরে তাকাতেন। উভয় স্কন্ধের মধ্যখানে ছিল মােহরে নবুয়্যাত এবং তিনি। ছিলেন শেষ নবী। মানুষের মধ্যে তিনি ছিলেন সর্বাপেক্ষা দানশীল ও উদার, কথায় সর্বাপেক্ষা সত্যবাদী, স্বভাবে সর্বাপেক্ষা কোমল, বংশ মর্যাদায় সর্বাপেক্ষা সম্মানিত। যে কেউ তাঁকে হঠাৎ দেখত, তার উপর ভয়-ভীতি ছেয়ে যেতাে এবং যে ব্যক্তি তাঁর সাথে কথা বলত ও মেলামেশা করত, তার অন্তরে ভালবাসা সৃষ্টি হতাে। মােটকথা তাঁর মত না তাঁর পূর্বে (কাউকে) দেখেছি, না তাঁর পরে। তাঁর প্রতি আল্লাহর দরূদ ও সালাম হােক।


নবী করীম (ﷺ) আপাদমস্তক নূর, আবার তিনি অনুপম মানুষও। তাঁর পবিত্রতম সত্ত্বা ছিল রূপ ও সৌন্দর্যের প্রতিকৃতি এবং এক একটা অঙ্গ ছিল আল্লার কুদরতের বিকাশস্থল। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে অতুলনীয়, অনুপম, অপরূপ ও অনন্যগুণে সৃষ্টি করেছেন।



◼ আ'লা হযরত (রহ.) কতইনা সুন্দর বলেছেন,১১৪



اللّٰہ کی سر تا بقدم شان ہیں ہے + ان سا نھیں انسان وہ انسان ہیں یہ


قران تو کہتا ہے کہ ایمان ہیں یہ + اور ایمان یہ رکھتا ہے مری جان ہیں یہ


“প্রিয় নবীর আপাদমস্তক আল্লাহরই মাহাত্মের বহি:প্রকাশ।। তিনি মানব অথচ তাঁর মত দ্বিতীয় কোন মানব নেই। কুরআন তাে বলছে- ইনি হলেন ঈমান আর ঈমান বলছে- ইনি আমার প্রাণ।



◼ আশেকে রসূল (ﷺ), ইমাম শেরে বাংলা (রহ.)- এর মন্তব্যটি এখানে প্রনিধানযােগ্য-১১৫



محمد گر چه از جنس بشر ہست + نظیرش در جہاں لیکن محال ست



১১৪ . ‘আল্লামা শফি উকাড়ভী: প্রাগুপ্ত, পৃ. ৩৫৯।


১১৫. ইমাম শেরে বাংলা : দিওয়ান-ই-আযীয (বঙ্গানুবাদ: মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল মান্নান) পৃ. ৩৫




“হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) যদিও মানব জাতির অন্তর্ভূক্ত, কিন্তু তাঁর উপমা গােটা বিশ্বেও পাওয়া অসম্ভব।



وجود او که از نور خدا هست + زنور او ہمہ عالم ہو یدہ است


‘তাঁর সৃষ্টি হলাে আল্লাহর পবিত্র নূর থেকে, তাঁরই নূর থেকে গােটা বিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে'।



وما علينا الا البلاغ


وصلى اللّٰه على حبيبه الكريم وعلى اله واصحابه اجمعين



আহকার


ড. মােহাম্মদ আবদুল হালিম


১৯ রজব ১৪৩৫ হি.

_________________

কিতাবঃ হৃদয়ের আয়নায় নবী করীম (ﷺ)

লেখকঃ ড. মোহাম্মদ আবদুল হালিম

 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]


Post a Comment

أحدث أقدم