কবর যিয়ারতের জন্য সফর করা এবং নিষেধের হাদীসের উৎকৃষ্ট বিশ্লেষণ

 ৫১

 কবর যিয়

❏ দরসে হাদীসঃ 【হাদীস নং- (৬৪২)】



○ অধ্যায়ঃ 【মসজিদগুলো ও নামাযের স্থানসমূহ】


【 ﻭﻋﻦ ﺍﺑﯽ ﺳﻌﯿﺪﻥ ﺍﻟﺨﺪﺭﻱ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﷺ ﻻ ﺗﺸﺪ ﺍﻟﺮﺣﺎﻝ ﺍﻻ ﺍﻟﻰ ﺛﻼﺛﺔ ﻣﺴﺎﺟﺪ ﻣﺴﺠﺪ ﺍﻟﺤﺮﺍﻡ ﻭﺍﻟﻤﺴﺠﺪ ﺍﻻﻗﺼﯽ ﻭﻣﺴﺠﺪﻯ ﻫﺬﺍ . ‏( ﻣﺘﻔﻖ ﻋﻠﻴﻪ )】


হযরত আবু সা'ঈদ খুদরী [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [ﷺ] এরশাদ ফরমায়েছেনঃ


❝তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনটির দিকে হাওদা বাঁধা যাবে না- এক. মসজিদে হারাম, দুই. মসজিদে আক্বসা এবং তিন. আমার এ মসজিদ।❞ (টীকাঃ১)


【মুসলিম, বােখারী】


□ উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখায় বলা হয়েছেঃ



                                   


◇ টীকাঃ ১. অর্থাৎ এ মসজিদগুলাে ব্যতীত অন্য কোন মসজিদের দিকে এজন্য সফর করে যাওয়া যে, সেখানে নামাযের সাওয়াব বেশী, নিষিদ্ধ; যেমন কেউ কেউ জুমু'আহ্ পড়ার জন্য বদায়ূন থেকে দিল্লী যেতাে, যাতে সেখানকার জামে মসজিদে সাওয়াব বেশী পায়। এটা ভুল। প্রত্যেক জায়গার মসজিদগুলাে সাওয়াবের মধ্যে সমান। এ ব্যাখ্যার ভিত্তিতে হাদীস শরীফ একেবারে স্পষ্ট।


ওহাবীরা এর অর্থ এটা মনে করেছে যে, এ তিন মসজিদ ব্যতীত অন্য কোন স্থানের দিকে সফর করাই হারাম; সুতরাং ওরস, কবর-যিয়ারত ইত্যাদির জন্য সফর হরা হারাম। যদি এ অর্থ হয়, তবে ব্যবসায়, চিকিৎসা, বন্ধু-বান্ধবদের সাথে সাক্ষাৎ ও ইলমে দ্বীন শিক্ষা ইত্যাদি কাজের জন্য সফর করা হারাম হবে এবং রেলওয়ে (ইত্যাদি)'র বিভাগগুলাে অকেজো হয়ে যাবে আর এ হাদীস শরীফও ক্বোরআনের পরিপন্থী হয়ে যাবে এবং অন্যান্য হাদীসেরও। মহান রব এরশাদ ফরমাচ্ছেন-


[ﻓَﺴِﻴﺮُﻭﺍ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺄَﺭْﺽِ ﻓَﺎﻧﻈُﺮُﻭﺍ ﻛَﻴْﻒَ ﻛَﺎﻥَ ﻋَﺎﻗِﺒَﺔُ ﺍﻟْﻤُﻜَﺬِّﺑِﻴﻦَ]


[অর্থাৎ সুতরাং পৃথিবীর মধ্যে ভ্রমণ করে দেখাে, কী পরিণাম হয়েছে অস্বীকারকারীদের; (৩:১৩৭, তরজমা- কানযুল ঈমান)] 'মিরক্বাত’ প্রণেতা এখানে এবং আল্লামা শামী 'ক্ববরসমূহের যিয়ারত' শীর্ষক অধ্যায়ে বলেছেন, যেহেতু এ তিন মসজিদ ব্যতীত সমস্ত মসজিদ সমান, সেহেতু অন্যান্য মসজিদের দিকে সফর করা নিষিদ্ধ। অবশ্য, আল্লাহর ওলীগণের কবরগুলাে ফুয়ূয ও বরকাতের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন।


সুতরাং কবরসমূহের যিয়ারতের জন্য সফর করা জায়েয। এ মূর্খ অজ্ঞ লােকেরা কি সম্মানিত নবীগণের ক্ববর শরীফগুলাের দিকে সফর করতেও নিষেধ করবে?


□ হাদীস শরীফের ব্যাখ্যা সম্বলিত টীকা পেতে সার্চ করুনঃ


f/Ishq-E-Mustafa ﷺ


【সূত্রঃ মিরআতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, কৃত- মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী আশরাফী বদায়ূনী, বঙ্গানুবাদঃ মাওলানা আব্দুল মান্নান, ১ম খন্ড, পৃ. ৪৯৩, হাদীস নং-৬৪২ এবং টীকাঃ ১০ দ্রব্যষ্ট, প্রকাশনায়ঃ ইমাম আহমদ রেযা রিসার্চ একাডেমী, চট্টগ্রাম।

 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]


Post a Comment

أحدث أقدم