আপেলের বড় থালা


এ বর্ণনার ব্যাখ্যায় হযরত আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী হানাফী (رحمة الله)  হযরত সায়্যিদুনা ফুরাত বিন মুসলিম (رحمة الله) এর সনদে বর্ণনা করেন, একবার হযরত সায়্যিদুনা ওমর বিন আবদুল আযিয (رضي الله عنه)এর আপেল খাওয়ার ইচ্ছা হল কিন্তু ঘরে এমন কোন বস্তু পেলেন না, যা দিয়ে আপেল কিনতে পারেন। তাই আমরা তাঁর সাথে আরোহী হয়ে বের হলাম। গ্রামের দিকে গিয়ে কিছু ছেলে পেলাম যারা আপেলের বড় থালা (উপহার দেয়ার জন্য) নিয়ে আসছিল। সায়্যিদুনা ওমর বিন আবদুল আযিয(رضي الله عنه) একটি থালা নিয়ে ঘ্রাণ নিলেন ও অতঃপর ফিরিয়ে দিলেন। আমি তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেবললেন: “আমার এটার প্রয়োজন নেই। ”



আমি বললাম: “রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) সায়্যিদুনা আবু বকর সিদ্দীক ও সায়্যিদুনা উমর-ফারুকে আযম (رضي الله عنه)ما কি উপহার গ্রহণ করতেন না?” ইরশাদ করলেন: “নিঃসন্দেহে এটা তাঁদের জন্য উপহারই ছিল কিন্তু তাঁদের পরবর্তী উম্মাল শাসক বা তাদের প্রতিনিধিদের জন্য হল ঘুষ।” (উমদাতুল ক্বারী, ৯ম খন্ড, ৪১৮ পৃষ্ঠা)



কে কার উপহার গ্রহণ করবে না প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আপনারা দেখলেন তো! হযরত সায়্যিদুনা ওমর বিন আব্দুল আযিয (رضي الله عنه) উপহারের আপেল গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেন। কেননা তিনি (رضي الله عنه)জানতেন, এ উপহার যুগের খলীফা হওয়ার কারণে দেয়া হচ্ছে। যদি আমি খলীফা না হতাম তবে কেউ দিত না? আর একথা প্রত্যেক জ্ঞানী মাত্রই বুঝতে পারবেন, মন্ত্রীবর্গ, জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যবৃন্দ কিংবা অন্যান্য সরকারী অফিসারবৃন্দ ও তাদের অধীনস্থ প্রতিনিধিবর্গ এছাড়া জজ সাহেবদের এমনকি পুলিশ ইত্যাদিকে লোকেরা কেন উপহার দিয়ে থাকেন! অবশ্যই হয়তো কাজ করানো উদ্দেশ্য থাকে নয়তো এ মন-মানসিকতা থাকে যে, ভবিষ্যতে তাকে প্রয়োজন পড়লে সহজে ব্যবস্থা হয়ে যাবে। এ উভয় অজুহাতের ভিত্তিতে এ সমস্ত মানুষকে উপহার দেয়া ও তাদেরকে বিশেষভাবে দাওয়াত করা ঘুষের পর্যায়ে পড়বে আর ঘুষ দাতাও গ্রহীতা উভয়ে জাহান্নামের অধিকারী। এসব অবস্থায় ঈদের বখশিশ বা উপহার মিষ্টি, চা-পানি অথবা খুশী মনে দিচ্ছি, মুহাব্বত করে দিচ্ছি ইত্যাদি সুন্দর সুন্দর কথাগুলো ঘুষের গুনাহ্ থেকে রক্ষা করতে পারবে না। যদিও সত্যিই আন্তরিকতার সাথে দেয়া হয় ও ঘুষ হওয়ার কোন কারণ না হয় তবুও এ সকল ব্যক্তিবর্গের জন্য নিজের অধীনস্থদের উপহার বা বিশেষ দাওয়াত গ্রহণ করা “মাযিন্নায়ে তুহমাত” অর্থাৎ-অপবাদের জায়গায় দন্ডায়মান হওয়া। তাই নবী করীম, রউফুর রহীম, হুযুর পুরনূর (ﷺ)ইরশাদ করেছেন: “যে আল্লাহ্ তাআলা ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন অপবাদের জায়গায় দন্ডায়মান না হয়।"


আমি বললাম: “রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) সায়্যিদুনা আবু বকর সিদ্দীক ও সায়্যিদুনা উমর-ফারুকে আযম (رضي الله عنه)ما কি উপহার গ্রহণ করতেন না?” ইরশাদ করলেন: “নিঃসন্দেহে এটা তাঁদের জন্য উপহারই ছিল কিন্তু তাঁদের পরবর্তী উম্মাল শাসক বা তাদের প্রতিনিধিদের জন্য হল ঘুষ।” (উমদাতুল ক্বারী, ৯ম খন্ড, ৪১৮ পৃষ্ঠা)



কে কার উপহার গ্রহণ করবে না প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আপনারা দেখলেন তো! হযরত সায়্যিদুনা ওমর বিন আব্দুল আযিয (رضي الله عنه) উপহারের আপেল গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেন। কেননা তিনি (رضي الله عنه)জানতেন, এ উপহার যুগের খলীফা হওয়ার কারণে দেয়া হচ্ছে। যদি আমি খলীফা না হতাম তবে কেউ দিত না? আর একথা প্রত্যেক জ্ঞানী মাত্রই বুঝতে পারবেন, মন্ত্রীবর্গ, জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যবৃন্দ কিংবা অন্যান্য সরকারী অফিসারবৃন্দ ও তাদের অধীনস্থ প্রতিনিধিবর্গ এছাড়া জজ সাহেবদের এমনকি পুলিশ ইত্যাদিকে লোকেরা কেন উপহার দিয়ে থাকেন! অবশ্যই হয়তো কাজ করানো উদ্দেশ্য থাকে নয়তো এ মন-মানসিকতা থাকে যে, ভবিষ্যতে তাকে প্রয়োজন পড়লে সহজে ব্যবস্থা হয়ে যাবে। এ উভয় অজুহাতের ভিত্তিতে এ সমস্ত মানুষকে উপহার দেয়া ও তাদেরকে বিশেষভাবে দাওয়াত করা ঘুষের পর্যায়ে পড়বে আর ঘুষ দাতাও গ্রহীতা উভয়ে জাহান্নামের অধিকারী। এসব অবস্থায় ঈদের বখশিশ বা উপহার মিষ্টি, চা-পানি অথবা খুশী মনে দিচ্ছি, মুহাব্বত করে দিচ্ছি ইত্যাদি সুন্দর সুন্দর কথাগুলো ঘুষের গুনাহ্ থেকে রক্ষা করতে পারবে না। যদিও সত্যিই আন্তরিকতার সাথে দেয়া হয় ও ঘুষ হওয়ার কোন কারণ না হয় তবুও এ সকল ব্যক্তিবর্গের জন্য নিজের অধীনস্থদের উপহার বা বিশেষ দাওয়াত গ্রহণ করা “মাযিন্নায়ে তুহমাত” অর্থাৎ-অপবাদের জায়গায় দন্ডায়মান হওয়া। তাই নবী করীম, রউফুর রহীম, হুযুর পুরনূর (ﷺ)ইরশাদ করেছেন: “যে আল্লাহ্ তাআলা ওআখিরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন অপবাদের জায়গায় দন্ডায়মান না হয় (কাশফুল খিফা, ২য় খন্ড, ২২৭ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ২৪৯৯)



তাই এসব বিষয়ে অপবাদের জায়গায় দন্ডায়মান হওয়া থেকে বেঁচে থাকা ওয়াজিব। তাই তা দেয়াও না জায়িয নেয়াও না-জায়িয। তবে যদি পদ-মর্যাদা লাভের পূর্ব থেকেই পরস্পর উপহার লেনদেন ও বিশেষ দাওয়াতের তারকীব (ব্যবস্থা) ছিল তবে এখন হলে অসুবিধা নেই। কিন্তু পূর্বে কম ছিল আর এখন পরিমাণ বৃদ্ধি করা হল, তবে অতিরিক্ত অংশ না-জায়িয হয়ে যাবে। যদি (উপহার) দাতা পূর্বের চেয়ে এখন আরো ধনী হয়ে গেল আর সে এ কারণে বৃদ্ধি করল তাহলে নেয়াতে ক্ষতি নেই। অনুরূপভাবে পূর্বের চেয়ে এখন তাড়াতাড়ি বিশেষ দাওয়াত হচ্ছে তাহলেও না-জায়িয। যদি দাতা রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয় হয় তবে আদান-প্রদানে কোন অসুবিধা নেই। (মাতা-পিতা, ভাই-বোন, নানা-নানী, দাদা-দাদী, ছেলে-মেয়ে, চাচা, মামা, খালা, ফুফু, ইত্যাদি মুহরিম (যাদের সাথে বিয়ে অবৈধ) হয় অপরদিকে, ফুফা, ভগ্নিপতি, চাচী, বড় মা, মামী, ভাবী, চাচাত, ফুফাত, খালাত, মামাত ইত্যাদি ব্যক্তিবর্গরা মুহরিম আত্মীয় বহিভর্ূত) যেমন ছেলে কিংবা ভাতিজা জজ, তাকে পিতা বা চাচা উপহার দিলেন অথবা বিশেষ দাওয়াত দিলেন তবে গ্রহণ করা জায়িয। তবে মনে করুন, পিতার মামলা জর্জ ছেলের কাছে চলছে তাহলে এ অবস্থায় অপবাদের জায়গা দন্ডায়মান হওয়ার কারণে না-জায়িয। বর্ণনাকৃত নির্দেশাবলী শুধুমাত্র সরকারী ব্যক্তিবর্গের জন্যই নয়, প্রতিটি সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতার জন্যও। এমনকি দা’ওয়াতে ইসলামীর সকল সাংগঠনিক মজলিস ও সকল নিগরান উপহার বা বিশেষ দাওয়াত গ্রহণ করতে পারবেন না। নিম্নস্তরের যিম্মাদার নিজের উপরস্থ যিম্মাদার থেকে গ্রহণ করতে পারবেন। যেমন- দা’ওয়াতে ইসলামীর মারকাযী মজলিশে শূরার রোকন, নিগরানে শূরা থেকে গ্রহণ করতে পারবেন কিন্তু অন্যান্য দা’ওয়াতে ইসলামী ওয়ালাদের কাছ থেকে গ্রহণ করতে পারবেন না।” আর নিগরানে শূরা নিজের কোন অধীনস্থ দা’ওয়াতে ইসলামী ওয়ালার উপহার নিতে পারবেন না। শিক্ষক নিজের ছাত্রদের বা তাদের অভিভাবকদের দেয়া উপহার শারয়ী অনুমতি ছাড়া নিতে পারবেন না। তবে শিক্ষা শেষ হওয়ার পর যদি ছাত্র উপহার বা বিশেষ দাওয়াত দেন তবে গ্রহণ করতে পারবেন।



ঐ সকল উলামা ও মাশায়িখ যাঁেদরকে লোকেরা ইলম ও খোদার অনুগ্রহ প্রাপ্তির সম্মানার্থে নযরানা পেশ করেন ও তাঁরা গ্রহণও করেন এবং লোকেরা তাঁদের প্রতি ঘুষের অপবাদও দেয় না সুতরাং এসকল সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের জন্য উপহার গ্রহণ করা অপবাদের জায়গায় দন্ডায়মান হওয়া বহিভর্ূত হওয়ার কারণে জায়িয। প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! উপহার ও ঘুষ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর উপস্থাপন করা হচ্ছে। সম্ভব হলে এগুলো কমপক্ষে তিনবার মনোযোগ সহকারে পড়ে বা শুনে নিন। প্রশ্ন: উপহার গ্রহণ করা কি সুন্নাত? উত্তর: নিশ্চয় উপহার গ্রহণ করা সুন্নাত। কিন্তু এর বিভিন্ন অবস্থা রয়েছে। যেমন- হযরত আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী হানাফী (رحمة الله) বলেন: তাজেদারে রিসালত, শাহানশাহে নবুয়ত, মুস্তফা জানে রহমত(ﷺ) ইরশাদ করেছেন: “পরস্পরের মধ্যে উপহার আদান-প্রদান করো, মুহাব্বত বৃদ্ধি পাবে।” (মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ৪র্থ খন্ড, পৃষ্ঠা ২৬০, হাদীস নং-৬৭১৬)



তার জন্য জায়িয যাকে মুসলমানদের উপর ক্ষমতাসীন করা হয়নি আর যাকে মুসলমানদের উপর ক্ষমতাসীন করা হয়েছে, যেমন বিচারক বা শাসক। তবে এ অবস্থায় তার জন্য উপহার গ্রহণ করা থেকে বেঁচে থাকা জরুরী। বিশেষতঃ যাকে পূর্বে উপহার দেয়া হতো না তার জন্য বাঁচা জরুরী। কারণ তার জন্য এখন এ উপহার ঘুষ ও অপবিত্রতার পর্যায়ভুক্ত।” (আল বিনায়া শরহুল হিদায়া, ৮ম খন্ড, ২৪৪ পৃষ্ঠা)



অস্থায়ীভাবে মোটর সাইকেল নেয়া প্রশ্ন: ক্ষমতাসীন ব্যক্তি তার অধীনস্থদের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে কোনটাকা-পয়সা বা অস্থায়ীভাবে ব্যবহার করার জন্য কার, মোটর সাইকেল ইত্যাদি নিতে পারবেন কি পারবেন না? এছাড়া এটাও বর্ণনা করুন, নিজের অধীনস্থ থেকে কোন বস্তু কোন অজুহাতে কম দামে ক্রয় করতে পারবেন কি পারবেন না?



উত্তর: ক্ষমতাসীন ব্যক্তি নিজের অধীনস্থ ব্যক্তি থেকে ঋণ নিতে পারেন না, প্রচলিত নিয়মের বাইরে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারেন না, অস্থায়ীভাবে ব্যবহার করার জন্য কোন বস্তু নিতে পারেন না। অধীনস্থ ব্যক্তি যদি নিজে প্রস্তাব দেয় তবুও নিতে পারবেন না। যেমনঃ


হযরত আল্লামা আইনী (رحمة الله) বলেন: “ক্ষমতাসীন ব্যক্তির জন্য যাদের উপহার গ্রহণ করা হারাম, তার থেকে ঋণ নেয়া ও কোন বস্তু ধার স্বরূপ চাওয়া (অর্থাৎ-কিছু সময়ের জন্য কোন বস্তু চাওয়াও হারাম।”) (রদ্দুল মুহতার আলাদ দুররুল মুখতার, ৮ম খন্ড, ৪৮ পৃষ্ঠা)



প্রশ্ন: উপহারের ব্যাপারে কি আ’লা হযরত (رحمة الله) ও কোন দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন? উত্তর: আমার আক্বা আ’লা হযরত, ইমামে আহলে সুন্নাত, ইমাম আহমদ রযা খান (رحمة الله)বলেন: “আমি বলছি, তাদের উদাহরণ গ্রাম্য ও পেশাজীবি ও অন্যান্যদের চৌধুরীদের ন্যায়, যাদের নিজেদের অধীনস্থদের উপর একচ্ছত্র শাসন ও শ্রেষ্ঠত্ব থাকে।” কেননা ঐসব চৌধুরীদের ক্ষতির ভয় কিংবা প্রচলিত নিয়মের কারণে তারা হাদিয়া (অর্থাৎ-উপহার) পেয়ে থাকে।” (ফতোওয়ায়ে রযবীয়্যাহ, ১৯তম খন্ড, ৪৪৬ পৃষ্ঠা)



জানা গেল, উপহার গ্রহণ করার নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরকারী পদধারীদের জন্যই নয়, ঐ সকল প্রতিটি মানুষের জন্যও, যে নিজের পদ বা প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে মানুষের লাভ-ক্ষতি করার সামর্থ রাখে। দাওয়াত দু’প্রকার প্রশ্ন: “বিশেষ দাওয়াত ” কাকে বলা হয়? উত্তর: বিশেষ দাওয়াত অর্থাৎ-ঐ দাওয়াত যা কোন বিশেষ ব্যক্তির জন্য আয়োজন করা হয়, যদি আসতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেন, তবে সেদাওয়াতের আয়োজন না হয়। প্রশ্ন: আর “সাধারণ দাওয়াত” এর ব্যাপারেও বর্ণনা করুন। উত্তর: সাধারণ দাওয়াত অর্থাৎ-ঐ দাওয়াত, যা কোন এমন বিশেষ ব্যক্তির জন্য না হয়, অমুক না আসলে ঐ দাওয়াতের আয়োজনই হবে না।



প্রশ্ন:- যদি অধীনস্থ ব্যক্তি ক্ষমতাশীল ব্যক্তিকে বিশেষ দাওয়াত দেয় আর গিয়ারভী শরীফের নিয়্যত করে নেয় তবুও কি নাজায়িয হবে? উত্তর: জ্বী হ্যঁা, কারণ উপরস্ত ব্যক্তি যদি অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী না হন তবে গিয়ারভী শরীফের নিয়ায (তাবাররুক) প্রস্তুত করা হবে না। তবে যদি নিয়াযের ব্যবস্থা করা হয় ও তাতে পদস্ত ব্যক্তিকেও দাওয়াত দেয়া হয় আর এটা সিদ্ধান্ত করা হয়েছে, তিনি আসুক বা না আসুক নিয়াযের ব্যবস্থা ঠিক থাকবে তাহলে এরূপ দাওয়াত জায়িয। কেননা এটাকে “সাধারণ দাওয়াত” বলা হয়। তবে সাধারণ দাওয়াতের যদি পদস্ত ব্যক্তিকে অন্যান্যদের বিপরীতে ভাল খাবার দেয়া হয় তবে তা নাজায়িয হবে। যেমন - সাধারণ মেহমানদেরকে নানরুটি ও গরুর মাংসের তরকারী দেয়া হল কিন্তু পদস্ত ব্যক্তিকে ময়দার খামির দ্বারা প্রস্তুত স্যাতস্যঁাতে নরম রুটি ও ছাগলের কোর্মা দেয়া হয় তাহলে এরূপ করা না-জায়িয হবে। প্রশ্ন: অফিসার থেকে তাঁর অধীনস্থ ব্যক্তি উপহার গ্রহণ করতে পারবে কি পারবে না? উত্তর: গ্রহণ করতে পারবে। আমার আকা আ’লা হযরত, ইমাম আহমদ রযা খান (رحمة الله) এর জারীকৃত এ মোবারক ফতোওয়াটি যদি কমপক্ষে তিনবার মনোযোগ সহকারে পড়ে বা শুনে নেয়া হয় তাহলেان شاء الله عز وجل উপহার ও ঘুষের মধ্যে পার্থক্য সম্পর্কে বুঝে আসবে যে, কে কার কার থেকে উপহার গ্রহণ করতে পারবে ও কার কার থেকে পারবে না। যেমন- আমার আক্বা আ’লা হযরত (رحمة الله) বলেন "যে ব্যক্তি নিজে, চাই শাসকের পক্ষ থেকে কোন ধরনের শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী হোক, যে কারণে মানুষের উপর তার কিছুটা ক্ষমতা থাকে, যদিও সে নিজের জন্য তাদের উপর ক্ষমতা প্রয়োগ করে না, চাপ প্রয়োগ করে না যদিও সে কোন অকাট্য সিদ্ধান্ত বরং অকাট্য নয়, এমন সিদ্ধান্ত দেয়ার ব্যাপারে পূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী নন।



যেমন-দারোগা, জল্লাদ, ওসি, জমিদার বা গ্রামবাসীদের জন্য নিযুক্ত জমিদার, গ্রামে কাউন্সিলর, (চেয়ারম্যান) পাটোয়ারী (গ্রাম সরকার) এমনকি পঞ্চায়েত বা সার্বজনীন গোত্র বা পেশার লোকদের জন্য তাদের চৌধুরী, এসব লোকের জন্য কোন ধরনের উপহার নেয়া বা বিশেষ দাওয়াত (অর্থাৎ বিশেষ দাওয়াত, তাঁর জন্যই আয়োজন করা হয়েছে আর যদি তিনি অংশগ্রহণ না করেন তবে দাওয়াতই হবে না) গ্রহণ করা সম্পূর্ণভাবে অনুমতি নেই। কিন্তু তিন অবস্থায় অনুমতি রয়েছে। প্রথমত: অফিসার (অর্থাৎ-নিজের উপরস্ত ব্যক্তি) থেকে, যার উপর তাঁর চাপ নেই। না সেখানে এটা খেয়াল করা হয় যে, তার পক্ষ থেকে এ হাদিয়া (উপহার) ও দাওয়াত নিজের ব্যাপারে ছাড় নেয়ার জন্য। দ্বিতীয়ত: এমন ব্যক্তি থেকে যে তার পদ লাভের পূর্বেও তাকে উপহার দিত ও দাওয়াত করত। তবে শর্ত হল, এখনও ঐ পরিমাণ হতে হবে, অন্যথায় অতিরিক্ত হলে জায়িয হবে না। যেমন-পূর্বে উপহার ও দাওয়াতে যে দামের বস্তু থাকত এখন তার চেয়ে দামী লৌকিকতা সম্পন্ন হয়ে থাকে অথবা সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে গেল কিংবা তাড়াতাড়ি হতে লাগল। এসব অবস্থায় অতিরিক্ত মওজুদ ও জায়িয হওয়ার কোন অবস্থা নেই। কিন্তু যখন এ ব্যক্তির সম্পদ পূর্বের চেয়ে অতিরিক্তের উপযোগী বৃদ্ধি পেল (অর্থাৎ-দাতা এখন আরো ধনী হয়ে গেল) যা থেকে বুঝা যাবে, এ অতিরিক্তটুকু ঐ ব্যক্তির পদের কারণে নয় বরং নিজের সম্পদ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে হয়েছে। তৃতীয়ত: নিজের নিকটতম মুহরিম থেকে। যেমনঃ-মাতা-পিতা, ছেলে-মেয়ে, ভাই-বোন, (কিন্তু) চাচা, মামা, খালা, ফুফুর ছেলে নয়, কারণ এরা মুহরিম নয়। যদিও প্রচলিত নিয়মে এদেরকে ভাই বলা হয়। আরো বলেন:“অতঃপর যেখানে যেখানে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেটার ভিত্তি শুধুমাত্র ছাড়ের অপবাদ ও আশংকার উপর, সত্যিকার অর্থে ছাড়ের অস্তিত্ব আবশ্যক নয়। কারণ তার নিজের আমল কিছু রদবদল না করা বা তার আন্তরিকতাপূর্ণ অভ্যাস সম্পর্কে জানা জায়িয হওয়ার জন্য ফলদায়ক হতে পারে।



দুনিয়ার কাজ ইচ্ছার উপরই চলে। যখন এ দাওয়াত ও উপহার গ্রহণ করবে তখন অবশ্যই খেয়াল যাবে, সম্ভবত এবারে কোন রূপ প্রভাব পড়বে, বিনামূল্যে মাল দেয়ার প্রভাব হচ্ছে পরীক্ষিত ও চোখ দেখা। ঐবার হয়নি এবার হবে। এবার হয়নি এরপর কখনো হবে। আর এ বাহানা করা, তার জন্য উপহার ও দাওয়াত মানবতার ভিত্তিতে ক্ষমতাশীল হওয়ার কারণে নয়।



এটার প্রতি উত্তর স্বয়ং খাতামুল মুরসালীন, শফীউল মুযনিবীন, রাহমাতুল্লিল আলামীন, হুযুর পুরনূর (ﷺ)ইরশাদ করেছেন: “যখন এক ব্যক্তিকে যাকাত সংগ্রহ করার জন্য নির্ধারণ করে পাঠালেন, তিনি যাকাতের মাল হাযির করে কিছু মাল আলাদা করে রাখলেন, এটা আমি পেয়েছি। ইরশাদ করেছেন: “তোমার মায়ের ঘরে বসে দেখ, এখন কত উপহার পাওয়া যায়! অর্থাৎ-এ উপহার হচ্ছে শুধুমাত্র এ পদের ভিত্তিতে, যদি ঘরে বসে থাকতে তবে কে এসে দিয়ে যেত?” (সহীহ মুসলিম, পৃষ্ঠা ১০১৯, হাদীস নং-১৮৩২, ফতোওয়ায়ে রযবীয়া, ১৮তম খন্ড, ১৭০,১৭১ পৃষ্ঠা)



প্রশ্ন: যদি ছাত্র তার শিক্ষককে উপহার পেশ করে তাহলে গ্রহণ করবেন কি করবেন না?


উত্তর: কুরআনে পাক অথবা দরসে নিযামী শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে দেয়া উপহার সমূহ গ্রহণ করাতে খুবই সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন, কেননা শিক্ষকও অনেক মুসলমান (যথা-ছাত্র) এর ব্যাপারে “অভিভাবক” (অর্থাৎ- শাসনকর্তা) হয়ে থাকেন। ক্ষমতাসীনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে হযরত আল্লামা শামী (رحمة الله) বলেন: “ক্ষমতাসীনের মধ্যে বাজার ও শহরের পদস্থ ব্যক্তি, ওয়াকফ এষ্টেটের কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত ব্যক্তি, ও ঐসকল ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত যারা এ ধরনের বিষয়ে ক্ষমতাসীন হন, যা মুসলমানদের সাথে সম্পৃক্ত।”(রদ্দুল মুখতার, ৮ম খন্ড, ৫০ পৃষ্ঠা)



উপরোল্লিখিত উদ্ধৃতির আলোকে শিক্ষকও এক ধরনের ক্ষমতাসীন ব্যক্তি, কেননা মাদ্রাসায় ছাত্রদের ভর্তি বহাল থাকা প্রায়ই শিক্ষকেরই দয়া-মায়ার উপর নির্ভরশীল।


শিক্ষক ছাত্রের নিয়ম বহির্ভুত কাজের জন্য ক্লাস থেকে বের করে দিতে পারেন। অথবা বিহিস্কার করার জন্য সুপারিশ করতে পারেন। এভাবে পরীক্ষায় কৃত প্রশ্নপত্র সময়ের পূর্বে প্রকাশ করা, পরীক্ষার ফলাফলে ভাল নম্বর দেয়া বা ফেল করে দেয়াও শিক্ষকের হাতে থাকে। অনেক ছাত্র এমনও রয়েছে যাদের মধ্যে জ্ঞানার্জনের আগ্রহ কম থাকে অপরদিকে তারা দুষ্টামী ও নিয়ম বহির্ভুত কাজে আগে আগে থাকে। যেহেতু নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা দ্বারা শিক্ষককে সন্তুষ্ট করতে পারে না তাই কখনো কখনো উপহার পেশ করে ও দাওয়াত খাওয়ায়, যাতে তাদেরকে মাদ্রাসা থেকে বের করা না হয়, আর ফেল করানো না হয়। তাই শিক্ষকদের উচিত এ ধরনের ছাত্রদের উপহার সমূহ ও দাওয়াত গ্রহণ না করা। আর যদি জানতে পারেন, এ উপহার ও দাওয়াত বিশেষভাবে এজন্যই করা হয়েছে, আলোচ্য শ্রেণীর ছাত্রদের যেন কাজ হয়। আর ইনি সত্যিই তাদের কাজ করতে পারেন বা কাজ সম্পাদনের মাধ্যম হতে পারেন তাহলে এ অবস্থায় গ্রহণ করা হারাম ও জাহান্নামে নিক্ষেপকারী কাজ। “শামী”গ্রন্থে রয়েছে,“এভাবে যখন আলিমকে সুপারিশ বা জুলুম দূর করার জন্য উপহার দেয়া হয় তাহলে তা ঘুষ। শিক্ষকের যে হুকুম বর্ণিত হল, তা প্রত্যেক ব্যবস্থাপকেরই জন্য, চাই কোন প্রতিষ্ঠানের হোক কিংবা দলের, চাই বিশুদ্ধ ধর্মীয় গোষ্ঠী হোক বা রাজনৈতিক। কারণ কোন না কোন ভাবে এগুলোও মুসলমানদের অনেক বিষয়ের উপর ক্ষমতাসীন হয়ে থাকে আর এদের কলমের ঝাঁকুনি বা মুখ চালানোতে অনেক মানুষের লাভ-ক্ষতি হতে পারে তাই তাদেরকে উপহার ও দাওয়াত গ্রহণের ক্ষেত্রে খুবই সতর্কতা অবলম্বন করা আবশ্যক।”(রদ্দুল মুহতার, ৯ম খন্ড, ৬০৭ পৃষ্ঠা)



উপহার ফিরিয়ে দেয়ার দু’টি ঘটনা হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত সায়্যিদুনা ইমাম মুহাম্মদ গাযালী (رحمة الله) থেকে বর্ণিত রয়েছে, হযরত সায়্যিদুনা শক্বীক বলখী (رحمة الله) বলেন: আমি হযরত সায়্যিদুনা সুফিয়ান সাওরী (رحمة الله) কে উপহার স্বরূপ কাপড় পেশ করলাম, তখন তিনি আমাকে তা ফিরিয়ে দিলেন। আমি আরয করলাম:“ইয়া সায়্যিদী! আমি আপনার ছাত্র নই। বললেন: “আমি জানি কিন্তু আপনার ভাইতো আমার কাছ থেকে হাদীসে পাক শুনেছেন, আমার ভয় হচ্ছে আবার যেন আমার অন্তর আপনার ভাইয়ের জন্য অন্যের তুলনায় অধিক নরম হয়ে না যায়। (হিলইয়াতুল আওলিয়া, ৭ম খন্ড, ৩ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ৯৩০২ )



একবার হযরত সায়্যিদুনা সুফিয়ান সাওরী (رحمة الله) এর বন্ধুর ছেলে হাযির হয়ে কিছু নযরানা পেশ করলে তিনি গ্রহণ করলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে তাকে ডেকে পাঠালেন এবং অনেক চেষ্টা করে তাকে ঐ উপহার ফিরিয়ে দিলেন। এটা এজন্য করেছেন, তার বন্ধুত্ব আল্লাহ্ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য ছিল। তাই (رحمة الله) তাঁর মধ্যে ভয় হল, এ উপহার আবার যেন আল্লাহ্ তাআলার খাতিরে বন্ধুত্বের বিনিময় হয়ে না যায়। তাঁর (رحمة الله) শাহজাদা সায়্যিদুনা (رحمة الله) মোবারক বলেন: আমি আরয করলাম: “বাবাজান! আপনার কি হল! আপনি যখন নিয়েই নিয়েছিলেন তাহলে আমাদের খাতিরে রেখেই দিতেন।” বললেন: “হে মোবারক! তোমরাতো আনন্দের সাথে এসব ব্যবহার করবে কিন্তু কিয়ামতের দিন প্রশ্ন আমাকে করা হবে।”(ইহইয়াউল উলুম, ৩য় খন্ড, ৪০৮ পৃষ্ঠা)



প্রশ্ন: ক্ষমতাসীন ব্যক্তিকে যদি কোন অধীনস্থ ব্যক্তি মদীনা শরীফের খেজুর অথবা যমযম শরীফের পানি পেশ করে তবে নেবে কি নেবে না? উত্তর: গ্রহণ করে নিবেন, কারণ তাতে ঘুষের অপবাদের আশংকা নেই। এছাড়া রিসালা, বয়ানের ক্যাসেট, দ্বীন প্রচার সম্পর্কিত জিনিস-পত্র ইত্যাদি বা নালাইন পাকের কার্ড, খুবই অল্প মূল্যের তাসবীহ বা কমমূল্যের।



যেমন- দুই তিন টাকা মূল্যের কলম ইত্যাদি গ্রহণ করাতে অসুবিধা নেই। কেননা এটা এ ধরনের উপহার নয়, যা অপবাদের কারণ হয়। এছাড়া হজ্জ বা মদীনার সফর কিংবা বিয়ে বা বাচ্চা জন্মগ্রহণের



সময় উপহার দেয়ার প্রচলন রয়েছে। এ ধরনের উপহারও ক্ষমতাসীন ব্যক্তি তার অধীনস্থ ব্যক্তি থেকে নিতে পারেন। তবে যদি প্রচলিত নিয়মের অধিক উপহার দেয় তাহলে নিতে পারবেন না।যেমন-১০০ টাকার প্রচলন রয়েছে আর ৫০০ বা ১২০০ টাকার উপহার দিল তা নেয়া যাবে। কিন্তু এ পরিমাণ নোটের মালা পরিধান করাল তাহলে অপবাদের আশংকার কারণে না-জায়িয হয়ে যাবে। (এসব বিধি-বিধান সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য মাকতাবাতুল মদীনার থেকে প্রকাশিত মাদানী মুযাকারার ৭১-৭৪ নম্বর ক্যাসেট শুনুন। মজলিশে মাকতাবাতুল মদীনা) প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা!তবলীগে কুরআন ও সুন্নাতের বিশ্বব্যাপি অরাজনৈতিক সংগঠন দাওয়াতে ইসলামীর মাদানী পরিবেশের সাথে সম্পৃক্ত থাকলে ও সুন্নাত প্রশিক্ষণের মাদানী কাফেলায় আশিকানে রাসুলদের সাথে সফরের সৌভাগ্য অর্জন করতে থাকলে ان شاء الله عز وجل এর বরকতে শরীয়াতের বিধি-বিধান শিক্ষা গ্রহণ করতে থাকবেন। 

_______________

কিতাব : ফয়যানে সুন্নাত

লেখক : আমীরে আহলে সুন্নাত মাওলানা মুহাম্মদ বিলাল মুহাম্মদ ইলইয়াস আত্তার কাদেরী রযবীয়া (দা.)

সূত্রঃ 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan


Post a Comment

أحدث أقدم