হযরত আসাদুল আরিফীন সায়্যিদুনা ওয়া মাওলানা হযরত সায়্যিদ শাহ্ হামযা আয়নী মারহারাভী কাদ্দাসাল্লাহ সিররাহু তাঁর বয়ায শরীফ (بیاض)-এ এরশাদ করেছেন- ‘প্রকাশ থাকে যে, মাশায়িখ কিরামের যে খিলাফত এ উপমহাদেশে প্রচলিত আছে তা সাত প্রকার । তম্মধ্যে কিছু আছে গ্রহণযোগ্য ও পরিচিত আর কিছু অজ্ঞাত । যেমন- প্রথমতঃ হচ্ছে ‘সরাসরি' (إصاالة), দ্বিতীয়তঃ অনুমতিক্রমে (إجازة), তৃতীয়তঃ ঐক্যমতের ভিত্তিতে (إجماعا), চতুর্থতঃ উত্তরাধিকারসূত্রে (وراثة), পঞ্চমতঃ নির্দেশগত (حکما), ষষ্ঠতঃ বাধ্যগত (تکلیفا) ও সপ্তমতঃ ওয়াইসীগত (أویسیا)।
এক. সরাসরি (إصالة) হচ্ছে, কোন বুযর্গ আল্লাহ তা'আলার হুকুমে কোন ব্যক্তিকে নিজ খলিফা বা জা-নশীন (প্রতিনিধি) মনোনীত করা। এটা এভাবে যে, হুযুর (ﷺ) হাদীস শরীফে ইরশাদ করেছেন,
مَا قَدَّمتُ اَبَا بَکَرٍ وَعُمَرَ وَلَکِنَّ اللّٰهَ قَدَّمَهُمَا
‘আমি আবু বক্কর সিদ্দিক ও উমর ফারুককে অগ্রবর্তী করিনি বরং আল্লাহ তা'আলা তাদের উভয়কে অগ্রবর্তী করেছেন।
হুযূর (ﷺ) থেকে আরো বর্ণিত আছে যে,
১. আলী মুত্তাকী হিন্দী, কনযুল উম্মাল ফী সুনানিল আকওয়াল ওয়া আফ’আল, ইবনে নাজ্জার হযরত আনাসের সূত্রে, হাদীস : ৩২৭০৬, ১১/৫৭২
یَا عَلِيُّ! سَأَلتُ اللّٰهَ ثَلاَثُا أَن یُّقَدَّمَكَ فَأَبَي إلاَّ أَن یَّقَدَّمَ أَبَا بَکَر
‘হে আলী! আমি তোমার ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলার কাছে তিনবার এমর্মে প্রার্থনা করেছি যে, তিনি যেন তোমাকে অগ্রবর্তী করেন। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা আবু বকর ব্যতীত অন্য কাউকে অগ্রবর্তী করতে চাননি।
হুযুর সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো ইরশাদ করেছেন,
یَأَبِي اللّٰهُ والمُٶمِنُونَ إلاَّ أَبَا بَکَرٍ.‘আবু বকর সিদ্দিক ব্যতীত অন্য কাউকে ইমাম (খলিফা) মনোনীত করার ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা এবং মুমিনগণ অস্বীকার করবেন ।উপরিউক্ত বর্ণনা ছাড়াও অন্যান্য হাদীস শরীফে এ মর্মে আরো অনেক বর্ণনা রয়েছে।
দুই. অনুমতিক্রমে (إجازة) হচ্ছে, কোন শায়খ (পীর) কোন মুরিদকে চাই ওই মুরিদ তার ওয়ারিস হোক বা অন্য কেউ (শরীয়ত ও তরীকতের) কাজে উপযুক্ত দেখে নিজ সন্তুষ্টিতে ও প্রীত হয়ে স্বীয় খলিফা মনোনীত করা । [যেমনিভাবে আমিরুল মু'মিনীন হযরত আলী মুরতাজা রাদ্বিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু হযরত আমিরুল মু'মিনীন হাসান ইবনে আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে খলিফা মনোনীত করছিলেন।
তিন. ঐক্যমতের ভিত্তিতে (إجماعا) হচ্ছে, শায়খ (পীর) স্বীয় জীবদ্দশায় কাউকে খলিফা মনোনীত না করেই ওফাতবরণ করলো ফলে আহলে খানকাহ বা শায়খের মুরীদগণ শায়খের কোন ওয়ারিস বা কোন মুরিদকে শায়খের খলিফা। বা জা-নশীন (প্রতিনিধি) মনোনীত করা।
[যেমনিভাবে আসহাবুর রায় হযরত উসমান গনি রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর শাহাদতের পর আমীরুল মু'মিনীন হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে খলিফা মনোনীত করেছেন।
কিন্তু এ প্রকার খিলাফত তরীকতের শায়খগণের নিকট বৈধ নয়। এ প্রকার খিলাফতকে খিলাফতে ইখতিরায়ী (خلافت إختواعي) বা মনোনয়নগত খিলাফত বলা হয়।
১. আলী মুত্তাকী হিন্দী, কনযুল উম্মাল ফী সুনানিল আকওয়াল ওয়া আফ’আল, ইবনে নাজ্জার হযরত আনাসের সূত্রে, হাদীস : ৩২৭০৬, ১১/৫৭২ ২. ইবনে সা'দ, আত-তবকাতুল কুবরা
ذکر الصلاة التی امر بمارسول اللّٰه علیه وسلم أبا بکر عند وفاته
৩/১৮০,দারু সাদির, বৈরুত।
(কারণ, এ ক্ষেত্রে খিলাফতে আম্মাহ্ পাওয়া যায়নি। অথচ খিলাফতে খাসের জন্য এটা শর্ত। কিন্তু হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু তাআলা আনহুর ক্ষেত্রে এ প্রকার খিলাফত বৈধ হওয়ার কারণ হলো, তার ‘খিলাফতে আম্মা' অর্জিত ছিলো। কারণ, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লামের মহান সম্মানিত খলিফাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
চার. উত্তরাধিকারসূত্রে (وراثة) হচ্ছে, কোন শায়খ (পীর) আপন জীবদ্দশায় নিজের কোন প্রতিনিধি মনোনীত করা ছাড়াই ইন্তেকাল করলে, খিলাফতের উপযুক্ত ওই শায়খের কোন ওয়ারিশ তার স্থানে বসে যাওয়া এবং নিজেকে ওই শায়খের খলিফা বানিয়ে নেওয়া। ‘যেমন, হযরত আমীর-ই মুআবিয়া রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর খিলাফতের দাবি করা, তার চাচাতো ভাই আমিরুল মু'মিনীন হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর শাহাদতের পর এবং ইমাম হাসান মুজতাবা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে খিলাফতের দায়িত্ব অর্পণ করার পূর্বমুহূর্ত সময়গুলোতে। আর এ দাবি তখনই গ্রহণযোগ্য হবে যখন খিলাফতের দাবি তার পূর্বে করবে। আর সঠিক অভিমত হচ্ছে, হযরত আমীর মুআবিয়া খিলাফতের দাবি অস্বীকার করতেন। তিনি বলতেন,
إِنِّي لأَعلَمُ أَنَّهُ أَفضَلُ مِنِّي وَأَحَقُّ، وَلَکِن أَلَستُم تَعلَمُونَ أَنَّ عُثمَانَ قُتِلَ مَظلُومًا، وَأَنَا ابنُ عُمِّهِ وَوَلِیِّهِ، وَاطَّالِبُ بِدَمِهِ.
‘অবশ্য আমি মানি যে, তিনি (আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু) আমার চেয়ে উত্তম এবং খিলাফতের জন্য বেশি উপযুক্ত। কিন্তু তোমরা জানো না, হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়েছে আর আমি তার চাচার ছেলে ও তার ভাই এবং ওসী (অভিভাবক) হই। আমি তার হত্যার বদলা চাচ্ছি।”
কিন্তু ইমাম হাসান মুজতাবা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু যখন তাঁকে খিলাফতের দায়িত্ব সমর্পন করেছেন, তখন নিঃসন্দেহে তিনি (হযরত আমীরে মু'আবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু) সত্য ইমাম ও সত্যবাদী আমীর ছিলেন। ইমাম ইবনে হাজর মক্কী আস- সাওয়াইকে এ কথা বলেছেন।
১. যাহাবী,معاویة بن أبي سفیان ، سیر أعلام النبلاء, ২/১৪০
এ হাদীস ইমাম বোখারীর উস্তাদ ইহইয়া ইবনে সুলায়মান জু'ফী কিতাবুস সিফফীনে উত্তম সনদ সহকারে আবু মুসলিম খাওলানীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
২. ইবনে হাজর মক্কী, আস-সাওয়ায়িকুল মুহরাকা, الخاتمة في بیان إعنقاد أهل السنة, পৃ- ২১৮, মকতবায়ে মজিদিয়া মুলতান।
কিন্তু এ প্রকারের খলিফা নির্বাচন বা মনােনয়ন করা তরীকতের শায়খগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
সাত, আর (ওয়াইসীগত হচ্ছে,) কখনো ওফাতপ্রাপ্ত শায়খ তার (মুরিদের) বাতিনে খিলাফতের নির্দেশ দেওয়া তরীকতে বা তাসাওউফে এ প্রকার খিলাফত বৈধ। কেননা, রুহের প্রতি নির্দেশ প্রদান করার বৈধতা তাসাউফপন্থীগণ স্বীকার করে থাকেন। [এই সময় ওয়াইসীয়া তরীকার প্রতি এ বিধান প্রত্যাবর্তন করা হবে। যেমন, হযরত আবুল হাসান খিরকানী হযরত আবু ইয়াযীদ বোস্তামী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুর খলিফা ছিলেন। কিন্তু এ বিধান প্রত্যেক দাবিদারের ক্ষেত্রে মানা যাবে না যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা তার ন্যায়পরায়ণতা ও নির্ভরযোগ্যতার ব্যাপারে নিশ্চিত না জানি অথবা আহলে-বাতিন-ব্যক্তিগণ তার ব্যাপারে সাক্ষ্য না দেবেন।
হ্যাঁ, খিলাফতে আম্মাহ্’ শুদ্ধ হওয়ার পর খলিফার মতো আচরণ করা এবং সবার ঐক্যমতে খলিফা নির্বাচিত হওয়া গ্রহণযোগ্যতা লাভ করবে এবং তা যথেষ্ট হবে । কারণ, (لِأَنَّ المَعهُودَ عُرفًا کَالمَشرُوطِ لَفظً) উরফের (লৌকিক প্রথার) ভিত্তিতে প্রমাণিত বিষয় নাম দ্বারা প্রমাণিত হওয়ার অনুরূপ। (مَا رَأَی المُسلِمُونَ حَسَنًا فَهُوَ عِندَ اللّٰهِ حَسَنُ) মুসলমানগণ যা ভাল মনে করবে, তা আল্লাহ তা'আলার কাছেও ভালো।
এ ক্ষেত্রে সর্বজন স্বীকৃত লৌকিক প্রথা (عرف) হচ্ছে, বড় সন্তানই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খিলাফতের হকদার হবে। তার বর্তমানে অন্য কেউ দাবি করতে পারবে না। কিন্তু যদি বড় সন্তান খিলাফতের যােগ্যতা না রাখে অথবা শায়খ শুধু অন্যের নামে অথবা অন্যকে তার সাথে সমান অংশীদার করে ওসীয়ত করে যান, তবে অবশ্যই ওই ওসীয়তের উপর আমল করা থেকে বিরত থাকার কোন সুযোগ নেই। শরঈ যুক্তিসঙ্গত কারণে শায়খে তরিকত তার কোন নিকট-আত্মীয়কে খিলাফত থেকে সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত করা যেমন তার জন্য বৈধ, তেমনিভাবে অন্যজনকে বিশেষ প্রযোজনে তার অংশীদার ও সহযোগী করাও বৈধ। যুক্তিগত কারণসমূহ থেকে একটি কারণ এ-ও হতে পারে যে, যখন ওই সম্মানিত পদের একটি দিক দুনিয়ার সাথে সম্পৃক্ত হয় আর অপরদিক হয় দ্বীনের সাথে,
১. ইবনে আবেদীন আশ-শামী, রদ্দুল মুহতার, کتاب البیوع, ৪/৩৯, দারু ইয়াহইয়ায়িত তুরাসিল আরবী, বৈরুত
২. হাকিম, আল-মুস্তাদরক, کتاب معرفة الصحابة, ৩/৭৮
তখন যে শুধু একটি বিষয় পরিচালনায় যথেষ্ট পারদর্শী, তার থেকে সমস্ত কিছুর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার আশা করা অনিশ্চিত। তাই যদি পরিনামদর্শী শায়খ (পীর) নিজ আত্মীয়ের মধ্যে একজনের পার্থিব বিষয়ে পরিচালনায় অভিজ্ঞ আর অন্যজনকে দ্বীনি বিষয় পরিচালনায় অভিজ্ঞ দেখেন, তবে তিনি আরিফ, অন্তদৃষ্টি সম্পন্ন, পরিনামদর্শী, দ্বীনি বিষয়ে সবচেয়ে হিদায়প্রাপ্ত সরল-সঠিক পথের পথিক, পার্থিব লেনদেনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ব্যক্তিকে ‘খলিফা মনোনীত করলে এবং পার্থিব ব্যবস্থাপনায় বিজ্ঞ ব্যক্তিকে তার অংশীদার ও সহযোগি নির্বাচন করলে তাতে কারো আপত্তি বা অভিযোগের সুযোগ নেই।
কারণ, এ উভয়ের ঐক্যমতের ভিত্তিতে একটি সামাজিক ভিত্তি অর্জিত হয় এবং এ মহান পদের সকল দায়িত্ব ও কর্তব্য উত্তম এবং সুচারুরূপে বিকাশ লাভ করে। কিন্তু ইমামতে কুবরা বা রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে দ্বৈত্ব নেতৃত্ব অবৈধ। কারণ, দ্বৈত্ব নেতৃত্ব অনেক বড় বড় ফিতনার জন্ম দেয় এবং ধ্বংসাত্মক যুদ্ধে অবতারণার কারণ হয় যা কারো অজানা নয়। প্রবাদ আছে যে, এক রাষ্ট্রে দু'বাদশা রাজত্ব করতে পারে না। আর তরীকতের খিলাফত অনেকক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় খিলাফতের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তরীকতের খিলাফতের ক্ষেত্রে এ দ্বৈত খিলাফত জায়েয কিন্তু রাষ্ট্রীয় খিলাফতের ক্ষেত্রে তার চিন্তা। করাও যাবে না। তাই তরীকতের খিলাফতে রাষ্ট্রীয় খিলাফতের সকল বিধান কার্যকর হয় না। ফলে তরীকতের খিলাফতের জন্য খলিফাকে কুরাইশ বংশীয় হওয়া শর্ত নয় । যে যুক্তিগত কারণে আমি দ্বৈত খিলাফতের যে উদাহরণ পূর্বে বর্ণনা করেছি, তা যদি সত্যে পরিণত হয়, তবে বর্ণিত বিধান কার্যকর হবে। কারণ এ প্রকার দ্বৈত খিলাফত বাতিল হওয়ার ব্যাপারে কোন দলিল নেই। কেউ অবৈধ বললে তার দলিল পেশ করা আবশ্যক। হ্যাঁ, সাজ্জাদানশীন হওয়ার ক্ষেত্রে যে সাধারণ প্রথা চলে আসছে তা একজনের জন্যই প্রযোজ্য হবে। কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া তার বিরোধিতা করা উচিত নয়। কিন্তু কথা হচ্ছে, যখন পীর ও মুরশিদ দু’জনকে নিজের স্থলাভিষিক্ত করে যান, তা রদ করার কোন পথ নেই। হ্যাঁ উপরিউক্ত পদ্ধতিতে এটা বুঝে নিতে হবে যে, দ্বীনের ব্যাপারে যিনি বেশি হিদায়তের উপর প্রতিষ্ঠিত তিনি হলেন মূল স্থলাভিষিক্ত (জা-নশীন) আর অপরজন হচ্ছেন দরবার, দরগাহ বা খানেকার দেখাশোনাকারী ও ব্যবস্থাপক।
যেমন (ইতোপূর্বে) এ দিকে ইঙ্গিত করেছি। আর আল্লাহ ত্রুটিমুক্ত ও মহান, সঠিক অভিমত সম্পর্কে তিনি সবচেয়ে বেশি পরিজ্ঞাত। তার নিকটই মূল কিতাব সংরক্ষিত। আল্লাহ তা'আলা দরূদ প্রেরণ করুন আমাদের আকা ও সরদার হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’র প্রতি এবং তাঁর সকল আত্মীয়-স্বজন, সাহাবী, খলিফা, প্রতিনিধি তাবিঈ ও বন্ধুর প্রতি। আমীন।
_____________
বায়াত ও খিলাফতের বিধান
মূল :- ইমাম আহমদ রেযা খান বেরেলভী রহমাতুল্লাহি আলাইহি।
অনুবাদ: মুহাম্মদ নেজাম উদ্দীন
🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন