পয়গম্বর নূহ (عليه السلام)-এর দিবস উদযাপনের পক্ষে দালিলিক প্রমাণ

 

পয়গম্বর নূহ (عليه السلام)-এর দিবস উদযাপনের পক্ষে দালিলিক প্রমাণ


ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (১৬৪-২৪১ হিজরী) ও হাফেয ইবনে হাজর আসক্বালানী (৭৭৩-৮৫২ হিজরী) হযরত আবূ হোরায়রা (رضي الله عنه) হতে একটি হাদীস বর্ণনা করেন এই মর্মে যে, ‘এয়াওমে আশূরা’ (১০ই মহররম) ওই দিবস যা’তে আল্লাহতা’লা পয়গম্বর নূহ (عليه السلام) ও তাঁর জাতির প্রতি আপন করুণা ও আশীর্বাদ বর্ষণ করেন; এটা ছিল এমন-ই এক দিন যখন তাঁরা আল-জূদী পর্বতে (الجودي) নিরাপদে অবতরণ করেন। পয়গম্বর নূহ (عليه السلام) ও তাঁর উম্মত এই দিনটিকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দিবস হিসেবে উদযাপন করেন, আর তাঁদের উত্তরসূরীরাও এটাকে সম্মান প্রদর্শন করেন।

হযরত আবূ হোরায়রা (رضي الله عنه) বর্ণনা করেন যে সবচেয়ে করুণাশীল রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম যখন ইহুদীদেরকে ‘এয়াওমে আশূরা’ দিবসে তাদের রোযা পালন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, তখন তারা বনূ ইসরাঈল বংশের মুক্তি ও ফেরাউনের সলিল সমাধির কথা উল্লেখ করার পর বলেন:

“অধিকন্তু, এই দিনে নূহ (عليه السلام)-এর কিস্তি নিরাপদে জূদী পর্বতে ভিড়ে। তাই সর্ব-পয়গম্বর নূহ (عليه السلام) ও মূসা (عليه السلام) আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশার্থে এদিনটিতে রোযা রাখতেন।”

এমতাবস্থায় মহানবী (ﷺ) বলেন: “পয়গম্বর মূসা (عليه السلام)-এর ওপর আমার হক্ক (অধিকার) আরো বেশি, আর তাই এই দিনে রোযা রাখার হক্ক-ও আমারই সবচেয়ে বেশি।” [ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল কৃত ‘আল-মুসনাদ’, ২:৩৫৯-৩৬০ #৮৭০২; এবং আল-আসক্বালানী প্রণীত ‘ফাতহুল বারী’, ৪:২৪৭] 

অতঃপর প্রিয়নবী (ﷺ) তাঁর মহান সাহাবা (رضي الله عنه)-বৃন্দকেও রোযা পালনের নির্দেশ দেন।

মানবজাতির দ্বিতীয় পিতা পয়গম্বর নূহ (عليه السلام) তাঁর উম্মতকে সাথে নিয়ে রক্ষা পাওয়ার ফলে মনুষ্যকুল পৃথিবীতে টিকে যায়। তাঁর উম্মত ওই দিনটি উদযাপন করেন এবং আল্লাহর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ হন। এ থেকে আমরা শিক্ষা পাই যে ঈমানদারবৃন্দ যেসব ঘটনায় (খোদাপ্রদত্ত) নিরাপত্তা ও মুক্তি লাভ করেন, সেগুলোতে সামষ্টিক পর্যায়ে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে হবে। এটা ইসলামী সভ্যতা ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এভাবেই মহানবী (ﷺ)-এর আশীর্বাদপূর্ণ বেলাদত তথা ধরণীতলে শুভাগমন দিবস ঈমানদারদের জন্যে শেষ বিচার দিবস অবধি ঈদ হিসেবে বরণীয় হবে।

__________________

মওলিদুন্নবী (ﷺ)-এর উদযাপন ও অনুমতি (১ম খণ্ড)

মূল: শায়খুল ইসলাম ড: মুহাম্মদ তাহিরুল কাদেরী

অনুবাদ: কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন

 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন