বাগদাদের ব্যবসায়ী


বাগদাদ শরীফের এক ব্যবসায়ী আউলিয়ায়ে কিরাম رحمهم الله تعالى এর প্রতি খুবই ঘৃণাপোষণ করত। একদিন হযরত সায়্যিদুনা বিশর হাফী (رحمة الله) জুমার নামায পড়ে তাড়াতাড়ি বের হতে দেখে মনে মনে বলতে লাগল যে, দেখোতো! এটা ওলী হয়ে ঘুরে! এটা নাকি ওলী! অথচ মসজিদে তার মন বসে না, তাইতো নামায পড়ে সাথে সাথে বাইরে বেরিয়ে গেল। ঐ ব্যবসায়ী এসব কিছু ভেবে ও বলে তার পিছনে চলতে লাগল। হযরত সায়্যিদুনা বিশর হাফী (رحمة الله) এক রুটিওয়ালা থেকে রুটি কিনে শহরের বাইরের দিকে চললেন। ব্যবসায়ী এটা দেখে আরো রাগান্বিত হল ও বলল: এ ব্যক্তি শুধুমাত্র রুটির জন্য মসজিদ থেকে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এসেছে আর এখন শহরের বাইরে কোন সবুজ প্রান্তরে বসে খাবে। ব্যবসায়ী পিছু পিছু চলাতে লাগল আর এমন মন-মানসিকতা তৈরী করল যে, যেমাত্র বসে সে রুটি খেতে শুরু করবে, আমি জিজ্ঞাসা করব যে, ওলী কি এরূপ হয়ে থাকে যে রুটির খাতিরে মসজিদ থেকে তৎক্ষণাৎ বেরিয়ে আসে! তাই ব্যবসায়ী পিছু নিল, শেষ পর্যন্ত হযরত সায়্যিদুনা বিশর হাফী (رحمة الله) কান একটি গ্রামে গিয়ে একটি মসজিদে প্রবেশ করলেন। সেখানে একজন অসুস্থ ব্যক্তি শোয়াবস্থায় ছিল।



হযরত সায়্যিদুনা বিশর হাফী (رحمة الله)ঐ রোগীর মাথার সামনে তাকে নিজ হাতে রুটি খাওয়ালেন। ব্যবসায়ী এ ঘটনা দেখে অবাক হল। অতঃপর গ্রাম দেখার জন্য বাইরে আসল। কিছুক্ষণ পর যখন পুনরায়মসজিদে আসল তখন দেখল যে, রোগী সেখানে শোয়াবস্থায় আছে কিন্তু হযরত সায়্যিদুনা বিশর হাফী (رحمة الله) সখানে নেই। সে রোগীকে জিজ্ঞাসা করল, “তিনি কোথায় গেলেন?” সে বলল, “তিনিতো বাগদাদ শরীফ চলে গেছেন।” ব্যবসায়ী জিজ্ঞাসা করল, “বাগদাদ এখান থেকে কতদূর?” সে বলল: “চল্লিশ মাইল।” ব্যবসায়ী ভাবতে লাগল যে, “আমি বড় মুশকিলে ফেঁসে গেছি যে, তাঁর পিছনে এত দূরে চলে আসলাম আর আশ্চর্য ব্যাপার হচ্ছে, আসার সময় কিছু বুঝতেই পারিনি কিন্তু এখন কিভাবে ফেরা যাবে? এরপর সে জিজ্ঞাসা করল যে, “তিনি আবার কখন এখানে আসবেন?” বলল: “আগামী জুমাতে। ব্যবসায়ী সেখানে থেকে গেল। যখন জুমা আসল তখন হযরত সায়্যিদুনা বিশর হাফী (رحمة الله)নিজের সময়মত আসলেন ও রোগীকে রুটি খাওয়ালেন। তিনি (رحمة الله)এ ব্যবসায়ীকে বললেন: “আপনি আমার পিছনে কেন এসেছেন?” ব্যবসায়ী বিনয়ের সাথে আরয করল, “হুযুর! আমার ভুল হয়েছে!” বললেন: “উঠুন আর আমার পিছনে পিছনে চলে আসুন।সুতরাং, সে হযরত বিশর হাফী (رحمة الله)এর পিছনে পিছনে চলতে লাগল আর একটু পরেই বাগদাদ শরীফ পৌঁছে গেল। হযরত সায়্যিদুনা বিশর হাফী (رحمة الله) এর জীবন্ত কারামত দেখে বাগদাদের ব্যবসায়ী আওলিয়ায়ে কিরামের প্রতি ঘৃণা পোষণ করা থেকে তাওবা করল এবং এরপর থেকে এসব পবিত্র মানুষদের প্রতি আন্তরিক ভাবে বিশ্বাসী হয়ে গেল। (রাওযুর রিয়াহীন, ১১৮ পৃষ্ঠা)।


আল্লাহ্ তাআলার রহমত তাঁদের উপর বর্ষিত হোক এবং তাঁদেরসদকায় আমাদের ক্ষমা হোক।

_______________

কিতাব : ফয়যানে সুন্নাত

লেখক : আমীরে আহলে সুন্নাত মাওলানা মুহাম্মদ বিলাল মুহাম্মদ ইলইয়াস আত্তার কাদেরী রযবীয়া (দা.)

সূত্রঃ 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন