হুযূর [ﷺ] কি দূরের দুরুদ শরীফ শুনেন?


❏ দরসে হাদীসঃ [হাদীস নং- (৮৭৪)]


○ অধ্যায়ঃ [নবী করিম [ﷺ]-এর উপর দুরুদ শরীফ পাঠ ও দুরুদ শরীফের ফযীলত]

[ﻭﻋﻦ ﺍﺑﻰ ﻫﺮﻳﺮﺓ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﷺ ﻣﻦ ﺻﻠﻰ ﻋﻠﻰ ﻋﻨﺪ ﻗﺒﺮﻯ ﺳﻤﻌﺘﻪ ﻭﻣﻦ ﺻﻠﻰ ﻋﻠﻰ ﻧﺎﺋﻴﺎ ﺍﺑﻠﻐﺘﻪ . ‏] - ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻰ ﻓﻰ ﺷﻌﺐ ﺍﻻﻳﻤﺎﻥ )


হযরত আবূ হুরাইরা [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলাল্লাহ [ﷺ] এরশাদ করেছেনঃ "যে আমার কবরের নিকট আমার উপর দুরুদ পড়বে, তা আমি শুনবো। আর যে দূর হতে আমার প্রতি দুরুদ পড়বে তা আমার নিকট পৌঁছানো হয়।" (টীকাঃ ১) [বায়হাক্বী-শো'আবুল ঈমান]


□ উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখায় বলা হয়েছেঃ



___


◇ টীকাঃ ১.


অর্থাৎ পবিত্র রওযার পার্শ্বে দুরুদ পাঠকের দুরুদ তো বিনা মাধ্যমে (সরাসরি) শুনে থাকি। আর দূরবর্তী স্থান হতে পাঠকের দুরুদ শুনিও, আবার তা পৌঁছানোও হয়। কারণ এখানে দূরের দুরুদ শুনার কথা অস্বীকার করা হয় নি।


সম্মাণিত সূফীগণ বলেন যে, মুহাব্বতপূর্ণ দুরুদ শরীফ পাঠক দূরে অবস্থান করলেও পবিত্র রওযার নিকটেই। আর ভালোবাসাশূন্য ব্যক্তি নিকটে হলেও দূরে। তাঁদের মতে এ হাদীসের মর্মার্থ হচ্ছে- হৃদয়ের নিকটবর্তীদের দুরুদ আমি স্বয়ং মুহাব্বতের সাথে শুনি। আর শুষ্ক-হৃদয়ধারীদের দুরুদ ফিরিশতারা তাদের দায়িত্ব পালন করার জন্য পৌঁছিয়ে তো দিয়ে থাকেন, কিন্তু আমি মনযোগ সহকারে শুনি না। এ একই বিষয়বস্তুর একটি হাদীস 'দালাইলুল খায়রাত শরীফ' -এর ভূমিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, যা'তে হুযূর এরশাদ করেছেন-


[ﺍﺳﻤﻊ ﺻﻠﻮﺓ ﺍﻫﻞ ﻣﺤﺒﺘﻰ ﺍﻟﺦ . . .]


অর্থাৎঃ আমি ভালোবাসা পূর্ণ লোকদের পঠিত দুরুদ নিজেই শুনে থাকি।... আল হাদীস।


এতদ্বিত্তিতে আলোচ্য হাদীসের অর্থ সুস্পষ্ট। অন্যথায় যে মাহবূব [ﷺ] হাজার হাজার মণ মাটির অন্তরালে থেকেও দুরুদ শরীফ শোনেন, তিনি দূর হতে দুরুদ শরীফ কেন শুনবেন না?


● হাদীস শরীফের ব্যাখ্যা সম্বলিত টীকা পেতে সার্চ করুনঃ


f/Ishq-E-Mustafa ﷺ


[সূত্রঃ মিরআতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, কৃত- মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী]



❏ দরসে হাদীসঃ [হাদীস নং- (৮৭৫)]



○ অধ্যায়ঃ [নবী করিম [ﷺ]-এর উপর দুরুদ শরীফ পাঠ ও দুরুদ শরীফের ফযীলত]


[ﻭﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮﻭ ﻗﺎﻝ ﻣﻦ ﺻﻠﻰ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻨﺒﻰ ﷺ ﻭﺍﺣﺪﺓ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﻣﻼﺋﻜﺘﻪ ﺳﺒﻌﻴﻦ ﺻﻠﻮﺓ . ‏] - ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﺣﻤﺪ )


হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর [ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,


"যে ব্যক্তি নবী করিম [ﷺ] এর উপর একবার দুরুদ শরীফ পাঠ করবে, আল্লাহ্ তা'আলা ও তাঁর ফিরিশতাগণ তার উপর সত্তরবার দুরুদ (রহমত) প্রেরণ করেন।" (টীকাঃ ১) [আহমদ]


□ উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখায় বলা হয়েছেঃ



___


◇ টীকাঃ ১.


এখানে জুমু'আর দিবসের দুরুদ পাঠ বুঝানো উদ্দেশ্য। কেননা, জুমু'আহ্ দিবসের একটি পুণ্য সত্তরের সমান হয়। এজন্য জুমু'আর দিনের হজ্জকে 'হজ্জে আকবর' বলা হয়। আর এটার সাওয়াব সত্তর হজ্জের সাওয়াবের সমপরিমাণ। অন্যান্য হাদীসে অন্য দিনে পঠিত দুরুদের উল্লেখ রয়েছে। সুতরাং হাদীসগুলো পরষ্পর বিরোধী নয়।


এ হাদীস শরীফ যদিও 'মাওক্বফ' পর্যায়ের, কিন্তু মারফূ' পর্যায়ের বলে গণ্য। কেননা, এতে 'ক্বিয়াস' বা অনুমানের অবকাশ নেই।


● পবিত্র হাদীস শরীফ এর ব্যাখ্যা সম্বলিত টীকা পেতে সার্চ করুনঃ


f/Ishq-E-Mustafa ﷺ


[সূত্রঃ মিরআতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, কৃত- মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী]



❏ দরসে হাদীসঃ [হাদীস নং- (৮৭৬)]



○ অধ্যায়ঃ [নবী করিম [ﷺ]-এর উপর দুরুদ শরীফ পাঠ ও দুরুদ শরীফের ফযীলত]


[ﻭﻋﻦ ﺭﻭﻳﻔﻊ ﺍﻥ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﷺ ﻗﺎﻝ ﻣﻦ ﺻﻠﻰ ﻋﻠﻰ ﻣﺤﻤﺪ ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺍﻧﺰﻟﻪ ﺍﻟﻤﻘﻌﺪ ﺍﻟﻤﻘﺮﺏ ﻋﻨﺪﻙ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻘﻴﻤﺔ ﻭﺟﺒﺖ ﻟﻪ ﺷﻔﺎﻋﺘﻰ . ‏] - ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﺣﻤﺪ )


হযরত রুয়াইফা' [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ] (টীকাঃ ১) হতে বর্ণিত, রাসূলাল্লাহ [ﷺ] এরশাদ করেছেনঃ


"যে ব্যক্তি হুযূর মুহাম্মদ মোস্তফার উপর দুরুদ পড়বে এবং বললে, "হে আল্লাহ্! তাঁকে ক্বিয়ামত দিবসে আপনার নিকটতম ঠিকানায় অবতারণ করুন," (টীকাঃ ২) তার জন্য আমার সুপারিশ নিশ্চিত হয়ে গেলো।" [আহমদ]


□ উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখায় বলা হয়েছেঃ



___


◇ টীকাঃ ১.


তাঁর নাম রুয়াইফা' ইবনে সাবিত আনসারী। তাঁকে হয়রত আমীর-ই মু'আবিয়া [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ] ত্রিপলীয় শাসক নিযুক্ত করেছিলেন। তিনি ৪৭ হিজরীতে আফ্রিকার বিরুদ্ধে জিহাদ করেন। তিনি ৫৬ হিজরীতে রাক্ব্ক্বাহ নামক স্থানে ওফাত পান।


◇ টীকাঃ ২.


এ 'ঠিকানা' মানে হয়তো 'মক্বাম-ই মাহমূদ', যা আরশের ডান পার্শ্বে অবস্থিত, যেখানে হুযূর আসীন হবেন আর সমস্ত সৃষ্টি তাঁর প্রশংসা করবেন; অথবা সেটা 'মক্বাম-ই ওসীলাহ্', যা জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তর। এ দু'টি স্থানই হুযূর-ই পুরনূর শাফি'-ই ইয়াউমিন্ নুশূর [ﷺ] -এর জন্য নির্ধারিত। এখন হুযূর [ﷺ] -এর জন্য ওই স্থান দু'টির প্রার্থনা করা মূলতঃ নিজের জন্য মহান রবের দরবারে প্রার্থনা করার শামিল। অর্থাৎ 'হে আল্লাহ্! আমাকে হুযূর [ﷺ] -এর সুপারিশের উপযোগী করো।


● পবিত্র হাদীস শরীফ এর ব্যাখ্যা সম্বলিত টীকা পেতে সার্চ করুনঃ


f/Ishq-E-Mustafa ﷺ


[সূত্রঃ মিরআতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, কৃত- মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী]



❏ দরসে হাদীসঃ [হাদীস নং- (৮৭৮)]



○ অধ্যায়ঃ [নবী করিম [ﷺ]-এর উপর দুরুদ শরীফ পাঠ ও দুরুদ শরীফের ফযীলত]


[ﻭﻋﻦ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗﺎﻝ ﺍﻥ ﺍﻟﺪﻋﺂﺀ ﻣﻮﻗﻮﻑ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﺴﻤﺂﺀ ﻭﺍﻻﺭﺽ ﻻ ﻳﺼﻌﺪ ﻣﻨﻬﺎ ﺷﻰﺀ ﺣﺘﻰ ﺗﺼﻠﻰ ﻋﻠﻰ ﻧﺒﻴﻚ . ‏] - ‏( ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻯ )


হযরত ওমর ইবনে খাত্তাব [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ] হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ


"দো'আ আসমান ও যমীনের মাঝখানে ঝুলন্ত থাকে। তা থেকে কোন কিছুই উপরের দিকে ওঠে না যতক্ষণ না তুমি আপন নবীর ওপর দুরুদ শরীফ প্রেরণ করো।" (টীকাঃ ১)


[তিরমিযী]


□ উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখায় বলা হয়েছেঃ



___


◇ টীকাঃ ১.


হযরত ওমর [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ] -এর বাণী তাঁর নিজস্ব অভিমত নয়, বরং এটা হুযূর [ﷺ] থেকে শুনেই বলেছেন। কারণ, এ সব কথা নিছক নিজস্ব অভিমতের ভিত্তিতে বলা যায় না।


এতে প্রতীয়মান হয় যে, দুরুদ-দো'আ ক্ববূল হওয়া বরং আল্লাহ্'র মহান দরবারে উপস্থাপিত হওয়ার মাধ্যম।


(উর্দু লাইন দু'টি মূল কিতাবে দেখুন)


"ছোট্ট পিপঁড়া যদি কা'বার তাওয়াফ করতে চায়,


তবে সেটা যেনো কবুতরের পা জড়িয়ে ধরে।"


তাই দো'আ যদি আল্লাহ্'র নৈকট্যের তাওয়াফ করতে চায়, তবে যেনো হুযূর [ﷺ] -এর পবিত্র ক্বদম জড়িয়ে ধরে।



● পবিত্র হাদীসের ব্যাখ্যা সম্বলিত টীকা পেতে সার্চ করুনঃ


f/Ishq-E-Mustafa ﷺ


[সূত্রঃ মিরআতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, কৃত- মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী]

 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]


Post a Comment

أحدث أقدم