মওলিদুন্নবী (ﷺ) উদযাপনের ব্যাপারে মুহাদ্দেসীন-এ-কেরাম ও ইমামবৃন্দের দৃষ্টিভঙ্গি (৩)
মওলিদুন্নবী (ﷺ) উদযাপনের পক্ষে ক্বুরআন-সুন্নাহভিত্তিক বিস্তারিত প্রামাণ্য দলিলাদি পেশের পর এই অধ্যায়ে আমরা এতদসংক্রান্ত বিষয়ের সমর্থনে মতামত প্রকাশকারী ইমামবৃন্দের দলিলগুলো উপস্থাপন করবো। বিভিন্ন ইসলামী দেশ ও সময়কালের সাথে সম্পৃক্ত তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি এক্ষেত্রে ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণনা করা হবে।
মীলাদের এই অনুশীলিত প্রথা ইসলাম ধর্মের মধ্যে সাম্প্রতিক সংযোজন (বেদআত) কিংবা এধরনের রীতি ভারত উপমহাদেশীয় মুসলমানদের দ্বারা-ই কেবল প্রবর্তিত বলাটা একেবারেই ভুল এবং তা বাস্তবতারও পরিপন্থী। বাস্তবতা হলো, মওলিদুন্নবী (ﷺ) স্রেফ পাকিস্তান বা ভারতের মুসলমানদের অনুশীলিত রীতি নয়, কিংবা এটা বেদআত-ও নয়। সমসাময়িককালের মুসলমান সমাজ এই প্রথার প্রবর্তক নন। বস্তুতঃ মওলিদুন্নবী (ﷺ) এমন একটি আনন্দঘন ধর্মীয় অনুষ্ঠান যা দুটি পবিত্র স্থান মক্কা মোয়াযযমা ও মদীনা মোনাওয়ারা এবং গোটা আরব জাহান শতাব্দীর পর শতাব্দী যাবত পালন করে আসছে। ইসলামী বিশ্বের অনারব অংশে এই প্রথা পরবর্তীকালে চালু হয়।
মওলিদুন্নবী (ﷺ) উদযাপনের পক্ষে নেতৃস্থানীয় ইমামমণ্ডলী ও হাদীসবেত্তাবৃন্দের অভিমত ও শরঈ সিদ্ধান্ত নিচে দেয়া হলো:
১৬. যাইন আল-দীন বিন রাজাব আল-হাম্বলী (৭৩৬-৭৯৫ হিজরী)
ইমাম যাইন আল-দ্বীন ‘আবদ আল-রাহমা’ন বিন আহমদ বিন রাজাব আল-হাম্বলী (১৩৩৬-১৩৯৩ খৃষ্টাব্দ) হাম্বলী মাযহাবের একজন প্রসিদ্ধ ফক্বীহ ও ইসলামী গবেষক যিনি অনেক বই লিখেছিলেন। তাঁর রচিত ‘লাতা’য়েফ আল-মা’আরিফ ফী-মা’ লি-মাওয়া’সিম আল-’আম মিন আল-ওয়াযা’য়েফ’শীর্ষক পুস্তকে তিনি বিভিন্ন ইসলামী মাস এবং সেগুলোর ফযীলত তথা উৎকৃষ্ট বৈশিষ্ট্যাবলী সম্পর্কে, আর সেগুলোতে যেসব এবাদত ও নেক আমল পালন করা উচিত সে সম্পর্কেও বিস্তারিত বিবরণ লিপিবদ্ধ করেন। পবিত্র রবীউল আউয়াল মাসের জন্যে তিনি ওই বইয়ে তিনটি অধ্যায় সংরক্ষণ করেন। দুটি অধ্যায় প্রিয়নবী (ﷺ)-এর পবিত্র বেলাদত তথা ধরণীতলে শুভাগমন ও নবুওয়্যতের সূচনা নিয়ে ব্যাপৃত; অপরদিকে, তৃতীয় অধ্যায়টি তাঁর যাহেরী বা বাহ্যিক তিরোধান তথা বেসালপ্রাপ্তি সম্পর্কে আলোকপাত করে। রবীউল আউয়াল অধ্যায়টিতে লেখক এই মাসে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা-সংক্রান্ত বেশ কিছু হাদীস সংকলন করেন এবং এগুলোকে মওলিদুন্নবী (ﷺ)-সম্পর্কিত হাদীসগুলোর মাঝে অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বিবৃত করেন:
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (رحمة الله) উদ্ধৃত করেন হযরত ’এরবা’দ ইবনে সা’রিয়্যা আল-সুলামী (رضي الله عنه)-এর বিবরণটি, যা’তে তিনি মহানবী (ﷺ)-এর নিম্নোক্ত বাণী নক্বল করেন: ‘নিশ্চয় আমি তখনো নবুওয়্যতের সীল-মোহরপ্রাপ্ত (মানে পয়গম্বর) ছিলাম যখন আদম (عليه السلام)-এর কায়া মাটি ছিলো। আমি তোমাদেরকে এর অর্থ কী তা বলছি: আমি হলাম আমার পিতৃপুরুষ পয়গম্বর ইবরাহীম (عليه السلام)-এর দুআর ফল [আল-ক্বুরআন, ২:১২৯]; পয়গম্বর ঈসা (عليه السلام) কর্তৃক তাঁর জাতিকে প্রদত্ত (আগাম) সুসংবাদের পরিপূর্ণতা [আল-ক্বুরআন, ৬:৬১]; আর আমার মহীয়সী মায়ের দেখা (অলৌকিক) স্বপ্নের বাস্তবায়ন। তিনি তাতে তাঁর পবিত্র শরীর মোবারক থেকে বিচ্ছুরিত এমন প্রভা দেখতে পেয়েছিলেন যা সিরিয়ার প্রাসাদগুলো পর্যন্ত আলোকিত করেছিলো। বস্তুতঃ আম্বিয়া (عليه السلام)-এর মাতাবৃন্দ এ ধরনের স্বপ্ন দেখেছেন।’[ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল প্রণীত ‘আল-মুসনাদ’, ৪:১২৭-১২৮ #১৭,১৯০-১৭১৯১ ও ১৭,২০৩; ইবনে হিব্বা’ন কৃত ‘সহীহ’, ১৪:৩১২ #৬,৪০৪; আল-হাকিম লিখিত ‘আল-মোস্তাদরাক’, ২:৬৫৬ #৪১৭৪; আল-তাবারা’নী রচিত ‘আল-মু’জাম আল-কবীর’১৮:২৫৩ #৬৩১; আল-তাবারা’নী প্রণীত ‘মুসনাদ আল-শা’মিয়্যীন’, ২:৩৪০ #১৪৫৫; ইবনে সাআ’দ কৃত ‘আল-তাবাক্বাত আল-কুবরা’, ১:১৪৯; আল-হায়তামী লিখিত ‘মাওয়া’রিদ আল-যাম’আন ইলা’ যাওয়া’ইদে ইবনে হিব্বা’ন’, ৫১২ পৃষ্ঠা #২০৯৩; আল-হায়তামী রচিত ‘মজমাউল যাওয়া’ঈদ ওয়া মানবাআ’ আল-ফাওয়া’ঈদ’, ৮:২২৩; আল-’আসক্বালা’নী প্রণীত ‘ফাতহুল বা’রী’, ৬:৫৮৩; এবং ইবনে কাসীর কৃত ‘আল-বেদা’য়া ওয়াল-নেহা’য়া’, ২:৩২১]
অতঃপর লেখক এতে [ইবনে রাজাব হাম্বলী রচিত ‘লাতা’য়েফ আল-মা’আরিফ ফীমা’ লি-মাওয়া’সিম আল-’আম মিন আল-ওয়াযা’য়েফ’, ১৫৮-২১৬ পৃষ্ঠা] বেশ কিছু হাদীসের উল্লেখ করেন যার দরুন স্পষ্ট হয় যে প্রিয়নবী (ﷺ)-এর বেলাদতের সময়কাল রবীউল আউয়াল মাসে সংঘটিত অলৌকিক ঘটনাবলীর বর্ণনাগুলো গ্রহণযোগ্য, সম্মানিত ও চমৎকার বিষয়।
১৭. ওলী আল-দীন আবূ যুর’আ আল-ইরাক্বী (৭৬২-৮২৬ হিজরী)
ওলী আল-দ্বীন আবূ যুর’আ আহমদ বিন আবদ্ আল-রাহীম বিন হুসাইন আল-’ইরা’ক্বী (১৩৬১-১৪২৩ খৃষ্টাব্দ) হাদীস ও ফেক্বাহ-শাস্ত্রের প্রখ্যাত আলেম। একবার তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয় এ মর্মে যে, মওলিদুন্নবী (ﷺ)-এর উদযাপন মোস্তাহাব (প্রশংসনীয়), না দূষণীয়/বর্জনীয়; নাকি এ বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত অন্য কোনো ফতোয়া বিদ্যমান। তিনি উত্তর দেন:
অন্যদের খাদ্য দান করা সর্বদা-ই মোস্তাহাব; অতএব, এর সাথে যদি নবুওয়্যতের নূর তথা জ্যোতির আলোকে এই (রবীউল আউয়াল) মাসে খুশি প্রকাশ করা হয়, তাহলে তা হবে আরো আশীর্বাদময়। এটা প্রাথমিক যুগের ‘সালাফ’/পুণ্যাত্মাবৃন্দ কর্তৃক অনুশীলিত হয়েছে কি না, তা আমরা জানি না ঠিক; তবে এটা নতুন প্রচলন (বেদআত) হওয়ার বাস্তবতা এই নয় যে একে অপছন্দনীয় হতেই হবে। কেননা কতো বেদআত যে মোস্তাহাব, এমন কি বাধ্যতামূলক-ও (তার কোনো ইয়ত্তা নেই)! [আলী বিন ইবরাহীম, ‘তাশনীফ আল-আযা’ন বি-আসরা’র আল-আযা’ন’, ১৩৬ পৃষ্ঠা]।
১৮. শামস আল-দীন মুহাম্মদ আল-দিমাশকী (৭৭৭-৮৪২ হিজরী)
ইমাম শামস আল-দ্বীন মুহাম্মদ বিন না’সির আল-দ্বীন আল-দিমাশক্বী তাঁর রচিত ‘মওলিদ আল-সা’দী ফী মওলিদ আল-হা’দী’ পুস্তকে লেখেন:
“প্রিয়নবী (ﷺ)-এর বেলাদত/মীলাদ উপলক্ষে খুশি হয়ে সুয়াইবিয়াকে মুক্ত করার ফলে আবূ লাহাবের (পরকালীন) শাস্তি যে প্রতি সোমবার লাঘব করা হয়, তা নির্ভরযোগ্য বর্ণনায় এসেছে….।”
“এই অবিশ্বাসী, যার উদ্দেশ্যে অবতীর্ণ ভর্ৎসনাপূর্ণ ঐশীবাণী,
জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত যার দুই পাণি,
খুশি প্রকাশের ফলে নিরন্তর সোমবারে যার লাঘব হয় শাস্তি,
তাহলে মহানবী (ﷺ)-এর ওই গোলামের ভাগ্যে মঞ্জুর কতোই না স্বস্তি,
মাহবূব (ﷺ)-এর প্রতি সন্তুষ্টিসহ হয়েছে যাঁর বিশ্বাসীর বেসালপ্রাপ্তি।” (ভাবানুবাদ) [ইমাম সৈয়ূতী, ‘হুসন আল-মাক্বসিদ ফী আমালিল-মওলিদ’, ৬৬ পৃষ্ঠা; আল-সৈয়ূতী, ‘আল-হা’ওয়ী লিল-ফাতা’ওয়ী’, ২০৬ পৃষ্ঠা; আল-সা’লেহী, ‘সুবুল আল-হুদা’ ওয়াল-রাশা’দ ফী সীরাতে খায়রিল ’এবা’দ’, ১:৩৬৭; আহমদ যাইনী দাহলা’ন মক্কী, ‘আল-সীরাত আল-নববীয়্যা’, ১:৫৪; এবং আল-নাবহা’নী, ‘হুজ্জাত-আল্লা’হি ‘আলা’ল ‘আলামীন ফী মো’জেযা’তে সাইয়্যেদিল মুরসালীন’, ২৩৮ পৃষ্ঠা]।
১৯. ইবনে হাজর আল-আসকালানী (৭৭৩-৮৫২ হিজরী)
সহীহ বুখারী হাদীসগ্রন্থের ব্যাখ্যাকারী ইমাম শিহা’ব আল-দ্বীন আবূ আল-ফাদল আহমদ বিন ‘আলী বিন হাজর আল-’আসক্বালা’নী (১৩৭২-১৪৪৯ খৃষ্টাব্দ) মওলিদুন্নবী (ﷺ) উদযাপনের বৈধতার পক্ষে স্পষ্ট প্রমাণ পেশ করেছেন। এই দিনটিকে স্মরণ করার অনুমতির একটি দলিল তিনি উপস্থাপন করেন যা ইমাম জালা’ল আল-দ্বীন আল-সৈয়ূতী (৮৪৯-৯১১ হিজরী) নক্বল করেন এভাবে:
“হাদীস-শাস্ত্র বিশারদ ও তাঁর যুগের শায়খুল ইসলা’ম (ইমাম) আবূল ফযল ইবনে হাজর আল-আসক্বালা’নী (رحمة الله)-কে মওলিদ উদযাপন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। তিনি উত্তর দেন:
মওলিদের ভিত্তি হিসেবে আমরা চিহ্নিত করতে পারি এমন একখানি শরঈ দলীল আমি প্রাপ্ত হয়েছি। এটা সহীহ বুখারী ও মুসলিম শরীফ নামের দুটি নির্ভরযোগ্য হাদীসগ্রন্থে বিদ্যমান। এই হাদীসে বিবৃত হয় যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনা মোনাওয়ারায় এসে দেখেন ইহুদী জাতিগোষ্ঠী ‘আশূরা’র দিন রোযা রাখছেন। তিনি এ ব্যাপারে তাদেরকে জিজ্ঞেস করলে তারা উত্তর দেন, ‘এই দিনটিতে আল্লাহ পাক ফেরাউনকে (পানিতে) ডুবিয়ে মারেন এবং (পয়গম্বর) মূসা (عليه السلام)-কে রক্ষা করেন। এ কারণে মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশার্থে আমরা এই দিনটিতে রোযা রাখছি।’ এই দলিলে কোনো বিশেষ দিনে আল্লাহপ্রদত্ত নেআমত/আশীর্বাদ বা বিপদমুক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বৈধতার প্রমাণ মেলে এবং প্রতি বছর (একই দিন) ওই কৃতজ্ঞতার পুনঃপুন বহিঃপ্রকাশের পক্ষেও প্রমাণ পাওয়া যায়।
আল্লাহর প্রতি শোকরিয়া আদায় বিভিন্ন এবাদত দ্বারা করা যায়; যেমন – সেজদা/নামায (নফল), রোযা, দান-সদকাহ, কিংবা ক্বুরআন তেলাওয়াত/পাঠ। উপরন্তু, এই দিনে মহানবী (ﷺ)-এর বেলাদত তথা ধরাধামে শুভাগমনের রহমতের চেয়ে বড় খোদায়ী রহমত/নেআমত/আশীর্বাদ আর কী হতে পারে?
এই দলিলের ভিত্তিতে পয়গম্বর মূসা (عليه السلام)-এর উপাখ্যান যাতে আশূরা’র দিনের সাথে মিলে যায়, সেই লক্ষ্যে চেষ্টা বা সাধনা করা জরুরি।
তবে কেউ এর (মানে মীলাদ দিবসের) ওপর আমল না করলে সারা (রবিউল আউয়াল) মাসের যে কোনো দিন মওলিদ উদযাপনে কোনো ক্ষতি নেই। বস্তুতঃ কেউ কেউ এই বিষয়টিকে পুরোপুরি এমনভাবে উন্মুক্ত করে দিয়েছেন যে, বছরের যে কোনো দিনে তা উদযাপিত হতে পারে। মওলিদের ভিত্তি সম্পর্কে এটাই বলা যায়।
আর মওলিদ অনুষ্ঠানে যা অনুশীলিত হওয়া জরুরি, তা হলো এমন সব আমল/পুণ্যদায়ক কর্ম যেগুলো সর্বশক্তিমান আল্লাহতা’লার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশক বলে বিবেচিত, যেমন ইতিপূর্বে উল্লেখিত আমলগুলো: ক্বুরআন তেলাওয়াত, আতিথেয়তা, দান-সদকাহ, প্রিয়নবী (ﷺ)-এর শানে বা সম্মানে কবিতা আবৃত্তি, কিংবা এমন পদ্য আবৃত্তি যা মানুষের অন্তরকে সততা ও ভালাইয়ের দিকে পরিচালিত করে এবং তাদেরকে পরকালের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয় ইত্যাদি।” [আল-সৈয়ূতী, ‘হুসন আল-মাক্বসিদ ফী আমালিল-মওলিদ’, ৬৩-৬৪ পৃষ্ঠা; আল-সৈয়ূতী, ‘আল-হা’ওয়ী লিল-ফাতা’ওয়া’, ২০৫-২০৬ পৃষ্ঠা; আল-সা’লেহী, ‘সুবুল আল-হুদা’ ওয়াল-রাশা’দ ফী সীরাতে খায়র আল-’এবা’দ’, ১:৩৬৬; আল-যুরক্বা’নী মালেকী, ‘শরহ আল-মাওয়া’হিব আল-লাদুন্নিয়া বিল-মিনাহ আল-মুহাম্মাদীয়্যা’, ১:২৬৩; আহমদ যাইনী দাহলা’ন মক্কী, ‘আল-সীরাত আল-নববীয়্যা’, ১:৫৪; এবং আল-নাবহা’নী, ‘হুজ্জাত-আল্লা’হ ‘আলা’ল-’আলামীন ফী মো’জেযা’তে সাইয়্যেদিল মুরসালীন’, ২৩৭ পৃষ্ঠা]।
২০. ইমাম শামস আল-দীন আল-সাখাভী (৮৩১-৯০২ হিজরী)
মওলিদুন্নবী (ﷺ) উদযাপনের পক্ষে ইমাম শামস্ আল-দ্বীন মুহাম্মদ বিন আবদ আল-রহমান আল-সাখা’ভী (১৪২৮-১৪৯৭ খৃষ্টাব্দ) একটি ফতোয়া জারি করেন, যা’তে তিনি বিবৃত করেন:
পবিত্র মওলিদ উদযাপনের (বর্তমান প্রচলিত ধারাটি) পুণ্যাত্মাদের প্রথম তিনটি প্রজন্ম হতে বর্ণিত হয়নি সত্য; এটা নেক তথা পুণ্যময় উদ্দেশ্য ও একনিষ্ঠ অন্তর সহকারে পরবর্তীকালে প্রবর্তিত হয়। ইসলামের অনুসারী মানুষেরা বিভিন্ন দেশে ও শহরে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের মীলাদের মাসটিতে বড় বড় মেজবান খানাপিনা ও সমাবেশের আয়োজন করে এটাকে উদযাপন করতে থাকেন। মওলিদের রাতগুলোতে মুসলমান সম্প্রদায় দান-সদকাহ ও খুশি প্রকাশ করেন, আর বেশি বেশি পুণ্যদায়ক কর্মের (আমলের) অনুশীলনও করে থাকেন। বস্তুতঃ তাঁরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বেলাদত/ধরাধামে শুভাগমন-স্থানের নৈকট্য হতে ফায়দা গ্রহণ করেন, আর এর আশীর্বাদে তাঁদের ওপর প্রতিটি মহা নেআমতের বহিঃপ্রকাশও ঘটে। এই বিষয়টি পরীক্ষিত ও সত্য, যেমনটি ইমাম শামস আল-দ্বীন আল-জাযারী বর্ণনা করেন: ‘এটা সারা বছরের নিরাপত্তার একটি উৎস এবং অন্বেষণকৃত প্রতিটি ভালাইয়ের আগাম সুসংবাদ।’ [মোল্লা আলী ক্বা’রী, ‘আল-মওরিদ আল-রাওয়ী ফী মওলিদ আল-নববী ওয়া নাসাবিহি আল-তা’হির’, ১২-১৩ পৃষ্ঠা; আল-সা’লেহী, ‘সুবুল আল-হুদা’ ওয়াল-রাশা’দ ফী সীরাতে খায়র আল-’এবা’দ’, ১:৩৬২; আল-হালাবী, ‘এনসা’ন আল-’উয়ূন ফী সীরাতিল আমীন আল-মা’মূন’, ১:৮৪; ইসমা‘ঈল হাক্কী, ‘তাফসীর রূহ আল-বয়া’ন’, ৯:৫৬-৫৭; আহমদ বিন যাইনী দাহলা’ন মক্কী, ‘আল-সীরাত আল-নববীয়্যা’, ১:৫৩; এবং আল-নাবহা’নী, ‘হুজ্জাত-আল্লাহ ’আলা’ল ’আলামীন ফী মো’জেযা’তে সাইয়্যেদ আল-মুরসালীন’, ২৩৩ পৃষ্ঠা]।
__________________
মওলিদুন্নবী (ﷺ)-এর উদযাপন ও অনুমতি (১ম খণ্ড)
মূল: শায়খুল ইসলাম ড: মুহাম্মদ তাহিরুল কাদেরী
অনুবাদ: কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন
🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]
إرسال تعليق