এক বুযুর্গ (رحمة الله) বলেন: আমি এক মসজিদে দেখলাম, সেখানে একজন ধনী ব্যবসায়ী বসা আছে আর নিকটেই এক ফকীর হাত তুলে দোয়া করছে, আল্লাহ! মাংস ও হালুয়া খাওয়াও! ঐ ব্যবসায়ী শুনে বলতে লাগল, “এ ফকীর মূলত আমাকে শুনাচ্ছে, খোদার কসম! যদি আমার কাছে চাইত তবে আমি তাকে খাওয়াতাম কিন্তু এখন খাওয়াব না।” কিছুক্ষণ পর ঐ ফকীর শুয়ে গেল। এরই মধ্যে কোন এক ব্যক্তি বড় থালা (ঢাকা অবস্থায়) নিয়ে এসে আমাদের সকলের দিকে দৃষ্টি বুলানোর পর ঐ ঘুমন্ত ফকীরকে দেখে থালা নীচে রেখে তার পাশে বসে গেল এবং তাকে জাগিয়ে শত বিনয়ের সাথে আরয করল, “মাংস ও হালুয়া” হাযির রয়েছে খেয়ে নিন! ফকীর তা থেকে কিছুটা খেয়ে থালাটি ফিরিয়ে দিল।
ঐ ব্যবসায়ী আশ্চর্য হয়ে খাবার আনয়ণকারীকে জিজ্ঞাসা করল, “এটা কিরূপ ঘটনা?” সে বলল: “আমি একজন কুলি! অনেকদিন থেকে পরিবারের লোকদের মাংস ও হালুয়া খাওয়ার আকাঙ্খা ছিল কিন্তু দারিদ্রতার কারণে খেতে পারছিল না। আজ অনেক দিন পর কুলি কাজে একটি মিসকাল (অর্থাৎ সাড়ে চার মাশা) স্বর্ণ পেলাম, তাতে মাংস ও হালুয়া তৈরী করা হল। আমি কিছু সময়ের জন্য শুয়ে পড়লাম। এর মধ্যে আমার নসীব জেগে উঠল! আমার স্বপ্নে তাজেদারে রিসালত, শাহানশাহে নবুয়ত, মুস্তফা জানে রহমত (ﷺ) এর যিয়ারত নসীব হল। আমি ছরকারে নামদার, মদীনার তাজেদার, রহমতের ভান্ডার, রাসুলদের সরদার (ﷺ) এর মুগ্ধকর দৃশ্যে হারিয়ে গেলাম, তাঁর ঠোঁট মোবারক নড়ে উঠল, যেন রহমতের ফুল ঝরতে লাগল আর ভাষা অনেকটা এরূপ, বিন্যস্ত হল, “তোমাদের মসজিদে এক ওলী বিদ্যমান রয়েছে, যিনি মাংস ও হালুয়া চাচ্ছে। তুমি এ মাংস ও হালুয়া প্রথমে তাকে খাওয়াও। তিনি নিজের ইচ্ছানুযায়ী খেয়ে ফিরিয়ে দিলে অবশিষ্টগুলোতে আল্লাহ্ তাআলা বরকত দান করবেন। এর বিনিময়ে আমি তোমাকে জান্নাতে নিয়ে যাব।” তাই আমি তৎক্ষণাৎ এ খাবার নিয়ে এখানে হাযির হলাম। একথা শুনে ব্যবসায়ী বলল: “এখাবারে তোমার কি পরিমাণ খরচ হয়েছে?” বললেন: “এক মিসকাল স্বর্ণ।” ব্যবসায়ী বলল: “আমার কাছ থেকে ১০ মিসকাল স্বর্ণ নিয়ে নাও এবং তোমার এ উত্তম আমলের এক কিরাত অংশের অংশীদার আমাকে করে নাও।” সে বলল: “কখনো না।”ব্যবসায়ী বলল: “২০ মিসকাল স্বর্ণ নাও।” সে বলল: “না।” ব্যবসায়ী বলল: “৫০ মিসকাল স্বর্ণ নাও।” সে বলল: “সারা দুনিয়ার ধনভান্ডারও যদি দিয়ে দাও তবু রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সাথে কৃত সওদায় তোমাকে শরীক করব না। তোমার ভাগ্যে যদি এ বস্তু থাকত তবে তুমি আমার পূর্বেই এরূপ করতে পারতে? কিন্তু আল্লাহ্ তাআলা নিজের রহমতের সাথে যাকে চান তাকে নির্ধারিত করেন। (রাওযুর রিয়াহীন, ১৫৩ পৃষ্ঠা) আল্লাহ্ তাআলার রহমত তাঁদের উপর বর্ষিত হোক এবং তাঁদেরসদকায় আমাদের ক্ষমা হোক।
প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আপনারা দেখলেন তো! আল্লাহ্ ওয়ালাদের এ শান যে, তাঁরা আল্লাহর মর্জিতে চলে, আর আল্লাহ্ তাঁদের আশা পূরণ করে দেন। আর এটাও জানা গেল, নিজের ধবংসশীল দৌলতের নেশায় মত্ত থেকে আল্লাহ্ তাআলার নেক বান্দাদের দিকে ঘৃণার দৃষ্টিতে তাকানো ব্যক্তি আল্লাহর অনুগ্রহ ও রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) এর দয়া থেকে বঞ্চিত থাকে। এছাড়া এটাও জানা গেল, প্রিয় আক্বা, উভয় জাহানের দাতা, রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) আপন আল্লাহর দয়াতে গায়েবের সংবাদ দাতা। তাইতো ফকীরের ব্যাপারে জানালেন এবং নিজের এক গোলামের ভাগ্য জাগ্রত করে তাকে জান্নাতের সুসংবাদ শুনিয়ে খিদমতের জন্য পাঠিয়ে দিলেন।
ছ-রে আরশ পর হে তেরে গুজার, দিলে ফরশ পর হে তেরি নযর।
মালাকোত ও মুল্ক মে কুয়ি শায় নেহী উও জু তুঝ পে ঈয়া নেহী।
প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! এটাও জানা গেল, কোন মুসলমানের প্রতি কু-ধারণা অনেক সময় দুনিয়াতেও অনুশোচনার কারণ হয় এবং শরীয়াতের দৃষ্টিতেও মুসলমানের প্রতি খারাপ ধারণা করা হারাম।
_______________
কিতাব : ফয়যানে সুন্নাত
লেখক : আমীরে আহলে সুন্নাত মাওলানা মুহাম্মদ বিলাল মুহাম্মদ ইলইয়াস আত্তার কাদেরী রযবীয়া (দা.)
সূত্রঃ 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন