বিখ্যাত তাফসীরগ্রন্থগুলোতে ‘ফযল’ শব্দটির অর্থ
সূরা জুমু’আর ৪র্থ আয়াত অবতীর্ণ হয় করুণার নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের আশীর্বাদপূর্ণ শুভাগমন উপলক্ষে। তাঁর বরকতময় আবির্ভাব সমগ্র মানবজাতির খাতিরে হয়েছিল, আর আল্লাহতা’লা এটাকে আশীর্বাদ হিসেবে ঘোষণা করেন। কেউ এই আশীর্বাদের মূর্ত প্রকাশ দেখতে চাইলে তাঁর মহানবী (ﷺ)-কে দেখতে হবে। এই বিষয়টি ক্বুরআন মজীদে বিস্তারিত বলা হয়েছে। আলোচ্য এ আয়াতের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু প্রধান প্রধান তাফসীরের একটি সংকলন নিচে পেশ করা হলো:
১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (বেসাল: ৬৮ হিজরী) বিবৃত করেন যে মহা অনুগ্রহের অর্থ: “(এবং অাল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল)-আয়াতটি এমন এক আশীর্বাদকে উদ্দেশ্য করে, যেটা দ্বীন-ইসলাম ও হযরত মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের প্রতি দানকৃত নুবুওয়্যাত। এ কথাও বলা হয়েছে যে তা ঈমানদারবৃন্দের প্রতি দানকৃত দ্বীন-ইসলাম। আর এ-ও বলা হয়েছে যে এটা মহানবী (ﷺ) ও সৃষ্টিকুলকে প্রদত্ত আল-ক্বুরআন।” [ফায়রূয-আবাদী প্রণীত ‘তানঊয়ীর আল-মিক্ববা’স মিন তাফসীরে ইবনে আব্বাস’, ৪৭১ পৃষ্ঠা]
২. আল-যামাখশারী (৪৬৭-৫৩৮ হিজরী) লিখেন: “(সেই) আশীর্বাদ যেটা আল্লাহতা’লা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামকে দান করেছেন, যিনি তাঁর জমানার (মানে শেষ বিচার দিবস অবধি সময়ের) মানুষের নবী এবং পূর্ববর্তী জমানার মানুষেরও; সেটাই হচ্ছে ‘আল্লাহর আশীর্বাদ তিনি যাঁকে পছন্দ করেন তাঁকে দান করেন’।” [মো’তাযেলী মতবাদী আল-যামাখশারী কৃত ‘আল-কাশশাফ ‘আন হাক্বায়েক্ব গাওয়া’মিদ আল-তানযীল ওয়া ‘উয়ূন আল-আক্বা’উয়ীল ফী উজূব আল-তা’উয়ীল’, ৪:৫৩০]
৩. আল-তাবরাসী (জন্ম: ৫৪৮ হিজরী) বলেন: “(এবং আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল) মহানবী (ﷺ)-কে প্রেরণের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্টিকুলের প্রতি মহা আশীর্বাদের (যিনি) মালিক ।” [আল-তাবরাসী রচিত ‘মজমা’আ আল-বয়া’ন ফী তাফসীর আল-ক্বুরআন, ১০:৪২৯]
অর্থাৎ, মানবজাতির মাঝে সবচেয়ে সম্মানিত রাসূল (ﷺ)-কে প্রেরণ আল্লাহতা’লার পক্ষ হতে সর্ববৃহৎ আশীর্বাদ এবং এটা তাঁর এক অনুগ্রহ-ও।
৪. ইবনে আল-জাওযী (৫১০-৫৭৯ হিজরী) বলেন: “(এবং আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল) মহানবী (ﷺ)-কে প্রেরণ করে।” [ইবনে জাওযী লিখিত ‘যা’দ আল-মাসীর ফী ‘ইলম আল-তাফসীর’, ৮:২৬০]
অর্থাৎ, মানবজাতির মাঝে আল্লাহতা’লা কর্তৃক তাঁর সর্বাধিক সম্মানিত রাসূল (ﷺ)-কে প্রেরণ এক মহা আশীর্বাদ এবং পুরস্কার-ও।
৫. ইমাম নাসাফী (জন্ম: ৭১০ হিজরী) বিবৃত করেন: “(সেই) আশীর্বাদ যেটা আল্লাহতা’লা মহানবী (ﷺ)-কে দান করেছেন….তিনি তাঁর সময়কার (শেষ বিচার দিবস পর্যন্ত সময়ের) মানুষের নবী এবং পূর্ববর্তী সময়কালের (মানুষেরও) নবী।” [আল-নাসাফী কৃত ‘মাদা’রিক আল-তানযীল ওয়া হাক্বায়েক্ব আল-তাউয়ীল, ৫:১৯৮]
সবচেয়ে করুণাশীল রাসূল (ﷺ)-এর আশীর্বাদপূর্ণ প্রেরণ গোটা মানবজাতিকে আপন করুণার ছায়ায় ঢেকে রেখেছে; যারা তাঁর আগে অতিক্রান্ত হয়েছেন এবং যারা শেষ বিচার দিবস পর্যন্ত আগমন করতে থাকবেন সবাই এর আওতাধীন। এটাই হলো নিম্নের আয়াতের ব্যাখ্যা (সেটাই আল্লাহর অনুগ্রহ তিনি যাকে পছন্দ করেন তাকে দান করেন), যার মধ্যে ইমাম নাসাফী দুটো অর্থ-ই তুলে ধরেছেন। “(যারা ওই পূর্ববর্তীদের সাথে মিলিত হয়নি) – আল্লাহর এই বাণীতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন পরবর্তী যুগে আগমনকারী মানুষ, যারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখেননি; মহানবী (ﷺ) তাদের প্রতিও একজন প্রেরিত পয়গম্বর, আর তাঁর ধরাধামে শুভাগমন উপলক্ষে তাদেরকেও ‘আনন্দ প্রকাশ’ করতে আদেশ দেয়া হয়েছে।
৬. ইমাম আল-খাযেন (৬৭৮-৭৪১ হিজরী) ‘মহা অনুগ্রহ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন: “অর্থাৎ, যা সৃষ্টিকুলের প্রতি আল্লাহতা’লা কর্তৃক মহানবী (ﷺ)-কে তাদের মাঝে রাসূল হিসেবে প্রেরণের দ্বারা হয়েছে।” [আল-খাযেন রচিত ‘লুবা’ব আল-তা’উয়ীল ফী মা’আনী আল-তানযীল’, ৪:২৬৫]
৭. আবূ হাইয়্যান আন্দালুসী (৬৮২-৭৪৯ হিজরী) ব্যক্ত করেন: “(সেটা) মহানবী (ﷺ)-কে (নবী হিসেবে) প্রেরণের প্রতি ইঙ্গিত করে।” [আবূ হাইয়্যান প্রণীত ‘তাফসীর আল-বাহর আল-মুহীত’, ৮:২৬৫]
৮. ইবনে কাসীর (৭০১-৭৭৪ হিজরী) ব্যাখ্যা করে: “অর্থাৎ, (এটা তাই) যা আল্লাহতা’লা হুযূর পাক (ﷺ)-কে প্রকাশ্য নুবুওয়্যত হিসেবে দান করেছেন এবং তাঁকে প্রেরণের মাধ্যমে তাঁরই উম্মতের প্রতি যে গুণাবলী মঞ্জুর করেছেন।” [‘সালাফী’ মতবাদী ইবনে কাসীর লিখিত ‘তাফসীর আল-ক্বুরআন আল-আযীম’, ৪:৩৬৪]
অতএব, মহানবী (ﷺ)-এর আশীর্বাদপূর্ণ শুভাগমন ও তাঁর রেসালাত উভয়ই আল্লাহতা’লার মহা অনুগ্রহ।
৯. ইমাম সৈয়ূতী (৮৪৯-৯১১ হিজরী) বলেন: “(আল্লাহরই অনুগ্রহ; যাকে চান দান করেন) এ আয়াতটি মহানবী (ﷺ)-কে উদ্দেশ্য করে এবং তাঁদেরকেও তা করে, তাঁর সাথে যাঁদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।” [আল-সৈয়ূতী কৃত ‘তাফসীর আল-জালা’লাইন’, ৫৫৩ পৃষ্ঠা]
১০. আল-আলূসী (১২১৭-১২৭০ হিজরী) বিবৃত করেন: “(সেটা) ইশারা করে যা অতিক্রান্ত হয়েছে তার দিকে, যেমন – তাঁর মহাসম্মানিত রাসূল হওয়াটা উম্মী মানুষদের মাঝে এবং তাদের পরবর্তীদের মাঝেও; জ্ঞানদাতা ও পবিত্রকারী হিসেবে। এতে নিহিত দূরত্বের অর্থ সম্মানের উদ্দেশ্যেই কৃত, যথা – ‘সেই মহা অনুগ্রহ’।” [মাহমূদ আল-আলূসী রচিত ‘রূহ আল-মা’আনী ফী তাফসীর আল-ক্বুরআন আল-আযীম ওয়াল-সাব’ আল-মাসা’নী’, ২৮:৯৪-৯৫]
১১. আহমদ মোস্তফা আল-মারা’গী (১৩০০-১৩৭২ হিজরী) মন্তব্য করে: “অর্থাৎ, মানবজাতির প্রতি তাদেরকে পবিত্রকারী ও জ্ঞানদাতা এবং পথপ্রদর্শক হিসেবে এই প্রিয়নবী (ﷺ)-কে প্রেরণ করাটা আল্লাহতা’লার এক আশীর্বাদ, আর তাঁরই বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহের এক নিদর্শন-ও।” [ফ্রী-মেইসন আহমদ আল-মারাগী লিখিত ‘তাফসীর আল-ক্বুরআন আল-করীম’, ১০/২৮:৯৬]
১২. আল-তানতাউয়ী আল-জওহারী (মৃত্যু: ১৩৫৯ হিজরী), সমসাময়িককালের (ফ্রী-মেইসন হিসেবে) পরিচিত মিসরীয় তাফসীরবিদ, ব্যাখ্যা করে: “(এবং আল্লাহতা’লা মহা অনুগ্রহশীল) মানে ‘ওহে উম্মী মানুষ, তোমাদের প্রতি এবং তোমাদের পরবর্তীদের প্রতি যখন আমি (খোদা) প্রিয়নবী (ﷺ)-কে প্রেরণ করেছি, তখন তা তোমাদের প্রতি আশীর্বাদ হয়ে গিয়েছে’।” [আল-তানতাউয়ী আল-জওহারী প্রণীত ‘আল-জাওয়া’হির ফী তাফসীর আল-ক্বুরআন আল-কা’রীম’, ২৪:১৭৫]
ওপরের তাফসীরগুলো হতে এটা স্পষ্ট যে মহাসম্মানিত রাসূল (ﷺ)-কে ব্যতিক্রম ছাড়াই সবার জন্যে আশীর্বাদ বলা হয়েছে। যেহেতু আল-নস্ আল-ক্বাতেঈ তথা সুস্পষ্ট শরঈ দলিল দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে আল্লাহতা’লা তাঁর প্রিয়নবী (ﷺ)-কে আপন অনুগ্রহ ও করুণা বলে সম্বোধন করেছেন, সেহেতু ‘মুসলমানদের সেটার ওপর আনন্দ প্রকাশ করা উচিত’ মর্মে খোদায়ী আদেশ পালনার্থে খুশি উদযাপন করাটা ঐশী আজ্ঞা ও ক্বুরআনী শিক্ষার সাথে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ।
৪.৫.২.২.৪ মৌ: আশরাফ আলী থানবীর অভিমত
এখানে পার্শ্বটীকা হিসেবে দেওবন্দী (কওমী) মতবাদের অতি পরিচিত আলেম মৌ: আশরাফ আলী থানভীর (১২৮০-১৩৬২ হিজরী) এতদসংক্রান্ত অভিমতটি প্রণিধানযোগ্য হবে। ইতিপূর্বে যেমনটি বলা হয়েছিল যে ‘ফযল’ ও ‘রাহমা’ শব্দগুলো মহানবী (ﷺ)-কে উদ্দেশ্য করেছে, ঠিক একইভাবে থানভী-ও নিজ ‘মীলা’দ আল-নাবী’ পুস্তকে ব্যক্ত করেন যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হলেন আল্লাহতা’লার সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ ও পরম নিখুঁত অনুগ্রহ। [জরুরি নোট: আশরাফ আলী থানভী আলোচ্য আয়াতের মূল অর্থ ক্বুরআনের আলোকে গৃহীত বলে ঘোষণা দিয়ে এর ব্যাখ্যায় বলেন: এক্ষণে আমরা ‘ফযল’ (অনুগ্রহ) ও ‘রাহমা’ (করুণা) শব্দ দুটির দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে, তা আল-ক্বুরআনের অন্যান্য আয়াতে খুঁজে দেখবো। এটা জ্ঞাত হওয়া জরুরি যে এ দুটি শব্দ ক্বুরআন মজীদে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। কখনো কখনো উভয় শব্দ একই অর্থবোধক হয়; আবার কখনো কখনো দুটি আলাদা অর্থ জ্ঞাপন করে। তাই আল্লাহতা’লা একটি আয়াতে করীমায় এরশাদ ফরমান, “অতঃপর যদি আল্লাহর অনুগ্রহ (ফযল) ও করুণা (রাহমা) তোমাদের প্রতি না হতো, তবে তোমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতে”(আল-ক্বুরআন, ২:৬৪; মুফতী আহমদ এয়ার খাঁন সাহেবের ‘তাফসীরে নূরুল এরফান’)। অধিকাংশ তাফসীরবিদ উলামার মতে, এখানে ‘ফযল’ ও ‘রাহমা’ শব্দগুলো মহানবী (ﷺ)-এর আশীর্বাদধন্য পবিত্র সত্তাকে উদ্দেশ্য করেছে। আরেকটি আয়াতে এরশাদ হয়েছে, “এবং যদি তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ (ফযল) ও করুণা (রাহমা) না হতো, তবে অবশ্যই তোমরা শয়তানের অনুসরণ আরম্ভ করতে, অল্প সংখ্যক মানুষ ব্যতিরেকে” (আল-ক্বুরআন, ৪:৮৩)। এক্ষেত্রেও সংখ্যাগরিষ্ঠ তাফসীরবিদ উলামা মত প্রকাশ করেন যে এতে মহানবী (ﷺ)-কেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে। কতিপয় আয়াতে ‘ফযল’ বলতে দুনিয়াবী আশীর্বাদকে বোঝানো হয়েছে, আর ‘রাহমা’ বলতে বোঝানো হয়েছে ধর্মীয় আশীর্বাদকে। সুতরাং সমস্ত তাফসীর-শাস্ত্র বিশারদের মতানুযায়ী, মহানবী (ﷺ) দুনিয়াবী তথা পার্থিব আশীর্বাদ এবং এর পাশাপাশি দ্বীনী তথা ধর্মীয় আশীর্বাদ-ও। আশরাফ আলী থানভী আরো বলেন: এই আয়াতে করীমার প্রসঙ্গের দিকে লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাই যে এটা আল-ক্বুরআনকে উদ্দেশ্য করে। তবে আমরা যদি এটাকে সাধারণ অর্থে নেই, তাহলে ক্বুরআন মজীদকে অধিকতর যথাযথ উদ্দেশ্যগুলোর কোনো একটি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ, ‘ফযল’ ও ‘রাহমা’ বলতে প্রিয়নবী (ﷺ)-এর আশীর্বাদপূর্ণ শুভাগমনকে বোঝাবে। এই উপলব্ধি অনুযায়ী, সকল (খোদায়ী) আশীর্বাদ, চাই তা হোক দুনিয়াবী বা হোক ধর্মীয়, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আল-ক্বুরআন-ও, সবই এ বিষয়ের আওতায় পড়ে। এটা এ কারণে যে মহানবী (ﷺ)-এর আশীর্বাদধন্য সত্তা মোবারক হলেন অন্যান্য সকল আশীর্বাদের উৎসমূল এবং সকল (ঐশী) অনুগ্রহ ও করুণার নির্যাস। অতএব, এটাই সবচেয়ে সামগ্রিক ব্যাখ্যা; আর এই তাফসীরের ভিত্তিতে এ আয়াতখানির সারমর্ম হলো, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নূর তথা জ্যোতির অস্তিত্ব-ই হোক কিংবা তাঁর জিসমানী (শারীরিক) বেলাদত-ই হোক, প্রত্যেক ব্যক্তিরই আপন আপন খুশি এব্যাপারে প্রকাশ করা উচিত। কেননা তিনি সকল আশীর্বাদের মাধ্যম বা কারণ। (অন্যান্য সাধারণ আশীর্বাদ ব্যতিরেকে) সবচেয়ে উত্তম আশীর্বাদ হচ্ছে ঈমান তথা ধর্মীয় বিশ্বাস, যেটাও নিশ্চিতভাবে মহানবী (ﷺ)-ই আমাদের কাছে নিয়ে এসেছিলেন। পরিশেষে, সমস্ত তথ্য বিবেচনায় নিলে দেখা যায় যে ‘ফযল’ ও ‘রাহমা’ মহানবী (ﷺ)-এরই সত্তা মোবারক। তাই তাঁর আশীর্বাদধন্য সত্তার অস্তিত্বের ব্যাপারে পর্যাপ্ত আনন্দ প্রকাশ করা কারো পক্ষেই সম্ভবপর নয়।]
এটার কারণ এ থেকে বোঝা যায় যে, ‘দালা’লা আল-নস’ তথা প্রামাণিক দলিল – ‘ফযল’ ও ‘রাহমা’শব্দগুলো দ্বারা প্রিয়নবী (ﷺ)-কে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। সর্বশক্তিমান আল্লাহতা’লা করুণার নবী (ﷺ)-কে খুশি প্রকাশের উপলক্ষ করার জন্যে ঈমানদারদের প্রতি আদেশ জারি করেছেন, যে পয়গম্বর (ﷺ) আমাদের সকল পার্থিব ও ধর্মীয় আশীর্বাদের উৎস বটেন। কেউ আল্লাহতা’লার অনুগ্রহ ও করুণার বাহ্যিক প্রকাশ দেখতে চাইলে তাঁকে অবশ্যই মহানবী (ﷺ)-এর প্রতি লক্ষ্য করতে হবে, যাঁকে মহাপ্রভুর আশীর্বাদ ও দয়ার পরমোৎকর্ষের মূর্তরূপ করা হয়েছে। অতএব, আল্লাহতা’লার আশীর্বাদ ও করুণাকে একটি সত্তা মাঝেই সন্নিবেশিত করা হয়েছে, যিনি মহানবী (ﷺ) এবং যিনি ব্যতিক্রম ছাড়াই সকল স্থান ও কালের জন্যে প্রেরিত হয়েছেন।
এই (খোদায়ী) আজ্ঞা হতে এটা বোঝা যায় যে, এ আয়াতখানি ঈমানদারবৃন্দের কাছে আনন্দ উদযাপন দাবি করেছে; আর তাই এটা সকল মুসলমানেরই প্রতি প্রযোজ্য। সুতরাং মহানবী (ﷺ)-এর মহিমাপূর্ণ বেলাদত (ধরাধামে শুভাগমন) উপলক্ষে মুসলমানদের খুশি প্রকাশ করা উচিত; আর শরীয়ত-নির্ধারিত সীমারেখা মেনে যতোখানি আশীর্বাদ/নেয়ামত উৎযাপন করা যায়, সবই অনুমতিপ্রাপ্ত হবে।
__________________
মওলিদুন্নবী (ﷺ)-এর উদযাপন ও অনুমতি (১ম খণ্ড)
মূল: শায়খুল ইসলাম ড: মুহাম্মদ তাহিরুল কাদেরী
অনুবাদ: কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন
🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন