“এবং আল্লাহ-ই সবচেয়ে বেশি ফযল তথা অনুগ্রহশীল” মর্মে আয়াতটির অর্থ

 

“এবং আল্লাহ-ই সবচেয়ে বেশি ফযল তথা অনুগ্রহশীল” মর্মে আয়াতটির অর্থ


সর্বশক্তিমান আল্লাহতা’লা যিনি সৃষ্টিকুলের স্রষ্টা, তিনি সব ধরনের মাহাত্ম্য ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। তাঁর অনুগ্রহে তিনি-ই সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ, আর তাঁর কর্তৃত্ব রয়েছে সমস্ত কিছুর ওপর। এখানে সর্বাধিক প্রাসঙ্গিক যে বিষয়টির প্রতি লক্ষ্য করা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, আল্লাহ পাক এই ‘ফযল’ তথা অনুগ্রহের মালিক; কিন্ত তিনি নিজে সেই ফযল/অনুগ্রহ নন। উদাহরণস্বরূপ, কোনো নির্দিষ্ট বাড়ি ও তা কার মালিকানাধীন জানার জন্যে প্রশ্ন করা হলে উত্তরে বলা হবে অমুক এ বাড়ির মালিক। আরবী ব্যাকরণে এটা ’আল-এযাফত’ (ষষ্ঠী বিভক্তি) হিসেবে পরিচিত, যা সম্বন্ধ নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয় এবং যার সমষ্টি হচ্ছে একটি সম্বন্ধকৃত বিশেষ্য পদ ‘মোযাফ’ ও একটি সম্বন্ধকারক বিশেষ্য পদ ‘মোযাফ ইলাইহে’। যদিও এগুলো একত্রে আসে, তবুও মূলতঃ একে অপর হতে এরা আলাদা। যথা – বইয়ের মালিক; মালিক ও মালিকানাধীন বস্তু এখানে পরস্পর হতে পৃথক; কখনোই এরা এক হতে পারে না। আরেকটি উদাহরণ হলো ‘আল্লাহর রাসূল’: এখানে ‘রাসূল’ বিশেষ্য পদটি সম্বন্ধকৃত, আর ‘আল্লাহ’ বিশেষ্য পদটি সম্বন্ধকারক। অতএব, এই নিয়ম অনুসারে রাসূল যেমন আল্লাহ হতে পারেন না, তেমনি আল্লাহ-ও রাসূল হতে পারেন না।

এই বিষয়টি উপলব্ধি করার পর চলুন আমরা আলোচ্য আয়াতটির দিকে আবার ফিরে তাকাই এবং ওপরোক্ত (ব্যাকরণগত) নিয়মটি তাতে প্রয়োগ করি। অাল্লাহতা’লা এরশাদ ফরমান: “এটা আল্লাহরই অনুগ্রহ”– এখানে ‘অনুগ্রহের অধিকারী’ শব্দগুলো ষষ্ঠী বিভক্তি। (আরবী) ব্যাকরণগতভাবে সম্বন্ধকৃত বিশেষ্য ও সম্বন্ধকারক বিশেষ্য সর্বদা একে অপর হতে ভিন্ন। অতএব, ‘ফযল’ (অনুগ্রহ) ও তার ‘মালিক’ দুটি আলাদা আলাদা বিষয়। সর্বশক্তিমান আল্লাহ হলেন ওই অনুগ্রহের মালিক; কিন্তু তিনি স্বয়ং ওই অনুগ্রহ নন। কেননা অনুগ্রহ সেই জিনিস যা আল্লাহতা’লা কর্তৃক দানকৃত। [অনুবাদকের নোট: আরবী ব্যাকরণের এসব টার্ম বাংলায় ঠিক মতো অনুবাদ হয়েছে কি না তা জানতে বিশেষজ্ঞের মতামত কাম্য]

প্রশ্ন উঠতে পারে যে আল্লাহতা’লা স্বয়ং সেই অনুগ্রহ না হলে সেই অনুগ্রহটি কে? এর উত্তর হলো, সেই অনুগ্রহ মহানবী (ﷺ)-এর সম্মানিত যাত তথা সত্তা মোবারক, যাঁকে আল্লাহতা’লা সমগ্র মানবজাতির জন্যে আপন রাহমা/করুণা ও হেদায়াত/পথপ্রদর্শনস্বরূপ প্রেরণ করেছেন। এই বিষয়টি আরো খোলাসা করতে নিচে কয়েকজন বরেণ্য ও কর্তৃত্বসম্পন্ন তাফসীরকার উলামার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের সংকলন পেশ করা হলো। 

__________________

মওলিদুন্নবী (ﷺ)-এর উদযাপন ও অনুমতি (১ম খণ্ড)

মূল: শায়খুল ইসলাম ড: মুহাম্মদ তাহিরুল কাদেরী

অনুবাদ: কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন

 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন