জুমুআ’ দিবস: (রাসূল-দ:-এর প্রতি) সালাওয়াত ও সালাম প্রেরণের দিন

 

 জুমুআ’ দিবস: (রাসূল-দ:-এর প্রতি) সালাওয়াত ও সালাম প্রেরণের দিন


জুমুআ’ তথা শুক্রবারের জন্যে নেয়া প্রস্তুতি মওলিদুন্নবী (ﷺ)-এর জন্যে নেয়া প্রস্তুতিরই অনুরূপ; যেমন গোসল গ্রহণ, সুগন্ধি মাখা এবং জামাআতে নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য বা কর্মস্থল ত্যাগ করে মসজিদে গমন। হাদীসের বইপত্রে এগুলো ছাড়াও অন্যান্য আরো কিছু প্রস্তুতির উল্লেখ আছে। এসব অতিরিক্ত প্রস্তুতি মূলতঃ মহানবী (ﷺ)-এর সাথে সম্পৃক্ত; যথা – তাঁর প্রতি সালাত-সালাম প্রেরণ। এই দিনটিকে পয়গম্বর আদম (عليه السلام)-এর মওলিদ দিবস হওয়ার কারণেই বেছে নেয়া হয়েছে। ইতিপূর্বে যেমনটি বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরশাদ ফরমান: “ফাআকসিরূ আলাইয়া মিনাস্ সলা-তি ফীহি” – অর্থাৎ, “অতএব, তোমরা এই দিনে আমার প্রতি বেশি বেশি বা ঘনঘন সালাত-সালাম প্রেরণ করো।”

এটাই হচ্ছে নবীপ্রেমিকদের প্রার্থনা সঙ্গীত; যাঁদের অন্তরে প্রিয়নবী (ﷺ)-এর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা আছে তাঁরা এই দিনে জমায়েত হয়ে সমবেতভাবে দুআ-দুরুদ পাঠ করেন। এই দিনে মীলাদুন্নবী (ﷺ)-এর বিশেষ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে; সালাত-সালাম পাঠের হালাক্বা/মজলিশ বসে। একদিকে এ দিনটিকে পয়গম্বর আদম (عليه السلام)-এর মীলাদের দিবস বলে তাঁর প্রতি আরোপ করা হয়, অপরদিকে এটা প্রিয়নবী (ﷺ)-এর প্রতি সালাম-সালাম প্রেরণের দিন হিসেবেও ধার্য করা হয়। আর এক দিনেই দু জন পয়গম্বরের (عليه السلام) প্রতি খুশি প্রকাশ করা হয়।

ওপরে উদ্ধৃত একই হাদীসে সাহাবা-এ-কেরাম (رضي الله عنه) জিজ্ঞেস করেন: “এয়া রাসূলাল্লাহি! ওয়া কাইফা তু’রাদু সলা-তুনা আলাইকা ওয়া ক্বাদ আরিমতা?” অর্থাৎ, “হে আল্লাহর রাসূল, আমরা যে সালাত-সালাম আপনার প্রতি প্রেরণ করবো তা কীভাবে আপনার কাছে পেশ হবে যখন আপনি-ই বেসালপ্রাপ্ত?” এই প্রশ্নের জবাবে মহানবী (ﷺ) উত্তর দেন, “ইন্নাল্লাহা আযযা ওয়া জাল্লা হার্রামা আলাল্ আরদি আজসা-দাল্ আম্বিয়্যায়ি” – অর্থাৎ, “নিশ্চয় আল্লাহতা’লা পয়গম্বরবৃন্দের দেহ মোবারককে মাটির জন্যে হারাম করেছেন” (মানে মাটি গ্রাস করতে অক্ষম)। [ইমাম আবূ দাউদ রচিত ‘আল-সুনান’: ‘কিতাব আল-সালাত (দরুদের বই), ‘জুমুআ দিবসের মাহাত্ম্য ও জুমুআ’র রাত’ শীর্ষক অধ্যায়, ১:২৭৫ #১০৪৭; আবূ দাউদ কৃত ‘আল-সুনান’: আবওয়াব আল-বিতর’ (বিতরের অধ্যায়গুলো), ‘অনুতাপ’ শীর্ষক অধ্যায়, ২:৮৮ #১৫৩১; ইবনে মাজাহ প্রণীত ‘আল-সুনান’: কিতাব এক্বামা অাল-সালাহ ওয়া সুন্না ফীহা’ (সালাত ক্বায়েম ও তাতে নিহিত সুন্নাহ), ‘জুমুআ দিবসের মাহাত্ম্য’ শীর্ষক অধ্যায়, ১:৩৪৫ #১০৮৫; আল-নাসাঈ লিখিত ‘আল-সুনান’: ‘কিতাব আল-জুমুআ’ (জুমুআ দিবসের পুস্তক), ‘শুক্রবারে মহানবী (ﷺ)-এর প্রতি ঘনঘন/ বেশি বেশি সালাত-সালাম প্রেরণ’ শীর্ষক অধ্যায়, ৩:৯১ #১৩৭৫; আল-নাসাঈ রচিত ‘আল-সুনান আল-কুবরা’: ‘জুমুআ দিবসে রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি বেশি বেশি সালাত-সালাম প্রেরণের আদেশ’ শীর্ষক অধ্যায়, ১:৫১৯ #১৬৬৬; আল-দারিমী কৃত ‘আল-সুনান’, ১:৪৪৫ #১৫৭২; ইবনে আবী শায়বা প্রণীত ‘আল-মুসান্নাফ’, ২:২৫৩ #৮৬৯৭; আল-তাবারানী লিখিত ‘আল-মুজাম আল-কবীর’, ১:২১৬ #৫৮৯; আল-বায়হাক্বী রচিত ‘আল-সুনান আল-কুবরা’, ৩:২৪৮ #৫৭৮৯; আল-বায়হাক্বী কৃত ‘আল-সুনান আল-সুগরা’, ১:৩৭২ #৬৩৪; এবং আল-হায়তামী প্রণীত ‘মাওয়ারিদ আল-যাম’আন ইলা যাওয়াঈদ ইবনে হিব্বান’, ১:১৪৬ #৫৫০]  

এ বর্ণনায় বোঝা যায়, প্রিয়নবী (ﷺ) তাঁর মহৎ সাহাবা (رضي الله عنه)-বৃন্দকে জানিয়েছেন যে এ পৃথিবীতে তাঁর প্রকাশ্য জিন্দেগীর পরও তিনি (আপন রওযা পাকে) সশরীরে (এক রূহানী/আধ্যাত্মিক হায়াতে) জীবিত থাকবেন। অতএব, জুমুআ’ দিবসে ঘনঘন বা বেশি বেশি তাঁর প্রতি সালাত-সালাম প্রেরণের চর্চা গড়ে তোলা প্রত্যেকের জন্যে (অতীব) গুরুত্বপূর্ণ।

__________________

মওলিদুন্নবী (ﷺ)-এর উদযাপন ও অনুমতি (১ম খণ্ড)

মূল: শায়খুল ইসলাম ড: মুহাম্মদ তাহিরুল কাদেরী

অনুবাদ: কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন

 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন