হযরত সায়্যিদুনা কাজী শরীক (رحمة الله) অনেক বড় আলিম ও মুহাদ্দিস ছিলেন। তিনি (رحمة الله) ক্ষমতাসীন ব্যক্তিবর্গের সাথে মেলা-মেশা থেকে পরিপূর্ণভাবে বেঁচে থাকতেন।
একবার বাগদাদের খলীফা মাহদী আব্বাসী (رحمة الله) তাঁকে দরবারে ডাকলেন আর অনেক অনুরোধ করলেন, আমার তিনটি বিষয় থেকে যে কোন একটি অবলম্বন করতেই হবে। (১) কাজী (অর্থাৎ-বিচারক) এর পদ গ্রহণ করুন। বা (২) আমার শাহজাদাদের শিক্ষা দিন। অথবা (৩) কমপক্ষে আমার সাথে খাবার হলেও খেয়ে নিন। কিছুক্ষণ চিন্তা-ভাবনা করার পর বললেন: আপনার সাথে খাবার খাওয়া অন্য কাজগুলো অপেক্ষা সহজ। সুতরাং দাওয়াত গ্রহণ করলেন। খলীফা বাবুর্চীকে সর্বোত্তম খাবার তৈরী করার নির্দেশ দিলেন। হযরত সায়্যিদুনা কাজী শরীক (رحمة الله) বাদশাহর সাথে শাহী দস্তরখানায় খাবার খেলেন। শাহী বাবুর্চী তাঁর (رحمة الله) সামনে আরয করল, “হুযুর! এখন আর আপনার বাঁচার উপায় নেই। অর্থাৎ- এখন আপনি শাহী জালে ফেঁসে গেছেন, তা থেকে কখনো মুক্তি পাবেন না।” সুতরাং এমনই হল। বাদশাহর সাথে খাওয়ার পর শাহজাদাদের উস্তাদও হয়ে গেলেন এবং কাজীর পদও গ্রহণ করলেন। (তারীখুল খুলাফা, ২২১ পৃষ্ঠা)
আল্লাহ্ তাআলার রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হোক এবং তাঁর সদকায় আমাদের ক্ষমা হোক।
প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! ক্ষমতাসীন ব্যক্তিবর্গ ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকাতেই নিরাপত্তা রয়েছে। তাদের দাওয়াত খাওয়া ও তাদের উপহার সামগ্রী গ্রহণ করাতে আখিরাতে কঠিন বিপদের ভয় রয়েছে। কারণ তাদের দাওয়াত খাওয়া ও উপহার গ্রহণকারীদেরকে তাদের তোষামোদ করা ও অহেতুক তাদের কথায় সাড়া দেয়া থেকে বাঁচা খুবই মুশকিল। হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে: “যে ব্যক্তি কোন ধনীকে তার সম্পদের কারণে সম্মান করে, তার দুই তৃতীয়াংশ দ্বীন বা ধর্ম চলে যেতে থাকে।” (কাশফুল খিফা, ২য় খন্ড, ২১৫ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ২৪৪২)।
আ’লা হযরত মাওলানা ইমাম আহমদ রযা খান (رحمة الله)এ হাদীসে পাকের ভিত্তিতে বলেন: “দুনিয়ার সম্পদের জন্য বিনয়, আল্লাহ্ তাআলার খাতিরে বিনয় করা নয়, (সুতরাং) এটা হারাম।” (যাইলুল মুদ্দাআ লিইহসানিল বিআ, ১২ পৃষ্ঠা)।
_______________
কিতাব : ফয়যানে সুন্নাত
লেখক : আমীরে আহলে সুন্নাত মাওলানা মুহাম্মদ বিলাল মুহাম্মদ ইলইয়াস আত্তার কাদেরী রযবীয়া (দা.)
সূত্রঃ 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন