উপকারের বিনিময়


হযরত সায়্যিদুনা শায়খ আবূ বকর শিবলী (رضي الله عنه) একদিন নিজের ৪০জন মুরীদের কাফেলার সঙ্গে বাগদাদ শহর থেকে বাইরেগেলেন। এক জায়গায় পৌঁছে তিনি (رضي الله عنه) বললেন: “হে লোকেরা! আল্লাহ্ তাআলা নিজের বান্দাদের রিযিকের যিম্মাদার। অতঃপর তিনি ২৮ নং পারার সূরা তালাকের দ্বিতীয় ও তৃতীয় আয়াতে কারীমার এ অংশটুকু তিলাওয়াত করলেন: ومن يتّقّ الله يجعل لّه مخرجا () وّيرزقه من حيث لا يحتسب



কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ:



এবং যে আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ্ তার জন্য মুক্তির পথ বের করে দেবেন। এবং তাকে সেখান থেকে জীবিকা দেবেন, যেখানে তার কল্পনাও থাকে না এবং যে আল্লাহ্ তাআলার উপর ভরসা করে, তবে তিনিই তার জন্য যথেষ্ট।”


(পারা-২৮, সূরা-তালাক, আয়াত-২, ৩) এটা বলার পর মুরীদদের সেখানেই রেখে তিনি (رضي الله عنه) কোথাও চলে গেলেন। সমস্ত মুরীদ তিনদিন পর্যন্ত সেখানে ক্ষুধার্ত অবস্থায় পড়ে রইলেন।



চতুর্থ দিন হযরত সায়্যিদুনা শায়খ আবূ বকর শিবলী (رحمة الله) আসলেন আর বললেন: “হে লোকেরা! আল্লাহ্ তাআলা বান্দাদের জন্য রিযক তালাশের অনুমতি দিয়েছেন।



যেমন আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন


: هو الّذى جعل لكم الارض ذلو لا فا مشوا فى مكبها و كلوا من رّزقه


কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদ: তিনিই হন, যিনি তোমাদের জন্য ভূ-পৃষ্ঠাকে সুগম করে দিয়েছেন, সুতরাং সেটার রাস্তাগুলো দিয়ে চলো এবং আল্লাহ্ তাআলার জীবিকাগুলো থেকে আহার করো।” (পারা-২৯, সূরা-মুলক, আয়াত-১৫)



এজন্য তোমরা নিজেদের মধ্য থেকে কাউকে পাঠিয়ে দাও। আশা করি সে কিছু না কিছু খাবার নিয়ে আসবে। মুরীদেরা এক নিঃস্ব ব্যক্তিকে বাগদাদ শহরে পাঠালেন। অলি-গলিতে ঘুরতে থাকলেন কিন্তু রুজি পাওয়ার কোন পথ বের হল না। ক্লান্ত হয়ে এক জায়গায় বসে গেলেন। কাছেই এক খ্রীষ্টান ডাক্তারের চেম্বার ছিল। সে ডাক্তার খুব অভিজ্ঞ নাব্বায (অর্থাৎ-নাড়ী টিপে যে চিকিৎসক অনুভব করতে পারে) ছিলেন। শুধুমাত্র নাড়ী দেখে রোগীর অবস্থা নিজেই বলে দিতেন। সবাই চলে গেলে তিনি এ দরবেশকেও রোগী মনে করে ডাকলেন আর নাড়ী দেখার পর রুটি,তরকারী ও হালুয়া আনালেন এবং তা দিয়ে বললেন: আপনার রোগের এটাই ঔষধ। দরবেশ ডাক্তারকে বললেন: “এ ধরনের আরো ৪০ জন রোগী আছে।” ডাক্তার কর্মচারীদের মাধ্যমে ৪০ জন লোকের জন্য এ ধরনের খাবার আনিয়ে দরবেশের সাথে পাঠিয়ে দিলেন আর নিজেও চুপে চুপে পিছনে পিছনে যেতে লাগলেন। খাবার যখন সায়্যিদুনা শায়খ আবু বকর শিবলী (رحمة الله) এর সামনে হাযির করা হল তখন তিনি(رحمة الله) খাবারে হাত লাগিয়ে বললেন: “দরবেশ! এ খাবারে আশ্চর্য রহস্য গোপন রয়েছে।”



খাবার আনয়নকারী দরবেশ সম্পূর্ণ ঘটনা বললেন। শায়খ বললেন: “এ খ্রীষ্টান আমাদের সাথে এরূপ উত্তম আচরণ করেছেন। আমরা কি এটার কোন প্রতিদান না দিয়ে এমনি খাবার খেয়ে নেব?” মুরীদেরা আরয করলেন: “আলীজাহ! আমরা নিঃস্ব লোক তাকে কি দিতে পারি!” হযরত সায়্যিদুনা শায়খ আবু বকর শিবলী (رحمة الله) বললেন: “খাবার খাওয়ার আগে তার জন্য দোয়াতো করতে পারি।” তাই দোয়া করা হল। সাথে সাথে দোয়ার বরকত প্রকাশ হল আর তা হল এরূপ যে, “খ্রীষ্টান ডাক্তার যিনি সমস্ত কথা লুকিয়ে শুনছিলেন তার মনে মাদানী পরিবর্তন সাধিত হল! তিনি তৎক্ষণাৎ নিজেকে সায়্যিদুনা শায়খ শিবলী(رحمة الله) দরবারে পেশ করে দিলেন, তাওবা করে কলেমায়ে শাহাদাৎ পড়ে মুসলমান হয়ে গেলেন এবং শায়খের মুরীদদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে উচ্চ মর্যাদা লাভ করলেন। (রাওযুর রিয়াহীন, ৮১ পৃষ্ঠা)।


আল্লাহ্ তাআলার রহমত তাঁদের উপর বর্ষিত হোক এবং তাঁদের সদকায় আমাদের ক্ষমা হোক।

_______________

কিতাব : ফয়যানে সুন্নাত

লেখক : আমীরে আহলে সুন্নাত মাওলানা মুহাম্মদ বিলাল মুহাম্মদ ইলইয়াস আত্তার কাদেরী রযবীয়া (দা.)

সূত্রঃ 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন