ঈদ-উৎসব হিসেবে পালন

 ঈদ-উৎসব হিসেবে পালন   

খোদাতা’লার আশীর্বাদকে স্মরণ ও উল্লেখ করার পাশাপাশি তাঁর প্রতি আপন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও তা প্রদর্শনের আরেকটি মাধ্যম হলো ঈদ উদযাপন করে খুশি প্রকাশ। পূর্ববর্তী জাতিগুলোও এভাবে নিজেদের কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিল (ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে)। আর এটা পয়গম্বর (عليه السلام)-বৃন্দেরও আচরিত প্রথা, যাঁরা এ রকম বিশেষ আশীর্বাদ অবতীর্ণ হওয়ার দিনগুলোকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করতেন। পয়গম্বর ঈসা (عليه السلام) সর্বশক্তিমান আল্লাহতা’লার কাছে আরয করেন:

“হে আল্লাহ, হে আমাদের রব্ব! আমাদের প্রতি আকাশ থেকে (আশীর্বাদস্বরূপ) একটা ‘খাদ্য-ভর্তি খাঞ্চা’ অবতীর্ণ করুন, যা (অবতরণের দিন হিসেবে) আমাদের জন্যে ঈদ হবে – আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের জন্যে এবং তা (মানে খাদ্য-খাঞ্চা) হবে আপনার কাছ থেকে এক নিদর্শন।” [আল-ক্বুরআন, ৫:১১৪; মুফতী আহমদ এয়ার খাঁন কৃত ‘নূরুল এরফান’]

এখানে স্মর্তব্য যে, খাদ্য-খাঞ্চার মতো এ রকম একটি সময়গত বা সময়সীমায় আবদ্ধ আশীর্বাদপ্রাপ্তি সত্ত্বেও পয়গম্বর ঈসা (عليه السلام) এটাকে ঈদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আরো কৌতূহলোদ্দীপক ব্যাপার হচ্ছে এই যে, খৃষ্টান সমাজ অদ্যাবধি কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এই আশীর্বাদপ্রাপ্তির দিবস রোববারকে সম্মান প্রদর্শন করে থাকেন।

আমাদের প্রিয়নবী (ﷺ) যিনি সকল সৃষ্টির সেরা, তাঁকে রাসূল হিসেবে জগতে প্রেরণের সাথে একটি খাদ্য-খাঞ্চাপ্রাপ্তি কীভাবে তুলনীয় হতে পারে? খাদ্য-খাঞ্চা ছিল একটি ক্ষণস্থায়ী নেয়ামত, আর মহানবী (ﷺ)-এর ধরাধামে শুভাগমন একটি চিরস্থায়ী নেয়ামত/আশীর্বাদ। রহমতুললিল্ আলামীন তথা বিশ্বজগতের জন্যে খোদার করুণা প্রিয়নবী (ﷺ) হলেন চিরকালের জন্যে এক আশীর্বাদ; তা ইহকাল ও পরকাল উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অতএব, এ দুই আশীর্বাদের মধ্যে তুলনা কীভাবে চলতে পারে? একটু জিরিয়ে নিচের প্রশ্নটি নিজেদের প্রতি পেশ করলে তা আমাদের চিন্তার খোরাক হবে: আমরা কি এই নেয়ামতের প্রতি এর প্রাপ্য কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করতে পেরেছি?

মূল বিবেচ্য বিষয় হলো মহানবী (ﷺ)-এর আশীর্বাদপূর্ণ বেলাদত তথা ধরণীতলে শুভাগমনের সাথে খাদ্য-খাঞ্চার তুলনা না করা। আমাদের মনোযোগ পাওয়ার যোগ্য ঐতিহাসিক বাস্তবতাকে (সবার সামনে) তুলে ধরাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। খৃষ্টান জাতি ঘনঘন প্রতি রোববার তাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকেন, যেহেতু এই দিনেই খাদ্য-খাঞ্চাটি তাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছিল। আল-ক্বুরআনে উল্লেখিত খাদ্য-খাঞ্চার মতো নানা নেয়ামত লাভ করে পূর্ববর্তী জাতিগুলো আল্লাহতা’লার রেযামন্দি তথা সন্তুষ্টি অনুযায়ী এবং তাদের পয়গম্বর (عليه السلام)-বৃন্দের আচরিত সুন্নাহ তথা রীতির সাথে সঙ্গতি রেখে খুশি উদযাপন করতো। সুতরাং আম্বিয়া (عليه السلام)-মণ্ডলী যদি কোনো সামগ্রিক আশীর্বাদপ্রাপ্তির দিনকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন, তাহলে মওলিদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামকে ঈদ উদযাপন হিসেবে গ্রহণ করার মধ্যে কী-ই বা ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ ধরায় শুভাগমন এমনই এক মহা আশীর্বাদ, যার সূত্রে আমরা অন্যান্য সব আশীর্বাদ লাভ করেছি। এমতা্বস্থায় আমাদের প্রিয়নবী (ﷺ)-এর বেলাদতে আমরা কেন খুশি প্রকাশ করতে পারবো না?

এই অধ্যায়ে প্রদত্ত বিস্তারিত বিবরণ দ্বারা এ কথা নিজে থেকেই স্পষ্ট যে মওলিদুন্নবী (ﷺ)-এর উদযাপন আল-ক্বুরআন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত (সাবেত)। এর প্রতি কোনো রকম আপত্তি উত্থাপন ক্বুরআনী শিক্ষায় নিজের অজ্ঞতাই প্রকাশ করবে। এই বিষয়ের বৈধতার ব্যাপারে মতভেদ না করে এবং একে বিতর্কের বিষয় না বানিয়ে মহানবী (ﷺ)-এর বেলাদত শরীফের প্রতি স্রেফ খুশি প্রকাশ করা এবং এরই ফলশ্রুতিতে আল্লাহর নেয়ামতের ভাগিদার হওয়া প্রত্যেকের জন্যে বিহিত কর্তব্য-কর্ম।

__________________

মওলিদুন্নবী (ﷺ)-এর উদযাপন ও অনুমতি (১ম খণ্ড)

মূল: শায়খুল ইসলাম ড: মুহাম্মদ তাহিরুল কাদেরী

অনুবাদ: কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন

 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন