❏ দরসে হাদীসঃ [হাদীস নং- (১৬১)]
○ অধ্যায়ঃ [ক্বোরআন ও সুন্নাহ্'কে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরা]
[ﻭﻋﻦ ﺑﻼﻝ ﺑﻦ ﺍﻟﺤﺎﺭﺙ ﺍﻟﻤﺰﻧﻰ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﷺ ﻣﻦ ﺍﺣﻰ ﺳﻨﺔ ﻣﻦ ﺳﻨﺘﻰ ﻗﺪ ﺍﻣﻴﺘﺖ ﺑﻌﺪﻯ ﻓﺎﻥ ﻟﻪ ﻣﻦ ﺍﻻﺟﺮ ﻣﺜﻞ ﺍﺟﻮﺭ ﻣﻦ ﻋﻤﻞ ﺑﻬﺎ ﻣﻦ ﻏﻴﺮ ﺍﻥ ﻳﻨﻘﺺ ﻣﻦ ﺍﺟﻮﺭﻫﻢ ﺷﻴﺌﺎ ﻭﻣﻦ ﺍﺑﺘﺪﻉ ﺑﺪﻋﺔ ﺿﻼﻟﺔ ﻻﻳﺮﺿﻬﺎ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺭﺳﻮﻟﻪ ﻛﺎﻥ ﻋﻠﻴﻪ ﻣﻦ ﺍﻻﺛﻢ ﻣﺜﻞ ﺍﺛﺎﻡ ﻣﻦ ﻋﻤﻞ ﺑﻬﺎ ﻻ ﻳﻨﻘﺾ ﺫﻟﻚ ﻣﻦ ﺍﻭﺯﺍﺭﻫﻢ ﺷﻴﺌﺎ - ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻯ ﻭﺭﻭﺍﻩ ﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﺔ ﻋﻦ ﻛﺜﻴﺮ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﻭﻋﻦ ﺍﺑﻴﻪ ﻋﻦ ﺟﺪﻩ]
অর্থাৎঃ হযরত বেলাল ইবনে হারিস মুযানী (টীকাঃ ১) [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ] হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলাল্লাহ্ [ﷺ] এরশাদ করেনঃ
"যে ব্যক্তি আমার মৃত সুন্নাতকে, যা আমার পরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে, জীবিত করবে, (টীকাঃ ২) সে ওইসব লোকের সমান সাওয়াব পাবে, যারা তদনুযায়ী আমল করে- ওইসব আমলকারীর সাওয়াবের মধ্যে হ্রাস পাওয়া ছাড়াই। (টীকাঃ ৩) আর যে ব্যক্তি এমন ভ্রান্ত বিদ্'আত উদ্ভাবন করবে, যাতে আল্লাহ্ ও তাঁর রসূল অসন্তুষ্ট, (টীকাঃ ৪) তার উপর ওইসব লোকের সমান গুনাহ্ বর্তাবে, যারা তদনুযায়ী আমল করবে; আর এতে তাদের গুনাহ্ হতে কিছুই হ্রাস পাবে না।
এ হাদীস ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। ইমাম ইবনে মাজাহ্ হাদীসটি কাসীর ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে 'আমর হতে বর্ণনা করেছেন এ ধারায়- তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। (টীকাঃ ৫)
□ উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখায় বলা হয়েছেঃ
১. (হযরত বেলাল ইবনে হারিস মুযানী [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ])
◇ টীকাঃ ১.
তিনি সাহাবী। ৫ম হিজরীতে মুযাইনাহ্ গোত্রের প্রতিনিধিদলের মধ্যে হুযূরের খেদমতে হাযির হয়ে ইসলাম গ্রহণ বরেন। ৮০ বছর বয়সে ৬০ হিজরীতে ওফাত পা। মদীনা মুনাওয়ারার নিকটে আশ'আর নামক স্থানে বসবাস করেন।
২. (যে ব্যক্তি আমার মৃত সুন্নাতকে, যা আমার পরে বিলুপ্ত হয়ে গেছে, জীবিত করবে)
◇ টীকাঃ ২.
অর্থাৎ যে সুন্নাত মুসলিম সমাজ ছেড়ে দিয়েছে, তা নিজেও আমল করে এবং অন্যদেরকেও আমল করার প্রতি উৎসাহিত করে। যেমনঃ বর্তমান যুগে দাঁড়ি রাখা।
৩. (সে ওইসব লোকের সমান সাওয়াব পাবে, যারা তদনুযায়ী আমল করে- ওইসব আমলকারীর সাওয়াবের মধ্যে হ্রাস পাওয়া ছাড়াই।)
◇ টীকাঃ ৩.
কেননা, আল্লাহ্'র এ বান্দা সুন্নাতকে জীবিত করার ক্ষেত্রে মানুষের তিরষ্কার ও ঠাট্টা-বিদ্রূপ সহ্য করে। সুন্নাতের খাতিরে সব কষ্ট সহ্য করে থাকে। সুতরাং সে বড় মুজাহিদ। কোন উত্তম কাজের উদ্ভাবনকারী যে সাওয়াব পাবে সেটার প্রচার-প্রসারকারীও একই সাওয়াব পাবে।
৪. (আর যে ব্যক্তি এমন ভ্রান্ত বিদ্'আত উদ্ভাবন করবে, যাতে আল্লাহ্ ও তাঁর রসূল অসন্তুষ্ট)
◇ টীকাঃ ৪.
এখানে ﺑﺪﻋﺔ শব্দটি ﻣﻮﺻﻮﻑ (বিশেষিত) এবং ﺿﻼﻟﺔ শব্দটি ﺻﻔﺖ (বিশেষণ); আর ﻧﻜﺮﻩ (অনির্দিষ্ট বিশেষ্য) দ্বারা ﻧﻜﺮﻩ (অনির্দিষ্ট বিশেষ্য)কে বিশেষিত করা হলে ﺗﺨﺼﻴﺺ বা নির্দিষ্টকরণের অর্থ বুঝায়। এখানে ﺑﺪﻋﺔ কে ﺿﻼﻟﺔ (ভ্রান্তি) দ্বারা বিশেষিত করা 'বিদ্আত-ই হাসানাহ্' (উত্তম বিদ্'আত)কে পৃথক করে দেওয়ার জন্যই। [মিরক্বাত] অর্থাৎ মন্দ বিদ্আতসমূহের উদ্ভাবক জঘন্য অপরাধী। যেমনঃ উর্দূ ভাষায় ক্বিরাত ও আযান বলা, অথবা অন্য সব সুন্নাতবিরোধী কাজ। পক্ষান্তরে, উত্তম বিদ্'আতগুলোর উদ্ভাবক সাওয়াবের উপযোগী হবে। যেমনঃ ইলম-ই সরফ (শব্দপ্রকরণ) ও ইলম-ই নাহ্ভ (আরবী ব্যাকরণ)'র আবিষ্কারক, দ্বীনী মাদরাসাসমূহ বুযুর্গের ওরস, মীলাদ শরীফ এবং গেয়ারভী শরীফের মাহফিলের প্রবর্তক। এর আলোচনা ইতোপূর্বে করা হয়েছে। এ হাদীস বিদ্'আতের প্রকারভেদ বিন্যস্ত করার উৎস। 'কিতাবুল্ ইলম'-এও এ বিষয়ে আলোচনা আসবে।
৫. (এ হাদীস ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। ইমাম ইবনে মাজাহ্ হাদীসটি কাসীর ইবনে আব্দুল্লাহ্ ইবনে 'আমর হতে বর্ণনা করেছেন এ ধারায়- তিনি তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন।)
◇ টীকাঃ ৫.
কাসীর ইবনে 'আমর সর্বসম্মতিক্রমে দুর্বল বর্ণনাকারী। ইমাম শাফে'ঈ [ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ] বলেন, "লোকটি বড় মিথ্যুক ছিলো।" তার দাদা আমর ইবনে 'আউফ সাহাবী ছিলেন। ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইসলাম ক্রহণ করেন। তাঁরই প্রসঙ্গে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়- [ﺗَﻮَﻟَّﻮﺍ ﻭَّﺃَﻋْﻴُﻨُﻬُﻢْ ﺗَﻔِﻴﺾُ ﻣِﻦَ ﺍﻟﺪَّﻣْﻊِ] (ফলে, তারা এভাবে ফিরে যায় যে, তাতের চোখগুলো থেকে অশ্রু বিগলিত হতে থাকে। ৯:৯২) তিনি মদীনা মুনাওয়ারায় অবস্থান করেন এবং হযরত আমীর-ই মু'আবিয়া [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ]'র শাসনামলে ওফাত পান। বদরের যুদ্ধে হুযূর [ﷺ]'র সাথেই ছিলেন।
[সূত্রঃ মিরআতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, কৃত- মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী আশরাফী বদায়ূনী, বঙ্গানুবাদঃ মাওলানা আব্দুল মান্নান, ১ম খন্ড, পৃ. ১৭২,১৭৩ হাদীস নং-১৬১ এর টীকাঃ (১০২-১০৬) দ্রব্যষ্ট, প্রকাশনায়ঃ ইমাম আহমদ রেযা রিসার্চ একাডেমী, চট্টগ্রাম।]
🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন