রাসূলে পাক (ﷺ) সাহায্যের ঈমান তাজাকারী ঘটনা


    سُبۡحٰنَ اللهِ عَزَّوَجَلَّ


আশিকদেরকেও কী চমৎকার ভাবে আতিথেয়তা করা হয়। জানা গেল, প্রিয় রাসুল, মা আমেনার বাগানের সুবাসিত ফুল, রাসুলে মাকবুল (ﷺ) আল্লাহ্ তাআলার দানক্রমে নিজের গোলামদের অবস্থাবলী ও চিন্তাধারা সম্পর্কে সর্বদা খোঁজখবর রাখেন আর অনেক সময় স্বপ্নে দীদার দিয়ে ধন্য করে তাদেরকে সাহায্য ও সংশোধন করেন। এ বিষয়ে আরো একটি ঈমান তাজাকারী ঘটনা শুনুন। যেমন- হযরত সায়্যিদুনা শায়খ ইঊসুফ বিন ইসমাঈল নাবহানী (رحمة الله) ঘটনা একটি বর্ণনা করেন, খোরাসানের এক হাজী সাহেব প্রতি বছর হজ্জের সৌভাগ্য লাভ করেন। যখন মদীনায়ে মুনাওয়ারায় زادها لله شر فاو تعظيما হাযির হতেন তখন সেখানের একজন আলাভী বুযুর্গ হযরত সায়্যিদুনা তাহির বিন ইয়াহইয়া (رحمة الله) এর খিদমতে নযরানা (উপহার) পেশ করতেন। একবার মদীনা শরীফে কোন এক হিংসুক বলল: তুমি বিনা কারণে নিজের সম্পদ নষ্ট করছ। তাহির সাহেব ভুল জায়গায় তোমার দেয়া নযরানা খরচ করে থাকেন। তাই ধারাবাহিকভাবে দু’বছর তিনি হযরত সায়্যিদুনা শায়খ তাহির (رحمة الله) খিদমত করলেন না। তৃতীয় বছর হজ্জের সফরের প্রস্তুতির সময় নবীকুল সুলতান, সরদারে দো’জাহান, মাহবুবে রহমান (ﷺ) খোরাসানী হাজীর স্বপ্নে তাশরীফ এনে অনেকটা এভাবে উপদেশ দিলেন: “তোমার জন্য আফসোস! মন্দ লোকের কথা শুনে তুমি তাহিরের সাথে সদ্ব্যবহারের সম্পর্ক ছিন্ন করে দিয়েছ! এটার প্রতিকারের ব্যবস্থা নাও এবং আগামীতে সম্পর্ক ছিন্ন করা থেকে বেঁচে থাক।” তাই তিনি এক বিচ্ছেদকারী লোকের কথা শুনে কুধারণার বশবর্তী হওয়ার জন্য ভীষণভাবে লজ্জিত হলেন এবংযখন মদীনায়ে মুনাওয়ারায় হাযির হলেন তখন সর্বপ্রথম আলাভী (হযরত আলী (رضي الله عنه) এর বংশীয়) বুযুর্গ হযরত সায়্যিদুনা শায়খ তাহির বিন ইয়াহইয়া (رحمة الله) এর দরবারে উপস্থিত হলেন। তিনি দেখার সাথে সাথে বললেন: “যদি তোমাকে নবীয়ে রহমত, শফিয়ে উম্মত, তাজেদারে রিসালাত (ﷺ) না পাঠাতেন তবে তুমি আমার কাছে আসার জন্য প্রস্তুতই ছিলে না!বিরুদ্ধাবাদীর এক তরফা কথা শুনে আমার ব্যাপারে ভুল ধারণা করে নিজের উদারতাসূলভ অভ্যাস ত্যাগ করে দিয়েছ, অবশেষে প্রিয় আক্বা, উভয় জাহানের দাতা, রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) স্বপ্নে তোমাকে সাবধান করলেন।” একথা শুনে খোরাসানী হাজী সাহিবের মাঝে ভাবাবেগের সৃষ্টি হল। আরয করলেন: “হুযুর! আপনি এসব কিভাবে জানতে পারলেন?” বললেন: “আমি প্রথম বছরে জানতে পেরেছি। দ্বিতীয় বছরও তুমি উদাসীনতা প্রদর্শন করলে আমার অন্তর মনোবেদনায় চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল। এতে ছরকারে নামদার, মদীনার তাজেদার, রহমতের ভান্ডার, রাসুলদের সরদার (ﷺ) স্বপ্নে দয়া করে আমাকে সান্ত্বনা দিলেন আর তোমার স্বপ্নে তাশরীফ নিয়ে যা কিছু তোমাকে ইরশাদ করেছেন: তা আমাকে বলে দিয়েছেন। খোরাসানী হাজী সাহেব তাঁকে প্রচুর নযরানা পেশ করলেন, তাঁর হাত চুম্বন করলেন ও কপালে চুমু দেয়ার পর একতরফা কথা শুনে ভুল ধারণা করে মনো কষ্টের কারণ হওয়ায় আলাভী বুযুর্গ (رحمة الله) এর নিকট ক্ষমা চাইলেন। (হুজ্জাতুল্লাহি আলাল আলামীন, ৫৭১ পৃষ্ঠা থেকে সংকলিত)



আল্লাহ্ তাআলার রহমত তাঁদের উপর বর্ষিত হোক এবং তাঁদের সদকায় আমাদের ক্ষমা হোক।



        না কিউ কর কহো ইয়া হাবীবী আগিস্নী,


        ইছি নামছে হার মুসিবত টলি হে,


        খোদা নে কিয়া তুঝকো আ-গাহ্ সবছে,


        দো-আলম মে জো কুছ খফী ও জলী হে।

_______________

কিতাব : ফয়যানে সুন্নাত

লেখক : আমীরে আহলে সুন্নাত মাওলানা মুহাম্মদ বিলাল মুহাম্মদ ইলইয়াস আত্তার কাদেরী রযবীয়া (দা.)

সূত্রঃ 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন