মওলিদুন্নবী (ﷺ) উদযাপনের ব্যাপারে মুহাদ্দেসীন-এ-কেরাম ও ইমামবৃন্দের দৃষ্টিভঙ্গি
মওলিদুন্নবী (ﷺ) উদযাপনের পক্ষে ক্বুরআন-সুন্নাহভিত্তিক বিস্তারিত প্রামাণ্য দলিলাদি পেশের পর এই অধ্যায়ে আমরা এতদসংক্রান্ত বিষয়ের সমর্থনে মতামত প্রকাশকারী ইমামবৃন্দের দলিলগুলো উপস্থাপন করবো। বিভিন্ন ইসলামী দেশ ও সময়কালের সাথে সম্পৃক্ত তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি এক্ষেত্রে ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণনা করা হবে।
মীলাদের এই অনুশীলিত প্রথা ইসলাম ধর্মের মধ্যে সাম্প্রতিক সংযোজন (বেদআত) কিংবা এধরনের রীতি ভারত উপমহাদেশীয় মুসলমানদের দ্বারা-ই কেবল প্রবর্তিত বলাটা একেবারেই ভুল এবং তা বাস্তবতারও পরিপন্থী। বাস্তবতা হলো, মওলিদুন্নবী (ﷺ) স্রেফ পাকিস্তান বা ভারতের মুসলমানদের অনুশীলিত রীতি নয়, কিংবা এটা বেদআত-ও নয়। সমসাময়িককালের মুসলমান সমাজ এই প্রথার প্রবর্তক নন। বস্তুতঃ মওলিদুন্নবী (ﷺ) এমন একটি আনন্দঘন ধর্মীয় অনুষ্ঠান যা দুটি পবিত্র স্থান মক্কা মোয়াযযমা ও মদীনা মোনাওয়ারা এবং গোটা আরব জাহান শতাব্দীর পর শতাব্দী যাবত পালন করে আসছে। ইসলামী বিশ্বের অনারব অংশে এই প্রথা পরবর্তীকালে চালু হয়।
মওলিদুন্নবী (ﷺ) উদযাপনের পক্ষে নেতৃস্থানীয় ইমামমণ্ডলী ও হাদীসবেত্তাবৃন্দের অভিমত ও শরঈ সিদ্ধান্ত নিচে দেয়া হলো:
১. হুজ্জা আল-দীন ইমাম মুহাম্মদ বিন যুফার (৪৯৭-৫৬৫ হিজরী)
হুজ্জা আল-দ্বীন ইমাম আবূ আবদিল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দিল্লাহ বিন যুফার আল-মক্কী (১১০৪-১১৭০ খৃষ্টাব্দ) বর্ণনা করেন যে ‘আল-দুর্রুল মুনতাযিম’ পুস্তকে উদ্ধৃত হয়েছে: “মহানবী (ﷺ)-এর বেলাদত তথা ধরণীতলে শুভাগমনের প্রতি খুশি প্রকাশার্থে তাঁরই আশেক্ব-ভক্তবৃন্দ বড় বড় ভোজের আয়োজন করেন। এসবের মধ্যে সম্মানিত কায়রো নগরীতে অবিশ্বাস্য বড় এক ভোজের আয়োজন যিনি করেন, তিনি হচ্ছেন শায়খ আবূল হাসান, ইবনে ক্বুফুল নামে যিনি সমধিক প্রসিদ্ধ – আল্লাহ তাঁর (আধ্যাত্মিক) রহস্যকে পবিত্রতা দান করুন। তিনি আমাদের শিক্ষক আবূ আবদিল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-নু’মান সাহেবের শিক্ষক। তাঁর আগে মওলিদ অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন জামালউদ্দীন আল-আজামী আল-হামাযা’নী। অন্যান্যরা, যেমন মিসরের ইঊসুফ আল-হাজ্জার, এই অনুষ্ঠান পালনে সর্বাত্মক করতেন; বস্তুতঃ তিনি (এক স্বপ্নে) মহানবী (ﷺ)-কে দেখেন যিনি তাঁকে এই পুণ্যদায়ক কর্ম জারি রাখার ব্যাপারে উৎসাহিত করেন।” [আল-সালেহী, ‘সুবুল আল-হুদা’ ওয়াল-রাশা’দ ফী সীরাতে খায়র আল-’এবা’দ’, ১:৩৬৩]
২. শায়খ মুঈন আল-দীন উমর বিন মুহাম্মদ আল-মাল্লা (জন্ম: ৫৭০ হিজরী)
শায়খ মু’ঈনউদ্দীন আবূ হাফস ‘উমর বিন হাফস্ বিন খিদার আল-ইরবিলী আল-মূসিলী তাঁর আল-মাল্লা’ খেতাবের জন্যে সুপ্রসিদ্ধ। মসুল নগরীর অধিবাসীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ, আশেক্ব-ভক্ত ও গভীর জ্ঞানী আলেম। বিবৃত আছে: “ওয়া কা‘না আও-ওয়ালু মান ফাআলা যালিকা বিল-মাওসিলিশ্ শায়খু উমারুবনু মুহাম্মাদিল্ মুল্লা আহাদুস্ সোয়ালেহীনাল্ মাশহূরীন; ওয়া বিহিক্বতাদা’ ফী যালিকা সোয়াহিবু ইরবিলা ওয়া গায়রুহু রাহিমাহুমুল্লা’হু তাআলা” – অর্থাৎ, মসুল নগরীতে প্রথম যে ব্যক্তি মওলিদ মাহফিলের আয়োজন করেন তিনি হচ্ছেন বিখ্যাত পুণ্যাত্মা শায়খ উমার বিন মুহাম্মদ মাল্লা’। এই রীতির অনুশীলনে ইরবিলের শাসক ও অন্যান্যরা তাঁর অনুসরণ করেন – আল্লাহর করূণা তাঁদের সবার প্রতি বর্ষিত হোক (আমীন)। [আবূ শা’মা প্রণীত ‘আল-বায়েস আলা ইনকার আল-বিদআ ওয়াল-হাওয়া’দিস’, ২৪ পৃষ্ঠা; আল-সা’লেহী কৃত ‘সুবুল আল-হুদা’ ওয়াল-রাশা’দ ফী সীরাতে খায়র আল-’এবাদ’, ১:৩৬৫]।
৩. ইবনে আল-জাওযী (৫১০-৫৭৯ হিজরী)
বহু গ্রন্থপ্রণেতা জামালউদ্দীন আবূল ফারাজ আবদুর রহমান বিন আলী ইবনে আল-জাওযী (১১১৬-১২০১ খৃষ্টাব্দ) মওলিদুন্নবী (ﷺ) বিষয়ে দুটি বই সংকলন করেন:
১/ – বয়া’ন আল-মীলাদ আল-নববী
২/ – মওলিদ আল-উরূস্
ইবনে জাওযী তাঁর ‘বয়া’ন আল-মীলাদ আল-নববী’ গ্রন্থে লেখেন: “রবীউল আউয়াল মাসের আগমনীবার্তা নিয়ে নতুন চাঁদ উদিত হলে হারামাঈন শরীফাইনের (তথা মক্কা ও মদীনার) পাশাপাশি মিসর, ইয়েমেন, ভূ-মধ্যসাগরের পূর্বাঞ্চল এবং আরব রাজ্যের পূর্ব হতে পশ্চিমের সকল মানুষ মহানবী (ﷺ)-এর ধরাধামে শুভাগমন উপলক্ষে খুশি প্রকাশার্থে মীলাদ উদযাপন অব্যাহত রাখেন। তাঁরা (তাঁরই শানে) ধর্মীয় সঙ্গীত (সেমা-কাউয়ালী) ও মওলিদ পাঠে সাধ্যমতো প্রয়াস পান; আর এরই ফলশ্রুতিতে তাঁরা আশীর্বাদপূর্ণ পুরস্কার ও মহাবিজয় অর্জন করবেন।” [ইবনে আল-জাওযী, ‘বয়া’ন আল-মীলা’দ আল-নববী’, ৫৮ পৃষ্ঠা]
ইবনে জাওযী তাঁর ‘মওলিদ আল-উরূস’ গ্রন্থে বর্ণনা করেন: “যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মওলিদ উপলক্ষে খুশি হন, তিনি জাহান্নামের আগুন হতে (রহমতের) চাদর দ্বারা আবৃত। মওলিদ পালনের উদ্দেশ্যে যিনি এক দিরহাম ব্যয় করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর জন্যে সুপারিশ করবেন, আর আল্লাহতা’লা-ও তাঁর ব্যয়িত প্রত্যেক দিরহামের বদলে দশ দিরহাম পরিশোধ করবেন। ওহে উম্মতে মুহাম্মদী (ﷺ), তোমাদের জন্যে সুসংবাদ। নিশ্চয় তোমরা এই জগৎ ও পরলোকে অগণিত খায়র-বরকত (মঙ্গল) অর্জন করেছো। সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি যিনি মনোনীত (নবী) আহমদ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের মওলিদে অংশগ্রহণ করেন এবং এরই ফলশ্রুতিতে (খোদায়ী) কল্যাণ,মর্যাদা, আশীর্বাদ ও মহিমা/গৌরব অর্জন করেন। তিনি বেহেশ্তের বাগানে মুক্তোর মুকুট ও সবুজ আলখাল্লা পরে প্রবেশ করবেন।” [ইবনে আল-জাওযী, ‘মওলিদ আল-উরূস্’, ১১ পৃষ্ঠা]
ইরবিলের বাদশাহ আবূ সাঈদ আল-মুযাফফর আল-কাওকাবরী কর্তৃক মওলিদুন্নবী (ﷺ) উদযাপন ও তাতে বড় ব্যয় করার প্রসঙ্গে ইবনে জাওযী বলেন: “লাও লাম এয়াকুন্ ফী যালিকা ইল্লা এরগা’মুশ্ শায়তোয়ানি ওয়া এদআমু আহলিল্ ঈমা’ন” – অর্থাৎ, ‘এই মীলাদ (অনুষ্ঠান) শয়তানকে ক্রুদ্ধ করে এবং ঈমানদারদের আনন্দিত/উৎফুল্ল করে।’ [আল-সালেহী, ‘সুবুল আল-হুদা’ ওয়া রাশা’দ ফী সীরাতে খায়র আল-এবা’দ’, ১:৩৬৩]
আরেক কথায়, মীলাদের মজলিশগুলো শয়তানের জন্যে পরাজয় বয়ে আনে, আর অপরদিকে বিশ্বাসীদেরকে সুসংহত করে থাকে।
৪. আবূ আল-খাত্তাব বিন দিহ্ইয়া আল-কালবী (৫৪৪-৬৩৩ হিজরী)
মহাবিচারক আবূল আব্বাস শামস আল-দ্বীন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবী বকর বিন খিলকা’ন নিজের ‘ওয়াফাএয়া’ত আল-আ’এয়া’ন ওয়া আবনা’ আল-যামা’ন’ শীর্ষক গ্রন্থে (৩:৪৪৮-৪৫০) হাফেয আবূ আল-খাত্তাব বিন দিহ্ইয়া আল-কালবী (৫৪৪-৬৩৩ হিজরী) সম্পর্কে উল্লেখ করেন: “তিনি ছিলেন প্রসিদ্ধ হক্কানী উলামা ও পুণ্যাত্মাদের একজন। তিনি ৬০৪ হিজরী সালে মাগরেব তথা পশ্চিমাঞ্চল হতে সফর করে সিরিয়া ও ইরাক্ব এলাকায় প্রবেশ করেন এবং ইরবিল অতিক্রম করেন। সেখানে তিনি দেখতে পান ইরবিলের শাসক সুলতান মুযাফফার আল-দ্বীন বিন যাইন আল-দ্বীন ঈদে মীলাদুন্নবী (ﷺ)-এর উদযাপন উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতিমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। তাই তিনি বাদশাহ’র উদ্দেশ্যে ‘আল-তানভীর ফী মওলিদিল বাশীর আল-নাযীর’ (সুসংবাদ প্রদানকারী ও সতর্ককারীর মীলাদ/বেলাদতে বিচ্ছুরিত নূরের জ্যোতি) শীর্ষক একখানি বই রচনা করেন। বাদশাহ’র উপস্থিতিতে তিনি বইটি বাদশাহকে পাঠ করে শোনান, আর (ফলশ্রুতিতে) তাঁকে এক সহস্র দিনার পুরস্কার দেয়া হয়। আমরা ৬২৫ হিজরী সালে ছয়টি আলাদা আলাদা সমাবেশে (খোদ) বাদশাহ’র কাছ থেকে এই ঘটনার বিবরণ শুনেছিলাম।” [আল-সৈয়ূতী কৃত ‘হুসন আল-মাক্বসিদ ফী আমালিল মওলিদ’, ৪৪-৪৫ পৃষ্ঠা; আল-সৈয়ূতী প্রণীত ‘আল-হা’ওয়ী লিল-ফাতা’ওয়া’, ২০০ পৃষ্ঠা; এবং আল-নাবহানী রচিত ‘হুজ্জাত-আল্লাহি আলাল-আলামীন ফী মু’জেযাত-এ-সাঈয়্যেদিল মুরসালীন’, ২৩৬-২৩৭ পৃষ্ঠা]।
৫. শামস আল-দীন আল-জাযারী (বেসাল: ৬৬০ হিজরী)
ক্বুরআন মজীদের শীর্ষস্থানীয় ক্বারী শামস আল-দ্বীন মুহাম্মদ বিন আবদ-আল্লাহ আল-জাযারী আল-শাফেঈ (জন্ম: ১২৬২ খৃষ্টাব্দ) নিজ ‘উরফ আল-তা’রীফ বিল-মওলিদিশ্ শরীফ’ শীর্ষক সংক্ষিপ্তসারমূলক পুস্তকে লেখেন: “মৃত্যুর পর এক স্বপ্নে আবূ লাহাবকে দেখা যায়। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, ‘তোমার কী পরিণতি হয়েছে?’ সে জবাব দেয়, ‘আমি জাহান্নামের আগুনে পুড়ছি। তবে প্রতি সোমবারে আমার শাস্তি লাঘব হয় এবং আমি এসব আঙ্গুলের আগা হতে পানি পান করতে সক্ষম হই (এসময় সে তার তর্জনী ও মধ্যমাঙ্গুল দুটো দেখায়)। আর এটা হয়েছে এ কারণে যে আমি দাসী সুয়াইবিয়াকে মুক্ত করে দিয়েছিলাম, যখনই সে মহানবী (ﷺ)-এর বেলাদতের সুসংবাদ আমার কাছে নিয়ে এসেছিলো; আর ওই মুক্তির ফলে সে মহানবী (ﷺ)-এর সেবা করতে পেরেছিলো।’
“এ-ই যদি হয় আবূ লাহাবের অবস্থা, যে অবিশ্বাসীকে আল-ক্বুরআনে অভিসম্পাত দেয়া হয়েছে, অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বেলাদতের রাতে খুশি হওয়ার দরুন তার শাস্তি করা হয়েছে লাঘব, এমতাবস্থায় ওই মুসলমানের কতোটুকু উচ্চমর্যাদা হবে, যিনি আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস করেন ও মহানবী (ﷺ)-এর উম্মত হন, আর যিনি হুযূরের (ﷺ) মীলাদ/বেলাদত উপলক্ষে খুশি হন এবং তাঁরই প্রতি এশক্ব-মহব্বতের খাতিরে সাধ্যমতো অর্থব্যয় করেন? নিশ্চয় মহানুভব আল্লাহতা’লার তরফ থেকে তাঁর পুরস্কার হবে এই যে, আল্লাহ পাক তাঁকে নিজ বিশাল নেআমতের ভাণ্ডার হতে দান করবেন এবং তাঁকে সুখ-শান্তির বেহেশ্তে প্রবেশের অনুমতি দেবেন!” [আল-সৈয়ূতী লিখিত ‘আল-হাওয়ী লিল-ফাতা’ওয়া’, ২০৬ পৃষ্ঠা; আল-সৈয়ূতী কৃত ‘হুসন আল-মাক্বসিদ ফী আমালিল-মওলিদ’, ৬৫-৬৬ পৃষ্ঠা; আল-কসতলানী রচিত ‘আল-মাওয়া’হিবুল লাদুন্নিয়া বিল- মিনাহ আল-মুহাম্মদীয়া’, ১:১৪৭; আল-যুরক্বানী মালেকী প্রণীত ‘শরহ-এ-মাওয়া’হিব আল-লাদুন্নিয়া বিল-মিনাহ্ অাল-মুহাম্মদীয়া’, ১:২৬০-২৬১; আল-সালেহী লিখিত ‘সুবুল আল-হুদা’ ওয়াল-রাশা’দ ফী সীরাতে খায়র আল-এবা’দ’, ১:৩৬৬-৩৬৭; এবং আল-নাবহানী কৃত ‘হুজ্জাত-আল্লাহি আলাল-আলামীন ফী মু’জিযাতে সাঈয়েদিল মুরসালীন’, ২৩৭-২৩৮ পৃষ্ঠা]
লেখক আরো যোগ করেন: “মওলিদ উদযাপনের অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি, যার অভিজ্ঞতা সঞ্চিত হয়েছে, তা এই যে এটা সারা বছর জুড়ে নিরাপত্তার উৎস এবং অন্বেষণকৃত প্রতিটি উত্তম বস্তুর সুসংবাদ হয়।” [আল-সালেহী রচিত ‘সুবুল আল-হুদা’ ওয়াল-রাশা’দ ফী সীরাতে খায়র আল-’এবাদ’, ১:৩৬৫-৩৬৬]।
__________________
মওলিদুন্নবী (ﷺ)-এর উদযাপন ও অনুমতি (১ম খণ্ড)
মূল: শায়খুল ইসলাম ড: মুহাম্মদ তাহিরুল কাদেরী
অনুবাদ: কাজী সাইফুদ্দীন হোসেন
🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন