❏ দরসে হাদীসঃ [হাদীস নং- (২৯৪১)]
○ অধ্যায়ঃ [কিতাবুন্ নিকাহ (বিবাহ পর্ব)]
হযরত আবূ হুরাইরা [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ] হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন,
রাসূলাল্লাহ [ﷺ] এরশাদ করেছেনঃ
"চার(০৪) কারণে নারীকে বিবাহ করা যায়: তার ধনসম্পদের কারণে, বংশের কারণে, সৌন্দর্যের কারণে এবং দ্বীনের কারণে। তোমরা দ্বীনদার (ধর্মভীরু) নারীকে (বিবাহের জন্য) পছন্দ করো। (টীকাঃ ১) তোমার দু'হাত ধূলিময় হোক।" (টীকাঃ ২)
[সহীহ বোখারী, সহীহ মুসলিম]
□ উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখাঃ
১. (তোমরা দ্বীনদার (ধর্মভীরু) নারীকে (বিবাহের জন্য) পছন্দ করো।)
◇ টীকাঃ ১।
অর্থাৎ সাধারণত মানুষ নারীর সম্পদ, সৌন্দর্য এবং বংশের দিকই (বিবাহের বেলায়) বিবেচনা করে, এসব বিষয় দেখেই বিবাহ করে; কিন্তু তোমরা নারীর ভদ্রতা ও দ্বীনদারী অন্য সব বিষয়ের পূর্বে দেখো। কারণ সম্পদ ও সৌন্দর্য অস্থায়ী জিনিস; দ্বীন হচ্ছে স্থায়ী সম্পদ। তাছাড়া ধর্মভীরু মাতা ধর্মভীরু সন্তানের জন্ম দেন।
ডক্টর ইকবাল অতি সুন্দর বলেছেন-
"বে-আদব মাতা আদব সম্পন্ন সন্তান জন্ম দিতে পারে না,
স্বর্ণের খনি কখনও ইস্পাতের খনি হতে পারে না।"
মা যদি ফাতেমা যাহরা [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﯽٰ ﻋﻨﻬﺎ]'র মতো হন, তাহলে সন্তানও হযরত হাসান ও হযরত হোসাইন [ﺭﺿﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﻤﺎ]'র মতো হবেন।
ডক্টর আল্লামা ইকবাল বলেন-
"(ওহে নারী) হযরত ফাতিমা বতূল [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﯽٰ ﻋﻨﻬﺎ]'র মতো খোদাভীরু মহিলা হয়ে যাও, এ যুগ হতে গোপন থাকো, যাতে তোমার কোলে ইমাম হাসান কিংবা ইমাম হোসাইনের মতো সন্তান ধারণ করতে পারো।"
২. (তোমার দু'হাত ধূলিময় হোক।)
◇ টীকাঃ ২।
অর্থাৎ যদি তুমি আমার এ নির্দেশ অনুসারে আমল না করো, তবে পেরেশান হয়ে যাবে। নবী করিম [ﷺ] ঘোষণা করেনঃ
"যে ব্যক্তি নারীর সম্পদ দেখে তাকে বিবাহ করবে সে গরীব থাকবে, যে ব্যক্তি শুধু বংশ দেখে বিবাহ করবে সে অপমানিত হবে এবং যে ব্যক্তি দ্বীন দেখে বিবাহ করবে তাকে বরকত দেওয়া হবে।" (মিরক্বাত)
সম্পদ এক ঝটিকায় এবং সৌন্দর্য এক অসুখের কারণে লোপ পেয়ে যায়।
[সূত্রঃ মিরআতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, কৃত- মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী আশরাফী বদায়ূনী, বঙ্গানুবাদঃ মাওলানা আব্দুল মান্নান, ৫ম খন্ড, পৃ.৪, হাদীস নং-২৯৪১ এর টীকাঃ ৮ ও ৯ দ্রব্যষ্ট, প্রকাশনায়- ইমাম আহমদ রেযা রিসার্চ একাডেমী, চট্টগ্রাম।]
🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন