প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আপনারা দেখলেন তো! আল্লাহ্ তাআলার দানক্রমে ওলীরা মানুষের মনের অবস্থা জেনে নেন। তাইতো হযরত সায়্যিদুনা শায়খ ইবনে আলা (رحمة الله)জিজ্ঞাসা করা ব্যতীত হুযুর দাতা গঞ্জ বখশ হযরত সায়্যিদুনা আলী হাজবেরী (رحمة الله) তাঁর বন্ধুদের বাসনা পূরণ করে তৃতীয়জনকে সংশোধনের মাদানী ফুল প্রদান করলেন। এ ঘটনায় হযরত সায়্যিদুনা হুসাইন বিন মনছুর হাল্লাজ (رحمة الله) এর শুভ আলোচনা বিদ্যমান। তাঁর ব্যাপারে প্রসিদ্ধি রয়েছে, তিনি আনাল হক্ব অর্থাৎ-আমি হক (খোদা)” বলেছিলেন। এ ভুল ধারণাকে খন্ডন করে আমার আক্বা, আ’লা হযরত, ইমামে আহলে সুন্নাত, মাওলানা শাহ ইমাম আহমদ রযা খান (رحمة الله) বলেন: “হযরত সায়্যিদুনা হুসাইন বিন মানসূর হাল্লাজ (رحمة الله) যাঁকে সাধারণ মানুষ “মানসূর” বলে থাকে, মানসূর হল তাঁর পিতার নাম আর তাঁর পবিত্র নাম হল হুসাইন। তিনি তাঁর যুগের যুগশ্রেষ্ঠ ওলীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর এক বোন বেলায়ত ও মারিফাতের মর্যাদায় তাঁর চেয়ে অতি উচ্চ স্তরে ছিলেন।তিনি শেষ রাতে জঙ্গলে চলে যেতেন এবং আল্লাহ্ তাআলার স্মরণে বিভোর হয়ে যেতেন। একদিন তাঁর ঘুম ভাঙ্গলে বোনকে না পেয়ে ঘরের সবখানে খোঁজ করলেন।খোঁজ করে না পেয়ে তাঁর মনে কুমন্ত্রণা আসল। পরবর্তী রাতে ইচ্ছাকৃতভাবে ঘুমের ভান করে জেগে রইলেন।তাঁর বোন নিজের সময়মত উঠে জঙ্গলের দিকে চলতে লাগলেন, তিনিও আস্তে আস্তে পিছু নিলেন।দেখতে লাগলেন, আসমান থেকে স্বর্ণের শিকল দিয়ে ইয়াক্বুতের পাত্র অবতীর্ণ হল আর পবিত্র মুখ বরাবর আসল, তিনি পান করতে লাগলেন। তিনি (হুসাইন বিন মনছুর) ধৈর্য ধরতে পারলেন না, জান্নাতের এ নেয়ামত (আমি) পাব না, অনিচ্ছা সত্ত্বেও বলে উঠলেন, “বোন! তোমাকে আল্লাহ্ তাআলার শপথ! সামান্য পরিমাণ আমার জন্য রেখো।তার (বোন) এক ঢোক রাখলেন। তিনি তা পান করলেন। তা পান করতেই প্রতিটি লতা-পাতা প্রতিটি জায়গা, প্রতিটি অনু-কণা থেকে তার কানে এ আওয়াজ আসতে লাগল যে, “এটার হকদার অধিক কে, যে আমার পথে জীবন দেবে? তিনি বলতে শুরু করলেন, انا الحق ”অর্থাৎ নিশ্চয় আমি সবচেয়ে বেশি হকদার।” লোকেরা শুনে মনে করল, انا الحق অর্থাৎ-(আমি হক), (লোকেরা) তাঁকে খোদা দাবীদার মনে করল, আর এটা (অর্থাৎ-খোদায়ীত্বের দাবী) হল কুফরী।
মুসলমান হয়ে যে কুফরী করে, সে মুরতাদ হয়ে যায়, আর মুরতাদের শাস্তি হল মৃত্যুদন্ড। (সহীহ বুখারী, ২য় খন্ড, ৩১৫ পৃষ্ঠা, হাদীস নং- ৩০১৭-এ রয়েছে)
প্রিয় আক্বা, উভয় জাহানের দাতা, রাসুলুল্লাহ্ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন: “যে নিজ ধর্ম পরিবর্তন করে, তাকে হত্যা করো।” (ফতোওয়া রযবীয়া, ২৬ খন্ড, ৪০০ পৃষ্ঠা)
اَلْحَمْدُ اللهِ عَزَّوَجَلَّ
দা’ওয়াতে ইসলামীর মাদানী পরিবেশের সাথে সম্পৃক্ততা ও মাদানী কাফেলায় সফর আকীদা ও আমল সংশোধনের উৎকৃষ্ট মাধ্যম।
_______________
কিতাব : ফয়যানে সুন্নাত
লেখক : আমীরে আহলে সুন্নাত মাওলানা মুহাম্মদ বিলাল মুহাম্মদ ইলইয়াস আত্তার কাদেরী রযবীয়া (দা.)
সূত্রঃ 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন