দরুদ শরীফের ফযীলত সমূহ
(১)
রাসূলে কারীম (ﷺ) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি এই ‘দুরূদে মুক্বাদ্দাস’ পড়বেন, তিনি চল্লিশজন বুজুর্গ ব্যক্তি, গাউস, কুতুব, আবদাল এবং আউলিয়ায়ে কেরামের মত সওয়াব পাবেন এবং তাঁর ছােট-বড় সমস্ত গুনাহ্ এই ‘দূরূদে মুকাদ্দাস’র উসীলায় ক্ষমা করে দেয়া হবে। তাঁর রূহ্ আল্লাহ তায়ালা স্বীয় কুদরতের হাতে কবজ করবেন এবং তাঁর ছকরাত সহজ হবে। তার জানাজায় এত বেশী সংখ্যক ফেরেশতা শরীক হবেন, যাদের সংখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ নির্ণয় করতে পারবে না। তাঁর কবর। খুবই আলােকিত হবে এবং মুনকার-নকীর-এর প্রশ্নও সহজ হয়ে যাবে। তাঁকে বলা হবে, হে আল্লাহর বান্দা! তুমি ঘুমিয়ে পড়াে।
তাঁর কবরের আজাব হবে না। যখন তিনি কবর হতে উঠবেন, তখন তাঁর চেহারা চৌদ্দ তারিখের পূর্ণ চন্দ্রের মতাে আলােকময় হবে। লােকেরা বলবে, হে আল্লাহ! এই ব্যক্তি কি কোন পয়গম্বর? না অন্য কেউ? আল্লাহ্ তা'আলা বলবেন- তিনি পয়গম্বর নন। বরং আমার একজন নবীর উম্মত। তিনি আমার হাবীবের নাম মােবারককে আন্তরিকভাবে তেলাওয়াত করতেন। এর বরকতেই তিনি এই মর্তবা পেয়েছেন।
(২)
যে ব্যক্তি এই দুরূদে মুকাদ্দাস’ পড়বেন এবং তাবিজ করে সাথে রাখবেন, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে অকাল মৃত্যু, হঠাৎ মৃত্যু, দুর্ঘটনা, মাথাব্যথা, অর্ধ মাথাব্যথা, কপাল ব্যথা, চক্ষুরােগ, নখ ব্যথা, কান-ব্যথা, পেটব্যথা, মন-খারাবী, পা-ব্যথা, আংগুল ব্যথা, হাঁটু-ব্যথা, কনুই-ব্যথা, হাত-ব্যথা, পাঁজরের ব্যথা, পিঠ-ব্যথা, নাভী ব্যথা, রগ-ব্যথা, সকল আসমানি-জমিনী বালা-মুসিবত, ক্ষুধা-তৃষ্ণা এবং সকল প্রকার শারীরিক রােগ হতে এই দুরূদে মুকাদ্দাসের উসীলায় হেফাজত করবেন।
(৩)
হযরত আবু বকর সিদ্দীক (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি। এই দুরূদে মুক্বাদ্দাস’ পড়লেন, তিনি মূলত: রাসূলে খােদা (ﷺ)-এর মজলিসে মুক্বাদ্দাসে হাজির হলেন তার সারা দিনের গুনাহ্ এই দুরূদে মুকাদ্দাসের উসীলায় ক্ষমা করে দেয়া হবে। এক একটি নামের উসীলায় তার হাজার হাজার গুনাহ মাফ হয়ে যাবে, তার জন্য সব সময় আল্লাহর রহমতের দরজা খােলা থাকবে।
(৪)
হযরত আবু বকর সিদ্দীক (رضي الله عنه) থেকে আরাে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এরশাদ করেছেন, আমার উম্মতের যে কোন পুরুষ বা মহিলা জুমা’র রাতে দুরূদে মুক্বাদ্দাস’ পড়ে দোয়া করলে, আল্লাহ্ তাঁর দোয়া কবুল বা যে কোন হাজত পূরণ করবেন ইনশাআল্লাহ! এটা বহুলােক কর্তৃক পরীক্ষিত।
(৫)
হযরত ওমর ফারুক (رضي الله عنه) বলেন, যে মহিলার সন্তান হয় না, সে মহিলাকে যদি দরূদে মুকাদ্দাস’ পড়ে পানিতে ফুক দিয়ে পান করানাে হয় এবং সে পরক্ষণেই স্বামীর সাথে মিলন করে, আল্লাহর রহমতে সে মহিলা গর্ভবতী হবে। এক্ষেত্রে মেশক ও জাফরান দ্বারা লিখে পানির সাথে খেয়ে স্বামীর সাথে মিলন করবে। এতে আল্লাহর রহমতে সে গর্ভবতী হবে, ইনশাআল্লাহ্। এটাও পরীক্ষিত।
(৬)
হযরত ওসমান গণি (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত; তিনি বলেন, কোন শত্রু যদি অত্যাধিক প্রভাবশালী হয় এবং কিছুতেই যদি তাকে বশে আনা না যায়, তাহলে আছরের নামাজের পর কেবলামুখী হয়ে এই ‘দুরূদে মুকাদ্দাস’ একবার পড়ে দুই হাতে ফুক দিয়ে মাথার দিক হতে শরীরে মালিশ করলে ইনশাআল্লাহ্ শত্রু অবদমিত হয়ে যাবে। এটাও পরীক্ষিত।
(৭)
যদি কোন ব্যক্তির ভাগ্য খারাপ হয়ে যায়, সে যদি এই ‘দুদে মুক্বাদ্দাস’ তেলাওয়াত করে অথবা তাবিজ লিখে গলায় বা হাতে পরে, ইনশাআল্লাহ্ তার বরকতে লােকটির ভাগ্য খুলে যাবে।
(৮)
হযরত আলী (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত; যে ব্যক্তি জুমার রাতে ঘুমানাের আগে এই দূরূদে মুকাদ্দাস’ পড়বেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তাঁকে চারটি বস্তু দান করবেন। সেগুলাে হল:
(ক) আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টি,
(খ) রাসূলে খােদার সন্তুষ্টি,
(গ) বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ,
(ঘ) উভয় জগতে রিজিকের অভাবহীনতা আর তিনি দুনিয়ার সকলের নিকট প্রিয় ভাজন হবেন এবং সবাই তার উপর সন্তুষ্ট থাকবেন। এটাও পরীক্ষিত।
(৯)
হযরত রাসূলে করীম (ﷺ) এরশাদ করেছেন, আমার কোন উম্মত যদি এই দুরূদে মুক্বাদ্দাস’ তেলাওয়াত করে, কেয়ামতের ময়দানে সে নেক্কার এবং শহীদগণের সাথে থাকবে।
(১০)
হযরত রাসূলে করীম (ﷺ) আরাে এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি তাঁর জীবনে অন্তত একবার এই দুরূদে মুকাদ্দাস’ পড়বে, সে এক লক্ষ হজ্বের সাওয়াব পেল এবং সে যেন আল্লাহর রাস্তায় দুই লক্ষ গােলাম আজাদ করল।
(১১)
যে ব্যক্তি এই দুরূদে মুকাদ্দাস' পড়বেন, তিনি হযরত আবু বকর সিদ্দীক (رضي الله عنه), হযরত ওমর (رضي الله عنه), হযরত ওসমান গণী (رضي الله عنه), হযরত আলী (رضي الله عنه), হযরত ইমাম হাসান ও হযরত ইমাম হােসাইন (رضي الله عنه), হযরত ফাতেমা (رضي الله عنها), হযরত হামজা (رضي الله عنه), হযরত আব্বাস (رضي الله عنه) এবং সমস্ত শােহাদায়ে কেরামের মত সওয়াব পাবেন।
(১২)
যে ব্যক্তি এই ‘দুরূদে মুক্বাদ্দাস’ তেলাওয়াত করবেন, তিনি যেন আল্লাহর রাস্তায় দশ লক্ষ উট কোরবাণী করলেন ও দশ লক্ষ দিনার আল্লাহর রাস্তায় দান করলেন।
(১৩)
যে ব্যক্তি এই দুরূদে মুকাদ্দাস’ পড়বেন, তিনি দশ লক্ষ রােজার সওয়াব পাবেন, দশ লক্ষ লওহ এবং দশ লক্ষ কলমের মরতবা পাবেন।
(১৪)
যে ব্যক্তি এই দুরূদে মুক্বাদ্দাস' পড়বেন, তিনি হযরত জিব্রাইল (عليه السلام), হযরত মিকাঈল (عليه السلام), হযরত ইসরাফীল (عليه السلام) ও হযরত আজরাঈল (عليه السلام)-এর ন্যায় সওয়াব পাবেন।
(১৫)
যে ব্যক্তি এই দুরূদে মুকাদ্দাস' পড়বেন, তিনি আরশ-কুরছি, লওহ-কলম, সাত আসমান-জমিন, আট বেহেশত এবং আউয়াল আখের সমস্ত ফেরেশতার সমপরিমাণ সওয়াব পাবেন।
(১৬)
যে ব্যক্তি এই দুরূদে মুকাদ্দাস’ পড়বেন, তিনি ৩০ পারা কোরআন শরীফ, জবুর, ইঞ্জিল, তাওরাত, তেলাওয়াতের সমপরিমাণ সওয়াব পাবেন।
(১৭)
যে ব্যক্তি এই দুরূদে মুকাদ্দাস’ পড়বেন, তিনি সমস্ত সাহাবা এবং প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল রূহ্ জগতের সমপরিমাণ সওয়াব। এ পাবেন।
(১৮)
এই দুরূদে মুকাদ্দাস’ তেলাওয়াতকারীকে ফেরেশতাগণ তাঁর আমল নামা তার ডান হাতে দেবেন। তাঁর নেকীর পাল্লা ভারী হবে এবং তিনি অতি সহজে পুলসিরাত অতিক্রম করবেন। তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সুপারিশপ্রাপ্ত হবেন। কেয়ামতের দিন যখন কোথাও কোন ছায়া পাওয়া যাবেনা, সেদিন তাঁকে আল্লাহর আরশের নীচে বসানাে হবে।
(১৯)
যে ব্যক্তি এই ‘দুরূদে মুক্বাদ্দাস’ তেলাওয়াত করবেন, তিনি কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করার সওয়াব পাবেন।
(২০)
যে ব্যক্তি এই দুরূদে মুকাদ্দাস’ পড়বেন, আল্লাহ্ তা'আলা কেয়ামতের দিন বিনা হিসাবে তাঁকে বেহেশত দান করবেন। ফেরেশতারা বলবেন, হে আল্লাহ! ইনি কে? যাকে আপনি বিনা হিসাবে জান্নাত দান করলেন? আল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তর আসবে, হে ফেরেশতারা! এই ব্যক্তি দুনিয়ায় দুরূদে মুকাদ্দাস' পড়তাে। এর উসীলায় তাঁর গুনাহ্ মাফ করে দেয়া হল। তাঁর সকল ফরিয়াদ কবুল করে নেয়া হল এবং রাসূলে পাক (ﷺ)-এর সুপারিশ দ্বারা জান্নাতে প্রবেশ করানাে হল।
(২১)
হযরত ইমাম মালেক (رضي الله عنه) হতে বর্ণিত, রাসূলে খােদা (ﷺ) ফরমায়েছেন, যে ব্যক্তি দুরূদে মুকাদ্দাস’ তেলাওয়াত করে হাতে ফুক দিয়ে শরীরে মালিশ করবে, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে সমস্ত বালা মুসীবত এবং সকল রােগ হলে হেফাজত করবেন। যদি সে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং এমতাবস্থায়। প্রতিদিন যদি এটা পড়তে থাকে, তাহলে ইনশাআল্লাহ তার জীবনে উন্নতি হবে। এটাও পরীক্ষিত।
(২২)
হযরত আবু বকর সিদ্দীক (رضي الله عنه) বলেছেন, যদি সমুদ্রের সমস্ত পানিকে কালি করা হয়, সাত আসমান-জমিন, আরশ ও কুরছিকে কাগজ করা হয়, পৃথিবীর পূর্ব হতে পশ্চিম পর্যন্ত সমস্ত বৃক্ষরাজিকে কলম করা হয় এবং মানব জাতি, জ্বিন জাতি, চতুষ্পদ জন্তু, স্থল প্রাণী, আঠার হাজার মখলুকাত, সকল ফিরিশতা, আরশ, কুরছি, লওহ এবং কলম-এর লেখকগণ একত্রিত হয়ে লিখতে চায়, তথাপি এই দুরূদে মুকাদ্দাস’ এর ফযীলত ও সওয়াব লিখে শেষ করতে পারবেনা।
(২৩)
এই দুরূদে মুকাদ্দাস’র ফযীলত অনেক-অনেক। এখানে সামান্য মাত্র উল্লেখ করা হলাে। এই দুরূদে মুকাদ্দাস' সম্পর্কে যদি কেউ সন্দেহ পােষণ করে, তাহলে সে পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। আল্লাহ্ তা'আলা সমস্ত মুসলমান এবং আশেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গণকে প্রতিদিন দুরূদে মুকাদ্দাস’ তেলাওয়াত করার তৌফিক দান করুন। আমীন!
____________
কিতাব : দরূদে মুকাদ্দাস
সংকলকঃ হযরত মাওলানা সৈয়দ জিয়াউদ্দিন আহমদ গীলানী (ভারত)
অনুবাদঃ মাওলানা আব্দুল মান্নান
🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন