রুজির মাধ্যম


মসজিদুল হারাম শরীফে (মক্কায়ে মুকাররামা) এক আবিদ (অর্থাৎ-ইবাদতকারী) সারারাত ইবাদাতে ব্যস্ত থাকতেন, দিনে রোযা রাখতেন। প্রতিদিন সন্ধ্যায় এক ব্যক্তি তাঁকে দুইটি রুটি দিয়ে যেতেন, তা দিয়ে তিনি ইফতার করে নিতেন। এরপর দ্বিতীয় দিনের জন্য ইবদাতে মগ্ন হতেন। একদিন তাঁর মনে এ খেয়াল আসল যে, এটা কেমন তাওয়াক্কুল যে, আমিতো একজন মানুষের দেয়া রুটির উপর ভরসা করে বসে আছি! অথচ সৃষ্টিজগতের রিযক দাতা আল্লাহ্ তাআলার উপর ভরসা করিনি। রুটি আনয়নকারী যখন সন্ধ্যায় আসল তখন আবিদ সেগুলো ফিরিয়ে দিলেন। এভাবে তিনদিন কাটিয়ে দিল। যখন ক্ষুধা বৃদ্ধি পেল তখন আল্লাহ্ তাআলার নিকট ফরিয়াদ জানালেন, রাতে স্বপ্নে দেখলেন যে, তিনি আল্লাহ্ তাআলার দরবারে হাযির আর আল্লাহ্ তাআলা বলছেন, আমি আমার বান্দার মাধ্যমে যা কিছু পাঠাতাম, তুমি তা কেন ফিরিয়ে দিলে? আবিদ আরয করল, “মাওলা! আমার মনে এ ধারণা হল যে, তুমি ছাড়া অন্য কারো উপর ভরসা করে বসে আছি। আল্লাহ্ তাআলা ইরশাদ করেন: “ঐ রুটি কে পাঠাত?” আবিদ জবাব দিলেন, হে আল্লাহ্ তুমিই তা প্রেরণকারী। নির্দেশ হল! “এখন থেকে আমি পাঠালে ফিরিয়ে দেবে না।” ঐ স্বপ্নের মাঝে এটাও দেখলেন যে, রুটি আনয়নকারী ঐ ব্যক্তি রব্বুল আলামীন এর দরবারে হাযির আছেন। আল্লাহ্ তাআলা তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি এ আবিদকে রুটি দেয়া কেন বন্ধ করে দিলে?” তিনি আরয করলেন: “হে মালিক ও মাওলা! সেটা তুমি খুব ভালভাবে জান।” এরপর জিজ্ঞাসা করলেন: “হে বান্দা! ঐ রুটি তুমি কাকে দিতে?” আরয করলেন: “আমিতো তোমাকে (অর্থাৎ-তোমারই পথে দিতাম)। ইরশাদ হল, “তুমি তোমার আমল জারী রাখো, আমার পক্ষ থেকে তোমার জন্য এটার বিনিময় জান্নাত রয়েছে।” (রাওযুর রিয়াহীন, ৬৭ পৃষ্ঠা)



না চাওয়ার পরও পেলে, তবে.....প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! আল্লাহ্ ওয়ালাদের ধরনও খুবই চমৎকার হয়ে থাকে! আল্লাহ্ তাআলা ইবাদতকারী বান্দাদের প্রতি খুবই অনুগ্রহ প্রদর্শন করেন ও তাঁদের জন্য অদৃশ্য থেকে প্রদান করেন। যখন অন্যের সম্পদের প্রতি লোভ ও আকাঙ্খা না থাকে, দাতা উপকার করে খোঁটা না দেয়, যার কাছ থেকে নেয়া হয়েছে যদি তার মনে তুষ্ট করার আকাংখা থাকে, যে দিলো তার মনে যদি গ্রহণকারীর সম্মান হ্রাস পাওয়ার আশংকা না থাকে, নেয়া অবস্থায় দাতা অথবা প্রত্যক্ষদর্শীর দৃষ্টিতে যদি কোন ধরনের অবমাননার ধারণা না থাকে, মোটকথা যদি কোন ধরনের শারয়ী নিষেধাজ্ঞা না থাকে তবে না চাওয়ার পরও যা পাওয়া যায় তা গ্রহণ করা উচিত। যেমন হযরত সায়্যিদুনা খালিদ বিন আদী জুহান্নী(رضي الله عنه) থেকে বর্ণিত, আমি ছরকারে নামদার, মদীনার তাজেদার, রহমতের ভান্ডার, রাসুলদের সরদার (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে তার ভাইয়ের মাধ্যমে কোন বস্তু চাওয়া ব্যতীত ও লোভ করা ব্যতীত পায়, তবে তা গ্রহণ করা উচিত ও ফিরিয়ে দেয়া অনুচিত। কারণ তাতো রিযিক, যা তাকে আল্লাহ্ (অন্যের মাধ্যমে) প্রেরণ করেছেন। (মুসনাদে ইমাম আহমদ, ৬ষ্ঠ খন্ড, ২৭৬ পৃষ্ঠা, হাদীস নং-১৭৯৫৮)



জানা গেল, চাওয়া ব্যতীত পাওয়া বস্তু নেয়াতে কোন অসুবিধা নেই। যদি ঐ বস্তুর প্রতি তার লোভ ও আকাঙ্খা না থাকে। তবে যদি গ্রহীতা ধনী হয় ও দাতার মন খুশী করার নিয়্যাতে নিলেন কিন্তু নেয়ার পর যদি সে বস্তুর প্রয়োজনীয়তা তার না থাকে তবে অন্য কাউকে উপহার স্বরূপ দিয়ে দিতে অথবা দান করে দিতে পারেন। যেমন- হযরত সায়্যিদুনা আইদ বিন আমর (رضي الله عنه)  বর্ণিত, তাজেদারে রিসালাত, শাহানশাহে নবূয়ত, মাহবুবে রব্বুল ইয্যত(ﷺ) ইরশাদ করেছেন: “যে রিযিক থেকে চাওয়া ব্যতীত বা লোভ করা ব্যতীত কিছু অংশ পায়, তবে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে তা গ্রহণ করা উচিত আর যদি (সে) ধনী হয় তবে (গ্রহণ করে) যেন নিজের চেয়ে অধিক অভাবী ব্যক্তিকে দিয়ে দেয়া উচিত।” (মুসনাদে ইমাম আহমদ, ৭ম খন্ড, ৩৬২ পৃষ্ঠা, হাদীস নং-২৬৭৩)



উপহার নাকি ঘুষ প্রিয় ইসলামী ভাইয়েরা! এতে কোন সন্দেহ নেই, উপহার গ্রহণ করা সুন্নাত। কিন্তু মনে রাখবেন যে, উপহার আদান-প্রদানের অনেক অবস্থা রয়েছে। প্রত্যেক প্রকারের উপহার গ্রহণ করা সুন্নাত নয়। হযরত সায়্যিদুনা ইমাম বুখারী(رحمة الله) নিজ গ্রন্থ “সহীহ বুখারী” শরীফে বিশেষ ভাবে একটি অধ্যায় রচনা করেছেন, যার নাম হচ্ছে: باب من لّم يقبل الھديّت لعلّت  অর্থাৎ- ঐ ব্যক্তির সম্পর্কে অধ্যায়, যে কোন কারণে উপহার গ্রহণ করেনি। এ অধ্যায়ে সায়্যিদুনা ইমাম বুখারী (رحمة الله) তা’লীক (অর্থাৎ-সনদের শুরু থেকে বর্ণনকারীকে বাদ দিয়ে হাদীস বর্ণনা করা) করেছেন, হযরত সায়্যিদুনা ওমর বিন আবদুল আযীয (رضي الله عنه)বলেছেন, তাজেদারে রিসালত, শাহানশাহে নবুয়ত, মুস্তফা জানে রহমত (ﷺ) এর পার্থিব পবিত্র জীবনে উপহারতো উপহারই ছিল কিন্তু আজকাল হল ঘুষ।” (সহীহ বুখারী, ২য় খন্ড, ১৭৪ পৃষ্ঠা)।

_______________

কিতাব : ফয়যানে সুন্নাত

লেখক : আমীরে আহলে সুন্নাত মাওলানা মুহাম্মদ বিলাল মুহাম্মদ ইলইয়াস আত্তার কাদেরী রযবীয়া (দা.)

সূত্রঃ 🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।

https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন