❏ দরসে হাদীসঃ [হাদীস নং- (৬৯৫)]
○ অধ্যায়ঃ [মসজিদগুলো ও নামাযের স্থানসমূহ]
[ﻭﻋﻦ ﻋﻄﺎﺀ ﺑﻦ ﻳﺴﺎﺭ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﷺ ﺍﻟﻠﻬﻢ ﻻ ﺗﺠﻌﻞ ﻗﺒﺮﻯ ﻭﺛﻨﺎ ﻳﻌﺒﺪ ﺍﺷﺘﺪ ﻏﻀﺐ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻰ ﻗﻮﻡ ﺍﺗﺨﺬﻭﺍ ﻗﺒﻮﺭ ﺍﻧﺒﻴﺂﺀ ﻫﻢ ﻣﺴﺎﺟﺪ . ] ( ﺭﻭﺍﻩ ﻣﺎﻟﻚ ﻣﺮﺳﻼ )
হযরত আত্বা ইবনে ইয়াসার (টীকাঃ ১) [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [ﷺ] এরশাদ ফরমানঃ "হে আল্লাহ্! আমার কবরকে বোত্ বানিয়ো না, যাকে পূজা করা হয়। (টীকাঃ ২) ওই সম্প্রদায়ের উপর আল্লাহ্'র কঠোর ক্রোধ আপতিত হয়েছে, যারা তাদের নবীগণের কবরকে সাজদার জায়গায় পরিণত করেছে।" (টীকাঃ ২)
[ইমাম মালিক এটা 'মুরসাল' সূত্রে বর্ণনা করেছেন]
□ উক্ত হাদীস শরীফের ব্যাখায় বলা হয়েছেঃ
◇ টীকাঃ ১.
তিনি প্রসিদ্ধ তাবে'ঈ, হযরত উম্মুল মু'মিনীন মায়মুনা [ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﯽٰ ﻋﻨﻬﺎ]'র আযাকৃত ক্রীতদাস। ৮৪ বছর জীবদ্দশায় ছিলেন। ৯৪ হিজরীতে ওফাত পান।
◇ টীকাঃ ২.
সুবহা-নাল্লাহ্! হুযূরের এ দো'আ এমনিভাবে ক্ববূল হয়েছে যে, প্রতি বছর লাখো মূর্খ ও জ্ঞানী লোক যিয়ারতের জন্য যায়, কিন্তু না কেউ ক্ববর-ই আনওয়ারকে সাজদা করে, না কেউ সেটার দিকে নামায পড়ে, এটা এ-ই দো'আর প্রভাব।
স্মর্তব্য যে, ইহুদী ও খৃষ্টানরা হযরত ওযায়র ও হযরত ঈসা [ﻋﻠﻴﻪ ﺍﻟﺴﻼﻡ]-এর দু'একটি মু'জিজা শুনে তাঁদেরকে খোদা কিংবা খোদার পুত্র বলে বসেছে এবং তাঁদের উপাসনা করতে আরম্ভ করেছে। কিন্তু মুসলমান হাজার হাজার মু'জিজা শুনে বরং স্বচক্ষে দেখেও হুযূরকে না খোদা বলেন, না খোদার পুত্র। মুর্খ মুসলমানদেরও এই আক্বীদা বা বিশ্বাস যে, ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﺭﺳﻮﻟﻪ (তিনি আল্লাহ্'র খাস বান্দা ও তাঁর রাসূল)। এটা হুযূরের ওই দো'আরই বরকত।
মজার বিষয় যে, কেউ কেউ এ হাদীসের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এ কথা বলে বেড়ায় যে, কবরগুলোর প্রতি সম্মান দেখানো, বছর বছর সেখানে যাওয়া, সমবেত হয়ে সেগুলোর যিয়ারত করা, সেখানে আলোকসজ্জা করা সবই শির্ক। কেননা, তা নাকি ক্ববরপূজা ও ক্ববরকে বোত বানানো। কিন্তু এটা একেবারে ভুল কথা। কেননা, এসব দীর্ঘ ১৩০০ বছরাধিক কাল থেকে হুযূর [ﷺ] -এর রওযা-ই আন্ওয়ারেও হয়ে আসছে। সেখানে প্রতি বছর যিয়ারতকারীদের ভিড় জমে যায়। হাত বেঁধে মাথা ঝুঁকিয়ে সালাম পড়া হয়। রাতের বেলায় ঈমান তাজাকারী আলো জ্বলে। সমস্ত বিজ্ঞ আলিম, নেককার বুযুর্গ লোকই এসব কাজ করেন। ফক্বীহ্'গণ বলেন, রওযা-ই আন্ওয়ারে সালাম পাঠ করার জন্য এভাবে হাত বেঁধে দাঁড়াবে, যেভাবে নামাযে দন্ডায়মান হয়। যদি এগুলোর মধ্যে কোন কাজ শির্ক হতো, তবে হুযূরের রওযা-ই আক্বদাসের নিকট তা কখনো সম্পন্ন হতো না। কেননা, হুযূরের দো'আ ক্ববূল হয়েছে।
পক্ষান্তরে, ওইসব মুর্খের কথিত ব্যাখ্যায় একথা অনিবার্য হয়ে যাবে যে, হুযূরের দো'আ মহান রব একেবারে না-মঞ্জুর করে দিয়েছেন। সুতরাং আলোচ্য হাদীস শরীফ ওরস জায়েয হওয়া সম্পর্কে আহলে সুন্নাতের পক্ষে মজবুত দলীলই। বস্তুতঃ হাদীস শরীফ বুঝার জন্য প্রয়োজন জ্ঞান, বিবেক ও ইশক্ব-মুহাব্বত।
◇ টীকাঃ ৩.
এভাবে যে, তারা ওইসব কবরের উপাসনা করতে থাকে, কিংবা সেগুলোর প্রতি নামায পড়তে আরম্ভ করে। প্রথমোক্ত কাজটি শির্ক, আর শেষোক্তটা হারাম।
স্মর্তব্য যে, যদি ঘটনাচক্রে মসজিদের ভিতর কবর থেকে যায়, তাহলে নামাযী ও কবরের মধ্যভাগে পূর্ণাঙ্গ অন্তরাল থাকা চাই; যেমন- মসজিদ-ই নববী শরীফে রওযা-ই আত্বহার রয়েছে; যার চতুর্পাশে নামায সম্পন্ন করা হয়। অথচ রওযা-ই আন্ওয়ার-এর চতুর্পাশে দেওয়ালের অন্তরাল রয়েছে। এর পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ ইতোপূর্বে করা হয়েছে।
□ হাদীস শরীফের ব্যাখ্যা সম্বলিত টীকা পেতে সার্চ করুনঃ
f/Ishq-E-Mustafa ﷺ
[সূত্রঃ মিরআতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাসাবীহ, কৃত- মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী আশরাফী বদায়ূনী, বঙ্গানুবাদঃ মাওলানা আব্দুল মান্নান, ১ম খন্ড, পৃ. ৫৩১,৫৩২ হাদীস নং-৬৯৫ এর টীকাঃ (১৬৪-১৬৬) দ্রব্যষ্ট, প্রকাশনায়ঃ ইমাম আহমদ রেযা রিসার্চ একাডেমী, চট্টগ্রাম।]
🌍 ইসলামী বিশ্বকোষ এপ্স।
https://play.google.com/store/apps/details?id=com.islamboi.rizwan]
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন